somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জুতা চুরি

৩১ শে জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(মনে মনে ………)
- হায় হায় জুতা জোড়া গেল কই
এইখানেই তো রাখছিলাম
কার্পেটের নীচে ঢুকে গেল না তো !

- এই যে, ভাই দেখি দেখি একটু
= কি হইছে ভাই, আপনার
- না ভাই, ঢোকার সময় তো জুতা জোড়া এইখানেই রাখছিলাম কিন্তু,
= কি ভাই, জুতা পাচ্ছেন না ?
- কই কোথাও তো দেখছিনারে, ভাই
= তাইলে আর খুইজ্যা কি হবে, ওইটা শ্যাষ
- শ্যাষ মানে ?
= শ্যাষ মানে বুঝেননাই ?
= এতক্ষন ধরে খুজছেন, অথচ পাচ্ছেন না, তাইলে কি ওগুলো আর এখানে আছে
= যে নিয়ে গেছে তাকে কি আর খুজে পাবেন ?


দেয়ালেই সাটা ছিল, “জুতা!নিজ দায়িত্বে রাখুন”
আগেই খেয়াল হওয়া উচিত ছিল
(উহু ! ভারী জুতা ! তার জন্য আবার দায়িত্ব কাধে নিতে হবে, দায়িত্ববান হতি হবে !)
একবার খেয়াল হয়েছিল বটে, আবার ভাবল এই তো আর কতক্ষন!
যা হবার এর মধ্যেই হয়েছে ..
এত জুতা থাকতে আর কারোরটা নজর পড়লনা, শেষ মেশ ..ওরটাই ..


জুতা জোড়ার জন্য খুব মন খারাপ হচ্ছে
মাথার জিনিস না হোক, অন্তত; পায়ের তো বটে
তারপরেও খুব খারাপ লাগছে
অনেকদিনের পথ চলার সঙ্গী, আজ হারিয়ে ..
কেমন জানি,

জুতা জোড়া নিয়ে একটা লম্বা ইতিহাস-ও আছে ..

প্রথম যেবার এ জুতা জোড়া হাতে এল, সে কি কম কসরত করতে হয়েছে .
এক এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় যাওয়া
পজিশন, টাইমিং, ট্রান্সফারিং ..
আরো কত কিছু
জুতা দেখলেই বুঝতে পারে, চামড়া এলাকার মানুষ সে
চামড়ার গন্ধেই বলে দেয়, কোনটা রেক্সিন আর কোনটা টায়ারের চামড়া
জুতা জোড়া সে কিছুতেই ছাড়তে চায়না
বৃষ্টি-বাদলেও পড়েনা
রোদে-বালুতে ধুলা পড়লে, পরক্ষন বাড়ী এসে-
ধুয়ে মুছে সাফ করে রাখে
শেষ বছরে কাঠাল কাঠের যে আলনাটা তৈরী করল
সেইটার ঠিক মাঝে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখত !

জুতা জোড়ার এক মহত্ব আছে,
যেন তেন লোকের নয়
ওই এলাকার এক সাংসদের জুতা
পড়বি তো বেটা বড় মানুষের জুতা পড়বি
এমনটাই ভাবে সে,
জুতাও চিনে – জুতার মালিককেও চিনে


পরেরবার যখন এ জুতা জোড়া পড়ে আবার গেল
সেবার সে কিছুই করতে পারেনি
এর চেয়েও দামী কিছু পেয়েছিল ঠিকই,
কিন্তু তার চেয়ে বেশী মায়া ছিল,এ জুতাটার দিকে
বাড়ী ফিরলে, বৌ খুব গাল মন্দও করল
তাতে একটু মন খারাপ হল তার
কিন্তু জুতা জোড়া ছাড়ল না।


অভাবটা সেবার ঘরের দরজায়
বৌ-পোলাপান সব ক্যাচ ক্যাচ করছে সারাদিন
এখন লোকজন সব সাধু হয়েছে
যার যারটা তার কাছে রাখে
আর, যেভাবে দেয়ালে লিখে রাখছে
“জুতা, কাছে রাখুন” তাতে.. নাহ
অনেকদিন হল, ভাল কিছু হাতে আসছেনা
স্যান্ডেল, চপ্পল এগুলো দিয়ে আর যাই চলুক
সংসার তো চলেনা !


জুতা জোড়ায় সেদিন কালি করল
চকচকে নিজের চেহারাও দেখা যায়
অবশ্য, সে তার চেহারা ভুলেও জুতা জোড়ায় ফেলেনা
অনেকদিনে, চামড়ায় একটু খসখসে এসেছে
ছোট ছেলেটে জুতা জোড়ে টানতেই
ঠাস, করে অমন বাচ্চাটার মুখে থাপ্পর কষিয়ে দিল
ছেলেটি হু হু করে কাদল কতক্ষ


সেবাই ঈদ বেলা, নতুন পোষাক কিনল
কিন্তু জুতা কিনলনা
বলল, “আমার এ দুটোই ভাল, এখনও তো নতুনই আছে”
ছেলের জুতা, মেয়ের জুতা, গিন্নীরও একটা যোগাড় হল
সবাই বেশ খুশি।


“বুঝলে গিন্নী, মানুষ যখন পরখ করে, আগে দেখে জুতা, তারপর মাথা”
স্বাস্থখানি তার লম্বা-চওড়া বেশ
পত্রিকায় বিজ্ঞাপণ বেরিয়েছিল
নতুন কোম্পানী, ভাল বেতন
নিরাপত্তার পদে চাকরী নিতে গিয়েছিল, সে


নাহ! এ কথা সে কথা,
কিন্তু,
তার মন ভরেনা
জুতা জোড়া শেষ মেশ চুরিই হল
নষ্ট হয়ে ছিড়ে গেলেও তো
তুলে রাখা যেত।


ভাবছে আর হাটছে,
হাটছে আর ভাবছে,
খালি পায়ে হাটতে কষ্টও হচ্ছে
মানুষ কি ভাবছে সেটা বড় নয়
এর আগেও সে কত লোককে দেখেছে,
জুতা পায়ে এসে,খালি পায়ে বাড়ী ফিরেছে
ইচ্ছে করলেই, আজ কেও এক জোড়া ম্যানেজ হত
হয়ত একটু কম দামী হত, তাতে কি ?
নাহ ! মনটা আসলেই খারাপ
জুতা জোড়া হারিয়ে
সত্যি বেচারা !


আজকেই সে বুঝল,
হারানো জুতার কষ্টটা কি !
জুতা চুরির আনন্দটা ..
সেটাতেই সে অভ্যস্ত
কারণ..
সে তো নিজেই একজন জুতা চোর !




........ জুতা চোরের জুতা চুরি .........
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:৩৫
২৪টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×