somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন সাইফুর রহমানের বর্নাঢ্য জীবন ।

০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সদা হাস্য, সরল প্রকৃতির মানুষ এম সাইফুর রহমান। একজন সাইফুর রহমান তাঁর কর্মজীবন দিয়ে সারা বিশ্বে পরিচিত একখণ্ড বাংলাদেশ হিসেবে। রেকর্ড বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ১২বার বাজেট পেশ করেছেন বর্ষীয়ান এ নেতা। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার ঘনিষ্ট সিলেটের সন্তান জিয়ার শাসনামলেই ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

জিয়ার পরে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত তিনবারের বিএনপি সরকারের ছিলেন নির্ভরযোগ্য অর্থমন্ত্রী। অথচ ছাত্রজীবনে তিনি কোন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন চার্টার্ড একাউটেনটেন্ড।

তাঁকে সর্বপ্রথম রাজনীতিতে আনেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ’৭৫-এর বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চারনেতা হত্যার পর রাজনীতির এক অস্থির সময়ে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশের হাল ধরেন জিয়াউর রহমান। তখন সাইফুর রহমান জিয়ার বাণিজ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর তাকে বাণিজ্যমন্ত্রী করেন বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান।

জাতীয় গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) গঠনে বিশেষ ভূমিক পালন করেন সাইফুর রহমান। ১৯৭৮ সালের জুন মাসে জিয়াউর রহমান যে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের ব্যানারে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেছিলেন, সেই ফ্রন্টেরও সদস্য ছিলেন তিনি। জাগদল বিলুপ্ত করে ১৯৭৮ সালে ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি’র জন্ম। সে দলেরও প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সিলেটের কৃতি সন্তান সাইফুর। কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয় তাকে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়ার মৃত্যুর পর এইচএম এরশাদ সামরিক শাসন জারি করে অনেক রাজনীতিকের সঙ্গে সাইফুরকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দেয়া হয়। কিন্তু জাতীয়তাবাদীর আদর্শেই অবিচল থাকেন সাবেক এ অর্থমন্ত্রী। তারই প্রতিদান হিসেবে খালেদা জিয়া যতবার ক্ষমতায় গেছেন ততবার তাঁকেই দায়িত্ব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রীর।

প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ সিলেটের মৌলভীবাজার জেলায় ১৯৩২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আব্দুল বাছিত।

১৯৪৯ সালে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে লেটার মার্ক পেয়ে মেট্টিক, ১৯৫১ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট ও ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন সময়ে তিনি ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে অংশ নেন সাইফুর রহমান এবং কারাবরণ করেন।

তিনি ১৯৫৩ সালের উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য লন্ডনে যান এবং ১৯৫৮ সালে চাটার্ড একাউটেন্সি ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তান জাতীয় বেতন কমিশনে প্রাইভেট সেক্টর হতে একমাত্র সদস্য মনোনীত হন।

১৯৭৩ ও ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ জাতীয় বেতন কমিশনের সদস্য হিসেবে কাজ করেন।

১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য ও অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯১-৯৬ মেয়াদে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সময় তিনি দেশে মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) চালু করেন।

১৯৭৯ সালে তিনি মৌলভীবাজার সদর আসন থেকে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ সদস্য মনোনীত হন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে সিলেট-৪ (জৈন্তা-গোয়াইনঘাট) ও মৌলভীবাজার-৩ আসন থেকে, ২০০১ সালে সিলেট-১ ও মৌলভীবাজার-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই সময় তিনি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিন থেকে তিনি প্রোস্টেট ক্যান্সারে ভুগছিলেন।

সাইফুর রহমান ১৯৯৪-৯৫ সালে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের ভাইস-চেয়ারম্যান, ১৯৮০-৮২ ও ১৯৯১-৯৫ সময়কালে তিনি বিশ্বব্যাংক, এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক, ইসলামী উন্নয়ন ও ইফাড এর বাংলাদেশ গর্ভনরের দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি অর্থনৈতিক কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটি একনেকের চেয়ারম্যান ছিলেন।

সাইফুর রহমান ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতির বিশেষ দূত হিসেবে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান সফর করেন। ১৯৯৫ সালে কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে এবং একই বছর বসনিয়ায় অনুষ্ঠিত ওআইসি সম্মেলনেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন সাইফুর রহমান।

পেশাগত জীবনে তিনি কেমিক্যাল, তেল-গ্যাস উত্তোলন, ট্রানপোর্ট, ব্যাংকিং, ইন্সুরেন্স ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে সাইফুর রহমান তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক। বড় ছেলে এম নাসের রহমান মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি’র আহবায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য। (আরটিএনএন ডটনেট)
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ সুবহানার বীরত্ব

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:১০




সুবহানা খুব ছোট্ট হলেও, দারুণ মিষ্টি দেখতে,
চটপটে, বেজায় সাহসী , কেউ পারে না রুখতে।

স্কুল থেকে ফেরার পথে একদিন দুপুরবেলা
অনাথ দুটি শিশু বসে করছিল কি এক খেলা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৩৩

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

একসময় ভারতীয় কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ কিংবা বাংলাদেশের কিছু ক্ষমতাসীন নেতা এমন ভাষায় কথা বলতেন, যেন বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র নয়; বরং কোনো ছোট ভাই, আদরের বোন বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্তর্দিগন্ত

লিখেছেন মুনতাসির রাসেল, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৯



যে নদী সাগরকে ছোঁয়নি, সে-ই গায় সবচেয়ে নির্মল সঙ্গীত।
যে বৃক্ষের শাখা ফলের ভারে নত হয়নি, সে-ই আকাশকে বেশি বোঝে, বাতাসকে বেশি শোনে।

পৃথিবীর প্রাচীনতম ভ্রমগুলোর একটি এই,
মানুষ ভেবেছে প্রাপ্তিই পরিত্রাণ।

তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Laptop Stand কেন দরকার?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৪ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

Laptop Stand কেন দরকার? | Digital Fast IT থেকে স্মার্ট সমাধান



দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়—ল্যাপটপের নিচের অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। অতিরিক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমিগ্রেশনেই ধরা খেল বিএনপির কূটনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪০


ধরুন আপনার পাশের বাড়ির সাথে সম্পর্ক ভালো না। দীর্ঘদিনের পুরনো ঝামেলা, কথা বলাবলি বন্ধ, একে অপরকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পাশের বাড়িতে একটা বৈঠক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×