somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

mysterious tree

২৬ শে নভেম্বর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমার ঘরের বারান্দায় একটা টবে সবুজ গাছ রাখা আছে, সেই গাছে খুব গুণে গুণে সাতটা পাতা, পাতার রংগুলো একদম গাড়ো সবুজ। পাতার গায়ে শিরা উপশিরাগুলো এতো আকিঁবুকি, যেন দেখে মনে হবে পৃথিবীর মানচিত্রে ছোট ছোট নদী আর সমূদ্রের দাগ ওগুলো। একটা পাতা খানিকটা ধূসর আর আরেকটা প্রায় সাদা মত দেখতে, আমি খুব অবাক হই গাছও কি এমন ভিন্ন রুপী হতে পারে ? কিন্তু আমার যতটা অবাক হওয়া তার চাইতেও যে এত বিষ্ময় রয়েছে গাছটাতে তা যদি সেদিন না জানতাম তাহলে পৃথিবীর ওই অদ্ভূত শক্তি সম্পর্কে প্রায় অজানাই থাকতো।

এই গাছ'টা কিন্তু আমার না, আমার প্রিয় মানুষের; সে যখন চলে যায় আমাকে গাছটা দিয়ে যায়।

সেদিন ছুটির দিন ছিল। সকালের দিকে বারান্দায় বসা ছিলাম, হঠাতই কি এক আনমনে সেই গাছটার পাতায় হাত দেবার কিছু সময় বাদেই মা ঘর থেকে চিৎকার করে ডাকতে লাগলেন, আমি তো হতবাক - যেই না গাছের পাতাটায় হাত দিলাম আর মা অমন করে চিৎকার করছেন কেন ? তড়িঘড়ি করে ঘরে ঢুকতেই বুঝতে পারলাম নিশ্চয় কিছু একটা হয়েছে, মা পলকহীন চোখে তাকিয়ে আছেন টেলিভিশনের স্ক্রীনে। ব্রেকিং নিউজ - "চীনে ভয়াবহ ভূমিকম্প"

বিষয়টাকে সেদিন সত্যি সত্যিই অবহেলা করেছিলাম, ভেবেছিলাম এ আর কি ! এমনটা তো হয়েই আসছে - নতুন তো কিছু নয়। কিন্তু তার কিছুদিন পর যে ব্যপারটা আবার ঘটলো তখন কিন্তু আর অবহেলা করবার মত কিছু থাকলোনা।
সন্ধ্যার একটু আগে মানে বিকেলই বলা যায়, বাড়ীতে ফিরে কি মনে হল একটা গ্লাসে কিছু পানি নিয়ে গাছটার পাশে গিয়ে দাড়ালাম, একটা পাতাকে বেশ এলোমেলো লাগছিল, তাই গ্লাসের পুরো পানিটাই ওই পাতার উপর ঢেলে দিলাম, বিষয়টা ঠিক কি বেঠিক সে বিবেচনা না করেই ঘরে আসার কিছুক্ষণ পরই আবার সেই আগের মতন মায়ের চিৎকার, এবার একই দৃশ্য; টিভিতে ব্রেকিং নিউজ - "ভারতে তুমুল বন্যা" আমি দৌড়ে গাছটার কাছে গিয়ে দেখি পাতার পানি তখনও শুকায়নি, ফোঁটা ফোঁটা করে গড়িয়ে পড়ছে।

সেদিন রাতে ঘুম হলনা, ঘটনাটা কি ? অনেক প্রশ্ন গাছটাকে ঘিরে কিন্তু কোন উত্তর মিলছেনা ! একটা অস্থিরতা, মাঝে মাঝে খানিকটা ভয়ও করছে।

পরদিন সকালে আকাশ জুড়ে কালো মেঘ আর খানিকটা দমকা হাওয়াও বইছিল, বারান্দায় গিয়ে আরও একটা অদ্ভুত ব্যপারের সম্মুখীন হলাম, বাইরে এতো জোড়ে বাতাস বইছে যে বারান্দায় শুকোতে দেয়া কাপড়গুলো সামলানোও মুশকিল হচ্ছে অথচ গাছের একটা পাতাও নড়ছেনা, আমার প্রায় দম বন্ধ হবার মত অবস্থা, হার্টবিট দমে দমে বাড়ছে । তাহলে কি সেদিন পাতায় পানি দেয়ায় বন্যা ? বা পাতা ধরতেই ভূমিকম্প ? হঠাতই আরো একটা প্রশ্ন - এই গাছটায় শুধু ৭টা পাতা কেন ? আচ্ছা পৃথিবীতে তো ৭ টা মহাদেশ ! তাই না ? না না ! আমি আর কিছুই ভাবতে পারছিলাম না, কেমন যেন অবশ হয়ে যাবার মত চোখদুটো বন্ধ হয়ে আসছিল !

