আমার প্রিয় পোস্ট

কবি, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ও তার সামাজিক দায়িত্ব

০৫ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:২০

শেয়ারঃ
0 0 0

বিষয়টি নানা দিক দিয়ে আমাদের কাছে অনেক বেশী গুরুত্ববহ। প্রথমত আমরা এর গুরুত্বটা অনুভব করার চেষ্টা করি। দিত্বীয়ত, সারা দুনিয়ার লেখকদের সম্পর্কে যেন সাধারণ ধারণা সৃষ্টি হয়ে গেছে যে, লেখকের কলম বিশেষ কোন দায়িত্ববোধের শেখলে বাঁধা নেই। লেখক সবার জন্য লিখে যাবেন। সবকিছুর জন্য লিখে যাবেন। তাঁর চোখে সাধু-অসাধু, ভাল-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় কোন ফারাক থাকবে না। লেখক ভাংবেন আবার গড়বেনও। লেখক সবকিছু করবেন কিন্তু বিশেষ কোন নিয়মের অধীনে নয়। তিনি নিজেই একটা নিয়ম। কিন্তু দুনিয়ার কোন কোন অংশে লেখকের উপর সামান্য দায়িত্বও বর্তানো হয়। মাঝে মাঝে এ দায়িত্ববোধটা এত বেশী স্বার্থান্ধ ও একদেশদর্শী যে মানবতার অন্য অংশকে তা ভীষণভাবে পীড়িত করে। গোষ্ঠিগত দায়িত্ব, জাতীয় দায়িত্ব দেশীয় দায়িত্ব এভাবে বিভিন্ন সংকীর্ণ দায়িত্ব অনুভূতি লেখককে বৃহত্তর মানবতার জন্য ক্ষতিকর শক্তিতে পরিণত করে।
মানুষের বিগত দশ হাজার বছরের জীবন চর্চা। এই দর্শ হাজার বছরের বিশ্বের বিভন্ন এলাকায় ও দেশে কয়েক ডজন সভ্যতার উত্থান ও পতন, বড় বড় সভ্যতার ইতিহাস সৃষ্টি এবং সর্বশেষে আধুনিক সভ্যতায় লেখকের অবস্থান, লেখককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন মর্যাদায় অভিসিক্ত করেছে।
এসব কিছুর পর আমরা বলতে চাই, বিশ্বমানবতার কল্যাণই যেখানে আমাদের লক্ষ এবং এই কল্যাণ যেহেতু সংকীর্ণ গোষ্ঠীগত, জাতীয় ও দেশীয় স্বার্থদুষ্ঠও নয়, তাই এই দৃষ্টিতে বিষয়বস্তুটির গুরুত্ব আমাদের অনেক বেশী করে উপলব্ধি করতে হবে।

