somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যেখানে খুঁজে পাওয়া যাবে এ মানুষটিকে

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভার্চূয়াল লাইফের মানুষগুলির সাথে যে পরিচয় সূত্রে আবদ্ধ ছিলাম- তাতে তাদের উচ্ছাসবোধটা বিশেষত আমাকে নিয়ে বেশ উপভোগ করতাম। কথা হত, ওয়েব ক্যাম, ম্যাসেঞ্জার, এসএমএস - সীমাবদ্ধতা এসবের মধ্যেই ছিল। গন্ডিটা পেরুবার ইচ্ছে থাকলেও হবে আবার হবেনা এ দোদুল্যতায় আর কখনো তা হয়ে উঠতনা। ইচ্ছে যে একেবারই হতনা তাও নয়, ওপাশের মানুষগুলি দেখতে কেমন, লম্বা না খাটো, মোটা না সরু, মজার না গম্ভীর তবুও অজানার মাঝেই উপভোগটা বেশী করতাম বলেই ইচ্ছেগুলো কখনো ওভাবে সাড়া দেয়নি - এ তো গেল নিজের কথা!

কিন্তু যাদের সাথে বিভিন্ন সময় আবেগ, ভাব, আনন্দ, দু:খ শেয়ার করছি তারা ঠিকই খুজত, দেখত চাইত সামনাসামনি এ মানুষটাকে। খুব আহামড়ি ধরনের মানুষ আমি নই তবুও চাইত কোন এক টানে। এতটাই উতসাহী হল নিজেকে আর আড়ালে রাখতে পারলামনা তাই বলে সরাসরিও নিজেকে সামনে আনলাম না। একটা অস্পষ্ট ধোয়ার মাঝে আমি আমাকে দুর হতে দেখে নিতে হবে, কাছে এলেই আমি অদৃশ্য।

শুক্রবার, আমার অফিস ডে, অন্য যেকোন দিনের তুলনায় বেশ হালকা। যদিও সকালে আসি তারপরেও রাত ১০টা বেজে যায় বেরুতে। ১০টায় কার্ডটা পাঞ্চ করে বের হয়ে পান্থপথের পথ হয়ে সোজা কারওয়ান বাজার মোড়ে। একটা বাদামের মোবাইল ভ্যান আছে। ৫০গ্রাম বাদাম অর্ডার হয়। হাতে বাদামের প্যাকেটটা। ঠিক যেখানে নজরুলের ফলকটি আছে ওখানেই কর্ণারে হেলান দিয়ে বসে থাকবে একজন যে বাদাগুলো খেতে থাকবে। আলো আধারের মাঝে যে মানুষটাকে দেখা যাবে সেই এই মানুষটি, ঠিক ততক্ষনই থাকবে যতক্ষন না বাদামগুলো শেষ হয়, তারপর গন্তব্যের বাসে উদ্দেশ্যে যাত্রা। - এভাবেই তাকে লিখে পাঠালাম আমাকে পাওয়ার ঠিকানা।

ঠিকই এক শুক্রবার আমার সামনে একজন দাড়িয়ে, জিজ্ঞেস করছে আমি সেই কিনা। বেশ আশ্চর্য না চেনার ভঙ্গিতে তাকিয়ে থাকলাম, নিজ থেকেই পরিচয় দিয়ে এখানে আসার বিস্তারিত বলল। আমি কিছুতেই চিনতে পারলাম না, কে আমি, কাকে খুজছে, কেন, বিভিন্ন প্রশ্নে দিধ্বান্বিত সে? কিছু বলার আগেই কিছু ভেবে চলে গেল।

রাতে কথা হল, কন্ঠ ঠিকই চিনতে পেরেছে মনে হয়, তবুও নিজেকে আড়ালে রাখলাম, আমিই সেই নই বলে পাশ কাটাতে গেলেও কোথায় যেন বারবার হোচট খেলাম।

তারপর অনেক সময় পেরিয়েছে, সবকিছুই আগের মতই আছে আমার এখনও সেখানে বসা হয়, বাদাম চেবানো হয়, কিন্তু একটি অপূর্ণতা এখনও কাজ করে সেদিন যাকে হারিয়েছে আর কোথাও তাকে পাইনি।

আজ শুক্রবার, কিছুক্ষন পর সেখানে বসা হবে এদিক ওদিক তাকিয়ে খোজা হবে কিন্ত পাওয়া হবেনা, উত্তর জানা, তারপরেও খুজি কোনদিন যদি তার দেখা পেয়ে যাই ! এই আশায়।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:১১
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×