পুরো বিষয়টা একদিকে যেমন আমার কাছে বিষ্ময়কর তেমনি ভয়ংকরও বটে ! যদি সত্যিই গাছটার সাথে পৃথিবীর কোন সম্পর্ক থেকে থাকে তাহলে তো ....... এ কথা ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ খেয়াল করলাম গাছেটাকে সরানো হয়না বলে একটা দিক সবসময় অন্য পাশে থাকে, যে পাশটাতে সাধারণত সূর্যের আলো পড়েনা। আরো মজা হল সেই পাশের গাছের পাতাটা বরফের মত পুরো সাদা রং-এর। আমি টবটাকে খুব সাবধানে ঘুরিয়ে সাদা পাতাটাকে সূর্যের আলোর দিকে রেখে দিলাম।

যখন অফিসে পৌছেছি, দেখতে পেলাম - অফিসের প্রায় সবাই হুমড়ি খাবার মত টেলিভিশনের পর্দায় কি যেন দেখছে, তা দেখে এগিয়ে যেতেই গিয়ে দেখি -
ব্রেকিং নিউজ "বৈশ্বিক উষ্ঞতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আটলান্টিকের বরফ আশংকাজনক হারে গলছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পানি বৃদ্ধির উদ্বেগ"

সেদিনের পর থেকে আমার আর বুঝতে বাকী থাকে না, অসম্ভব শক্তির সেই গাছটিই একটা পৃথিবী। গাছের সাতটি পাতা ৭ টি মহাদেশ।

মনে পড়ে, পুরনো বেশ কিছুদিন আগের কথা, যখন প্রিয় মানুষটি চলে যাবে তার ঠিক কিছুদিন আগে। সেদিন প্রিয় মানুষটিকে বলেছিলাম তুমি আমাকে সর্বোচ্চ কি দিতে পারো, সে বলেছিলো "ভালবাসা" আমি খুব হেসেছিলাম, আমি আবার জিজ্ঞেস করেছিলাম 'তারপর, আর কি দিতে পারো', সে বলেছিল "পুরো পৃথিবী" দিতে পারি। একথা শুনে আমার বিষম খাবার মত অবস্থা ! "পুরো পৃথিবী ! কিভাবে ?" প্রিয় মানুষটি আর কিচ্ছু বলেনি।

সেদিন প্রথম বুঝতে পারি, আমার প্রিয় মানুষটি যখন চলে যায়, সে সত্যি সত্যিই আমাকে একটা পুরো পৃথিবী দিয়ে যায়, আমি এখন থেকে খুব যত্ন নেই সেই পৃথিবীটার, সারাক্ষণ চোখে চোখে রাখি যেন এতটুকুন অবহেলা না হয় !

আমার পাওয়া সেই পৃথিবীটাকে আমি বড্ড বেশী ভালবাসি।
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফ্যামিলি কার্ড যদি থাকে, তবে গুম-ভাতা কেন নয়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৩৫


পৃথিবীর ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ দশ ফ্যাসিবাদের তালিকা করলে শেখ হাসিনার নাম ওপরের দিকেই থাকবে। এই শাসনামলে বিএনপি-জামায়াতের হাজার হাজার নিরীহ নেতাকর্মীকে যে আয়নাঘরে বন্দি করা হয়েছিল, তার একেকটা ঘটনা শুনলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত আলী (রা.) ও হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) যুদ্ধে আল্লাহ হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) পক্ষে ছিলেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:০৬



সূরাঃ ৫ মায়িদা, ৬৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭। হে রাসূল! তোমার রবের নিকট থেকে তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা’ প্রচার কর। যদি না কর তবে তো তুমি তাঁর রেসালাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভুলে যেও

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০১

" ভুলে যেও "

একটু একটু করে চলে যাচ্ছি গভীর অতলে,
ধীরে সুস্থে হাটি হাটি পা পা করে এগিয়ে যাচ্ছি
অনন্তকালের ঘরে।
যেখানে থাকতে হবে একাকি
নি:স্বীম আঁধারে।

ভালো থেক ফুল,পাখি, লতাপাতা,
ভালো থেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ আকাশ বলতে কিছু নেই

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২

অনেক হয়েছে । আর না ।
সেই পরশু রাত থেকে । এক-দুই-পাঁচ-দশবার নয় । তিরাশিবার ! হ্যাঁ, তিরাশিবার ঈশিতার নাম্বারে ডায়াল করেও কোনো রেসপন্স পায় নি অলক ।
ওপাশ থেকে একটা নারীকণ্ঠ... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতিভুক বৈশাখী মেলা আর হালখাতা....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪১

স্মৃতিভুক বৈশাখী মেলা আর হালখাতা....

সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাঙালীর পহেলা বৈশাখ উদযাপন করার রীতিও বদলে গিয়েছে। অনেক ঐতিহ্য কালের গর্বে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, আবার যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন রীতি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×