লেখকের সত্ব।
লেখক কোন বিচ্ছিন্ন জনবিরল দ্বীপের বাসিন্দা নয়। তিনি জনাকীর্ণ মনুষ্যসমাজে বাস করেন। তাঁর অনুভূতি আর দশটা মানুষের মতই। তাঁর জীবেনর মৌলিক চাহিদাগুলোও কোন বিশেষত্বের অধিকারী নয়।
লেখক চাইলেও নিজেকে সমাজ থেকে আলাদা করতে পারেন না। কারণ মানুষ ও মানুষের সমাজ নিয়েই তার কারবার। তিনি কোন ব্রহ্মচারী, সমাজ জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন সংসার বিরাগী নন। জংগলে বসবাস করা তার ধর্ম নয়। তিনি মানুষের সমাজে, মানুষের মধ্যে বসবাস করেন। সুফী-দরবেশদের ন্যায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক জীবনযাপন করেন না। সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের সাথে তাকে মিশতে হয় এবং সবার হাসিকান্না-সুখ-দুঃখের খবর তাকে রাখতে হয়। তিনি একজন সচেতন মানুষ। বরং তিনি মানুষের সমাজের সবচেয়ে স্পর্শকাতর অংশ। একজন কবি, একজন কথাশিল্পী, একজন প্রাবন্ধিক এবং একজন নাট্যকার মানুষের সমাজের একটি চোখ, যে চোখের দৃষ্টি শুধু অন্তরভেদী নয় অনেক ক্ষেত্র অন্তরগ্রাসীও। কবি শুধু কল্পনারাজ্যে বিরাজ করেন না, হৃদয়রাজ্যও তার অধিষ্ঠান। অপ্রতিহত যুক্তিকে তিনি স্বীকার করেন, গ্রহণ করেন, তবে তার ব্যবহার করেন হৃদয় দিয়ে। তবুও তিনি একজন সংসার বিরাগী সন্যাসী ও আত্মকেন্দ্রীক সুফি নন। তিনি একজন সৎ, কল্যাণকামী, হৃদয়বান মানুষ। নিজেকে যেমন তিনি চেচেন, তেমনি অন্যকেও। নিজের জন্য যেমন তিনি চিন্তিত, তেমনি চিন্তিত অন্যের জন্যও। একজন কথা শিল্পী মানুষের মধ্য দিয়ে সমাজের মধ্য দিয়ে নিজেকে অনুভব করেন। সমাজটা তার কাছে উন্মুক্ত আকাশের মত। মানুষেরা তার মধ্য গ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথ আবার ধুমকেতু। এই বিশাল আকাশ ও বিপুল সংখ্যক জ্যোতিস্কমন্ডলীর মধ্য অবস্থানকারী তিনি একভেগা নক্ষত্র। সকলের গতিপথের সাথে তিনি পরিচিত। সকলের গতিধর্ম তার বিচিত্র অভিজ্ঞতার অংশ। সমাজ চলে, তার সাথে তিনিও চলেন। কথা শিল্পী একজন চিত্রকর। তার বিশাল ক্যম্ভাসে ফুটে উঠে মানুষের ও তার সমাজের বিচিত্র ছবি। কবি বাস করেন ব্যক্তির মনের রাজ্যে আর নাট্যকার বাস করেন সমাজের মনের রাজ্য। কবি ও কথাশিল্পী যে কথা মুখ ফুটে বলতে পারের না নাট্যকার তা চিত্রের মতো একে দেন হৃদয়পটে। মানুষের ও তার সমাজের একেবারে অন্তরের কথা, আবেগ, অনুভূতি এবং তাদের আসল রূপকে শিল্পায়িত করেন। নাট্যকার অভিনব কায়দায় অনুভূতি এবং তাদের আসল রূপকে শিল্পায়িত করেন। সমাজকে বাদ দিয়ে নাটকের কোন অস্তিত্ব নেই। আর মননশীল প্রবন্ধকার সব শিল্পের রাজা। মননশীল প্রবন্ধকার ওস্তাদশিল্পী। তার হাতে একদিকে থাকে যুক্তি এবং অন্যদিকে থাকে আবেগ। একদিকে দেহ, অন্যদিকে হৃদয়। তিনি তুলি দিয়ে ছবি আঁকেন ছবির মতো করে আবার পরিবর্তন করেন নিজের মত করে। তিনি যা বলতে চান, বলেন।যা বুঝাতে চান তা বুঝান। দিনকে সত্যিকার দিনে এবং রাতকে প্রকৃত রাতে পরিণত করেন। আলোকে আলো এবং আঁধারকে আধার করেন। তিনি কোন ম্যাজেসিয়ান বা যাদুকর নন। কালোকে সাদাতে এবং সাদাকে কালো করা তার কাজ নয়। একজন অংকবিদের মতো অংকের হিসাবে তিনি নিজের বক্তব্য মিলিয়ে চলেন। মানুষকে মানুষের জায়গায় রাখেন। এবং সমাজের সাথে তার বক্তব্য সঠিকভাবে কায়েম করেন। মানুষকে অতিমানবে পরিণত করেন না এবং সামজকে সর্বগ্রাসী ডিকটেটরের আসনেও বসান না। মোট কথা প্রবন্ধকার ব্যক্তিমানুষ এবং তার সমাজ- সংস্কৃতিতে শক্তি ও সম্পর্কের সমতা গড়ে তোলেন। কবি, কথাশিল্পী ও নাট্যকার দেশ ও সমাজকে গড়ে তোলার জন্য যে গান গাইতে চান মননশীল প্রবন্ধকার সে গান রচনা করেন এবং তাতে সুর সংযোজন ও করেন।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): লেখকের সামাজিক দায়িত্ব ;
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:২৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৫ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:৪৫
আবদুল্লাহ আল মনসুর বলেছেন: কবি, কথাশিল্পী ও নাট্যকার দেশ ও সমাজকে গড়ে তোলার জন্য যে গান গাইতে চান মননশীল প্রবন্ধকার সে গান রচনা করেন এবং তাতে সুর সংযোজন ও করেন।
০৫ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:৫৫

লেখক বলেছেন: মনুসুর ভাই। আপনাকে নিয়ে আমার ভেতর একটা ভুল ধারনা ছিল তা আজ ভেংগে গেল।

পড়েছেন দেখে ভাল লাগল

অনেক ধন্যবাদ।

০৬ ই আগস্ট, ২০১০ সকাল ১০:৪৬

লেখক বলেছেন: ওক্কে ঠিকাছে।
পিক প্রাফাইলে এটা কোনা শতাব্দির শিশু???
ধন্যবাদ।

৩. ১৫ ই আগস্ট, ২০১০ ভোর ৪:৩৩
হামাহুদ রোমেল বলেছেন: ভালো লেগেছে পোস্টটি।
সত্যিকার রাইটার দেখতে চাই। এই পোস্টে যেমন উল্লেখ আছে তেমন।


জামিনদার ভালো থাকুন। :)
১৮ ই আগস্ট, ২০১০ সকাল ১১:৩২

লেখক বলেছেন: আমিও দেখতে চাই

অনেক ধন্যবাদ।

১৮ ই আগস্ট, ২০১০ সকাল ১১:৩৩

লেখক বলেছেন: এভাবে পড়লেতো মুখথেকে আহ হা! ছাড়া কিছুই বের হবে না।

ধন্যবাদ।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯২৮৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
জীবনটা দাঁড়িয়ে আছে
অনাস্থার দর্শনের উপর।
তাই একলা হাটি।
ভয় পাই মানুষকে।
কোন একদিন বিশ্বাস ফিরে এলে
আবার মানুষের সাথে...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই