নেটে পরিচয়, বংশোউদ্ভুত নাইজেরিয়ান, অবশ্যই একটি মেয়ে। নাইজেরিয়ান শুনেই কাল রংটা চোখের পর্দা ছেয়ে গিয়েছে নিশ্চয়, ভূল করেননি তবে কাল রংএর ভিতরেও যে সোন্দর্য থাকে সেরকমই ছিল মেয়েটার ভিতর। ছবিতে দেখেছি এমনকি ক্যামেও মাঝে মাঝে দেখেছি। শুধু সৌন্দর্যই তাকে টানতনা, এত দূরে থেকেও প্রতিদিন ম্যাসেঞ্জারে কিছুক্ষন, একদিন না পেলে মেইলে খবর নেয়া, সখ্যতা এমন ৬মিনিট থেকে সপ্তাহের ৬দিন পেরিয়ে কখন যে ৬মাস ছুয়ে ফেলেছি টেরও পাইনি, বর্ষপূর্তি হবার আগেই অর্ধ-বর্ষপূর্তির উইশ ম্যাসেজ পাঠিয়ে দিল। মানে ঘটা করেই মনে করিয়ে দেয়া তোমার – আমার ৬ মাস পূর্ণ হল।
ভাল লাগাটা শুধু গল্প করে নয়, বিভিন্ন সময় তার গঠনমূলক আলোচনা, দেশ নিয়ে কথা, সমসাময়িক চিন্তা সবকিছুই তাকে টানত। পরিচয়ের একসময়ে মোবাইল নম্বর দেয়া নেয়ার পর্ব। যদিও আমি মোবাইল ব্যবহার করিনা, বাসায় থাকা মা-এর নম্বরটি দেয়া। বাড়িতে মা’ কে জানিয়ে দিয়েছি নাইজেরিয়ান এক মেয়ে কল করবে।
মোবাইল নম্বর দেয়ার পর থেকেই প্রতি রাতে কল আসতে থাকল, স্থায়ীত্ব ১৫-২০মিনিটের কম হতনা, আর বিভিন্ন টাইপের ম্যাসেজ তো আছেই।
মা এখন এক প্রকার বিরক্তই বটে, অফিস শেষে পড়ার সময় নষ্ট করে ভিনদেশী এক মেয়ের সাথে কথা, তাও আবার কাল ! ছবি দেখাতেই মা তো কাল বলে ডিসকানেক্ট ডিসকানেক্ট বলে চেচাতে লাগলেন।
ডিসকানেক্ট করেছি, তবে মা-এর সামনে, তাকেও বলে দিয়েছি ফোন কর খুব সাবধানে।
তবে বেশীরভাগ ফোনই মা আগে রিসিভ করে তারপর আমি
“নে তোর নাইজেরিয়ান, কি যে পেয়েছিস” সে কি বলার ভঙ্গিমা আমার মা-এর।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৫:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



