ছবিতে যাকে চোখের জল মুছতে দেখছেন, সাধারণ পরিচয়ে সে একজন মানুষ, কোন একটি পরিবারের সদস্য, একজন বাবা-মায়ের সন্তান কিংবা সেও কোন সন্তানের পিতা কিন্তু যে পরিচয়টা তার কাছে মূখ্য আমাদের কাছে পরিচিত সে দেশের একটি সংস্থার কর্মী, সোলজার যার পরিচিতি, সৈনিক তার পদবী।
প্রসঙ্গটি পরিচয়-ই মূখ্য নয়। মাথায় হেলমেট, কাধে এসএমজি, খাকি সবুজের কম্ব্যাট জ্যাকেট, ম্যগজিন ভর্তি বুলেট, পিচ ঢালা পথে শক্ত বুটের আঘাত, ইষ্পাত দেহের ঘামে ভেজা শরীরের এ মানুষগুলোকে আমরা খুব সহজেই শক্ত মানুষ বলেই জানি, যারা অস্ত্র ধরতে জানে, যারা অস্ত্র চালাতে জানে, দেশের জন্য যারা প্রাণ দেবার শপথ করে তারা শক্ত হবে না তো কারা হবে ?
কিন্তু কি দেখছি আজ, এ ছবি কি মিথ্যে ? ছবিটি কি তাহলে ভুল ? এ শক্ত মানুষটির কান্নার দৃশ্যে তার ভেতরে যতটা অসহায়ত্ব পেয়েছি নিজেকে বিশ্বাস করাতে প্রথম কষ্ট হলেও, অবিশ্বাস করনেনি সেই ফটোগ্রাফার, যিনি বাস্তবতায় দাড়িয়ে এই ফটোটি তুলেছিলেন।
কেউ হয়ত প্রশ্ন করতে চাইবেন না, তিনি কেন কাঁদছেন ? কান্নার উপলটি যখন হারিয়ে যাওয়া একশ’র বেশী আর্মি অফিসারের করুণ মৃত্যুর উপলব্ধি, সামান্য এ সৈনিকের কঠিন সত্য তখন একটিই “আমাদের স্যার-রা আর কেউ বেঁচে নেই”
যাদের জন্য তিনি কাঁদছেন তারা হয়ত তার কেউ না, না কোন এক পরিবারের, না ভাই না রক্তের সম্পর্কের কেউ। শুধুমাত্র এলপিআর-পেনশন যাবার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত চাকুরী জীবনের কর্মেেত্রর সঙ্গী।
আমি যদি তার সামনে থাকার একটি সৌভাগ্য পেতাম, একবার তাকে মনে করিয়ে দেবার চেষ্টা করতাম “তুমি কাঁদছ কেন ? তুমি কার জন্য কাঁদছ ? যারা তোমাদের প্রভু ছিল তাদের জন্য ? যে একদিন তোমাকে উঠতে বসতে পশুর বাচ্চা বলে গালি দিয়েছিল? মাথা পেতে মেনেছিল ! সামান্য কোন অপরাধে কোয়ার্টার গার্ডে তিন দিন তিন রাত শেকল বাঁধা করে রেখেছিল, সেই অফিসারদের জন্য ? কিছু প্রাপ্য চাইতে গিয়ে ট্রান্সফার করে দেওয়া হল খাগড়াছড়িতে ! কি কথা বলছনা কেন ? এই তো !- এরকম আরো কত কিছু বলেছ তাদের অপরাধ, শুধু দোষই খুজেছ গুণ খোজনি ! ”
আজ কাঁদছ কেন ?
তোমাদের মত সেইসব জওয়ানরা তো তাদের শাস্তি দিয়েই দিয়েছে, এখন তো তাদের উল্লাসের দিন, কোথায় তারা, ডাক তাদের, মৃত পঁচা লাশের গন্ধে শকুনের পালে তাদেরকে উল্লাস করতে দাও, একবার দেখি তাদের সে হাস্যোজ্বল মুখগুলো, ওদের হাসতে দাও, বারবার হাসতে দাও, আমৃত্য হাসুক ওরা, উল্লাসে থাকুক !
..........................
“আমাদেরকে গালি দিয়েছেন, কোয়ার্টার গার্ডে রেখেছেন, ট্রান্সফার করেছেন, লাথি দিয়েছেন - তবুও তো আমরা সব মেনে নিয়েছি, আমরা তো সাধারন সৈনিক ছিলাম, আমাদের যোগ্যতায় আমাদের এ পরিচয়, কিন্তু, এমন মৃত্যু তো চাইনি। যে অস্ত্রের প্রশিণ পেয়েছি শত্র“র দিকে ট্রিগার চাপব বলে, যে কমান্ডো জাম্প, অ্যাকশন, বোয়েনেটের আঘাত তা তো নিজেদের শরীরে বিধতে চাইনি”
আমি নিরুত্তর থাকি ছবির দিকে তাকিয়ে, ছবির কান্নার অসহায়ত্ব আমাকে গ্রাস করলেও আবেগ দূর্বল আমি নই, , , , -তাই কেউ যেমন আমাকে বুঝতে পারেনা, খুব সহজেই তেমনি প্রসঙ্গ পাল্টে ফেলি।
ঠিক তেমনি এ ছবিটি উল্টে ফেললেই একদিন ঠিকই হারিয়ে যাবে আবার এ স্মৃতি ! প্রশ্নযুক্ত হয় বাক্যটি ?
সত্যি কি হারাবে ?
না কি, ! ২৫ ফেব্র“য়ারী আমাদের জীবনে জাতীয় শোকের উপলক্ষ হয়েই রইবে ?
প্রসঙ্গ : (২৫ফেব্রুয়ারী'০৯- এর বিডিআর সদর দপ্তরে নারকীয় হত্যাকান্ড)
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৫:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


