অনাবৃত সাত !
০২ রা অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১:৩২
সাত (০৭) দিনের জন্য মোট সাড়ে সাত (০৭) পৃষ্ঠার সাত (০৭) টা লেখা; পরপর না হোক কিন্তু অন্ততো সাত (০৭) দিনে তা ছাপিয়ে দিবো। সাত (০৭); সাত-পাঁচ ভেবে এতকিছু বলিনি, তবুও দেখছি সাত (০৭) সংখ্যা দিয়ে একটা চমতকার সুর-বন্ধন তৈরী হয়ে গ্যালো।
“লোকে বলে, বলেরে ... ঘর বাড়ী বানাইলো ......” না না, কিন্তু লোকে এটা ঠিক বলে, সাত (০৭) সংখ্যা না কি ভাগ্য (লাকি) নম্বর। সাত (০৭) সংখ্যা ধরলে ভালো কিছু হয়। আমি বাপু অতসব বুঝিনে, আমার কাছে সাত (০৭)-ও যা আবার ওই তেরো (১৩)-ও তাই। আর তাইতো সাত সমূদ্র - তেরো নদী পারি দিয়ে এসে এখন এ লেখা লেখবার প্রাক্কালে সাত ভাবনায় পড়ে গেলাম।
ব্যাস, আর না! সাত সকালে এ সাত প্যাঁচানী এবার বনধ্ ।
.................................................................................................................................
তেইশ (২৩) থেকে ত্রিশ (৩০) - এই মোট সাত (০৭) দিন। আমার ঈদের ছুটি। ২০০৯ সনের ঈদ-উল ফিতর। যদিও ঈদ হয়েছে একুশ (২১) তারিখ, তথাপি ঈদ ও তার পরদিন অফিস কর্মব্যস্ত থাকবার শর্তে এ তারিখের সাত দিনের ছুটি মঞ্জুর হয়েছিল। আক্ষেপ ছিলোনা, বরঞ্চ আনন্দিত হয়েছিলাম এ কারণে; প্রায় ৬ কি ৭ বছর পর এবার গ্রামের বাড়ীতে যাচ্ছি।
গ্রামের বাড়ী বলতে আগে যা বুঝতাম নানা-নানী’র বাড়ী। কিন্তু তাঁরা গত হয়েছেন এ কয় বছরে। দাদা-দাদী বাড়ীও সেখান থেকে কিছুটা দূরে। তাদেরকে কখনোই দেখিনি, আমার জন্মের আগেই তাঁরা চলে গিয়েছেন। তাই সেখানে যাওয়া - আসাটাও তুলনামূলক কম যদিও চাচা-চাচীরা সেখানেই থাকেন। গ্রামে এক টুকরো জমি রয়েছে - করি করি করেও একটা চিলেকোঠা তোলার ইচ্ছেটা বহুদিনের, হয়ে উঠছেনা। শহরে যেখানটায় নিজেদের বাড়ী সেখানে ভাড়া দেয়া থাকে। যাবার গন্তব্য ঠিক করা হলো “ছোট খালামণি” বাড়ী।
আমাদের বাড়ী, যশোরে। খালামণির বাড়ী যশোর থেকে সাতক্ষীরা’র পথে ‘বাগআচড়া’ ইউনিয়নে। বাগআচড়া থেকে সাতক্ষীরার পথ বাসে ৪৫ মিনিট। আর নানা বাড়ী ‘নাভারন’ - বেনাপোল থেকে কিছুটা আগে। আর “বড় খালামণি”র বাড়ী ‘ঝিকরগাছা’। নাভারন থেকে আরও আগে।
আমাদের এ ভ্রমণ সঙ্গী হিসেবে আগেই যুক্ত হয়েছিলো আমার এক বন্ধু। পরিবারের আমরা চারজন - আমি বড়ো, ছোটটা-অপু, বাবা আর মা আর আমার সেই বন্ধু-নবীন। এই মোট ৫ (পাঁচ) জন।
আমার এ লেখার সাত (০৭) রহস্য অনাবৃত হোলো এখানেই, আর যে সংকলনটি লেখা হবে তার মূল প্রতিপাদ্য সাত (০৭) দিনে গ্রামীণ জনপদে আমার অবস্থান, হাসি, হৈ-হুল্লোর, লুকোচুরি আবেগের কখনো উচ্ছাস, ফিরে দেখা শৈশব-কৈশোরের উচ্ছল আনন্দিত খন্ড সময়ের টুকরো টুকরো অনুভূতি। ঠিক ফিরে আসবার দিনে অনুচ্চারিত হাতছানি ‘যেওনা গো ছেড়ে’, তবুও ফিরতে হবে - কঠোর সতর্কতায় তাই অপ্রকাশিত অনুভূতিতে বারবার চোখদুটোকে মেলে দিই বিস্তীর্ণ আকাশে, পাছে সমান্তরালে ভেজা চোখ দুটোকে কেউ দেখে ফ্যালে, সেই ভয়ে।
সেই লেখাগুলোকে স্মৃতিমূলক একটা কিছু হিসেবে এখানে সংরক্ষণ করতে চাইছি শুধু। আবারও ঈদ আসবে সামনে, ছুটি হবে কি হবেনা - তবু এ লেখা রয়ে যাবে, পেছনের পাতা উল্টে শোনা যাবে হা হা - হো হো সশব্দের তীব্র জোড়ালো অট্টহাসির সুর, আর তখন বাঁকা ঠোটের মুচকি বয়স্ক হাসিতে মনে মনে শুধবো - “আহা কি সুন্দর দিন কাটাইতাম, কত সুন্দর ......”
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
প্রণব আচার্য্য বলেছেন:
আহা কি সুন্দর দিন কাটাইতাম
লেখক বলেছেন: এখনো কাটাইতেছি ......
লেখক বলেছেন: যশোর - পালবাড়ী মোড়
লেখক বলেছেন: আমি সে ঠিকানায় পৌছে যাবো নিশ্চয় ...
সহেলী বলেছেন:
যা লেখার লিখে ফেল ; এত সাত-পাঁচ ভাববার কি দরকার !
লেখক বলেছেন: সময় স্বল্পতায় কম্পোজের সময় পাচ্ছিনে ... আজ রাতে বসতেই হবে ..
kisuna বলেছেন:
কিন্তু লোকে এটা ঠিক বলে, সাত (০৭) সংখ্যা না কি ভাগ্য (লাকি) নম্বর। - ৭/১১/৭৭ জন্মালাম লেকিন লাকি হবার কোন প্রমাণ তো পেলাম না। সারাটা জীবন নরক যন্ত্রনায় কাটল।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















