স্মৃতি খুজেঁ কিছু রোমান্থন করবার আগ্রহ’টা কবেই যে হাওয়ায় মিশেছে, যান্ত্রিক জীবনের এ কোলাহলে তা বোঝবার জো নেই। আমার এ অভ্যেস’টা নৈমত্তিক নয়, অনেকটা পুরোনো বাতিকের মতন। কতজনে বলেছে ‘স্মৃতিই তো সব’, আমি শুধু তাচ্ছিল্যতায় হেসে, ওটাতে কোথাও সুখ পাইনি বলে দোষ চাপিয়ে বলে এসেছি “স্মৃতি কষ্টের”। আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করতো, আমি গন্তব্যে পা বাড়াতাম।
এভাবেই এতটা সময় চলে গেছে, শুধু যে কষ্ট ছিলো তা কিন্তু নয়; হয়তো কষ্টের দিকটা ভারী, তাই বলে স্মৃতি’ খুজেঁ দু-একটা সুখ উপলব্ধি পাবোনা তাও নয়। সে স্মৃতি গুলো বেশ রোমাঞ্চিত। কিন্তু সে সুখময় ব্যপারগুলিই যখন একসময় নিজের জীবনের কাছে ব্যথার কারণ হয়ে দাড়ায় তখন “না বলা কথায়” সে অব্যক্ত ভাষা লুকিয়ে লুকিয়ে বয়ে বেড়ানো যে কত কষ্টের তা হয়ত এ লেখায় প্রকাশ করা সহজ নয়; শুধু একজন বা আরেকজনকে মনের কথায় বুঝিয়ে বলা সম্ভব। আবার সেই সম্ভাবনা’টাও খুব বা অল্প বিস্তর ক্ষীণ-ও হতে পারে।
অনেকদিন স্বপ্ন-ও দেখিনা। স্বপ্নেও অনেক কষ্টের ব্যপারগুলি ঘটে যায়। সেগুলোর কোনটা অবাস্তব আবার কোনটা জীবনের সাথে মিশে থাকা সত্য অনুভূতি। কষ্টটা মৌলিক বলে সব জাগাতেই তার অস্তিত্ব থাকবে সেটাও মানতে পারিনা, তাই ভালো স্বপ্ন দেখবো সে আশ্বাসেও রাজী না হয়ে সেদিনের পুরোটা রাত জেগে থাকি।
আমার ভেতরের এ ক্রিয়াগুলি আমি ছাড়া কাউকেই প্রকাশ করিনি। সেখানেও তীব্র বঞ্চনায় ভয়, আজকাল কেউ দু:খবোধের বাক্য শুনতে রাজী হয়না যেখানে সকলেই সুখ প্রত্যাশী, সে জাগাতেও আমি যে খুব শঙ্কাবস্থায় তা ভেবেই ভীত হয় মাঝে মাঝে। এত সবের মাঝেও কিছু কিছু সুখ হঠাত করেই আসে আবার হঠাতেই মত চলে যায়। “The Pursuit of Happiness” ছবিটি’র শেষ দিককার একটা দৃশ্য সংলাপ এরকম “It’s a little part, it’s called happiness” খুব অল্প কিন্তু আনন্দের; সেটাই অনেক বড়।
একটা লেখা লিখেছিলাম ওর জন্য, এটা ক’দিন আগের কথা। যেদিন লেখাটা ছাঁপানো হল সেদিন ছিলো ওর জন্মদিন। লেখা কখনো কারো জন্মদিনের উপহার হতে পারেনা, তবুও কি ভেবে যেন লেখাটা লিখে ফেললাম। সেখানে অকপটে বলে গিয়েছে নিজের অনেক কথা। ওর কথাই ছিল সর্বস্ব। লেখাটি যে ও দেখবে সেরকম প্রত্যাশাও করিনি কারণ ততদিনে দুজনের সংযোগহীন অবস্থায় কেটেছে প্রায় অর্ধেক’টা বছর। এত ব্যবধানে ওকে মনে করিয়ে দেয়া, ভেবেছিলাম ভুলে যাবে।
দরজার ওপাশ থেকে সন্ধ্যাচ্ছন্ন অন্ধকারে প্রথমে ওকে চিনতে পারিনি। ও অপেক্ষা করছিল। সেদিনের দুজ’নের আর কোন কথা হয়নি, শুধু যখন ওর কাছে গিয়েছি টেবিলের উপর মুখটা ঢেকে শব্দহীন কেঁদে যাচ্ছিলো, জল ভেজা চোখে তাকিয়ে বলল “কেন তুমি ওসব লিখতে গিয়েছ” ফিরে এসেছিলাম। লেখাটি মুছেও দিয়েছি।
ইচ্ছে হয়েছিলো ফোনে যোগাযোগ করি, করতেও পারতাম ! ওকে আর জিজ্ঞেস করা হয়নি “আমি তো মিথ্যে কিছু লিখিনি, তাহলে সত্য’কে কেন মুছে দিতে বলছো” কি হবে জিজ্ঞেস করে ! এতদিন পর তাই স্বপ্নেও সে কথা তাকে বল হলোনা। ওটা ছিল দু:সহ স্মৃতির দু:স্বপ্ন।
আমরা হয়তো এভাবেই বেঁচে থাকি স্মৃতি মায়ায় জড়িয়ে, কখনো কষ্টগুলোকে আড়ালে রেখে কখনোবা চিৎকার করে প্রকাশে। তাই অনেকদিন না পাওয়া কষ্টের ভেতর যখন আজ তাকে স্বপ্নে পেয়েও কিছুই বলতে পারলাম না, তখন সেই স্মৃতিকেই খুজেঁ পেলাম কিন্তু “স্মৃতি বরাবরই কষ্টের” এবং “স্বপ্ন’টা দু:স্বপ্নের”।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

