আমার প্রিয় পোস্ট

ভীষণ ভালোবাসি দেশ, মা আর মাটি। আজও বিশ্বাস করি বাংলাদেশ মাথা তুলে দাঁড়াবেই।

ম্যানহাটান ঃ রিভারসাইড পার্ক

১১ ই জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ১:০৬

শেয়ারঃ
0 0

নিউ ইয়র্ক শহরের সবচেয়ে ব্যস্ততম এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হলো ম্যানহাটান। "এমপায়ার স্টেট বিল্ডিং", "ইউ.এন বিল্ডিং", "ক্রাইসলার বিল্ডিং", "টাইমস্ স্কয়ার", "সেন্ট্রাল পার্ক"-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর অবস্থান এই ম্যানহাটান শহরে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ দেখতে আসেন এই স্থাপনাগুলো, যে কারণেই এই শহরটি ব্যস্ত থাকে সব সময়ই। আর ম্যানহাটান শহরের 12তম এ্যাভিনিউতেই রয়েছে অত্যন্ত সুন্দর একটি পার্ক, যার নাম রিভারসাইড পার্ক। আয়তনে খুব ছোট্ট হলেও এর আবেদন এই শহরের মানুষের কাছে অনেক অনেক বেশী, যদিও ম্যানহাটান শহরের বিভিন্ন এ্যাভিনিউর বিভিন্ন ব্লকে ছোট ছোট বেশ কিছু পার্ক দেখতে পাওয়া যায়, তবুও নদীর পাশাপাশি হওয়াতে এই পার্কটির আবেদন অনেক বেশী। প্রতিদিন সকালে অনেকেই এখানে আসেন ব্যায়াম করার জন্যে। নদীর ঠিক অপর পারেই দেখতে পাওয়া যায় "নিউ জার্সি" শহর, তবে নিউ জার্সি তুলনামূলকভাবে ম্যনহাটানের চেয়ে কম ব্যস্ত।

মার্কিন মুল্লুকে আসার পর প্রথম বেশ কয়েকদিন আমি সকালে হাটতে বের হতাম, সাথে থাকতো মাঝারি মানের একটি ক্যামেরা(ছবি তোলা আমার শখ বলতে পারেন)। তাই দিয়ে পার্কটির কিছু ছবি তুলে আপনাদের সবার সাথে শেয়ার করছি।

প্রথম ছবিঃ
এখানে দেখতে পাচ্ছেন পার্কটির প্রবেশ পথ, যদিও ঠিক উল্টো দিকেই আরেকটি পথ আছে, দুটো পথ দিয়ে প্রবেশ এবং বের হওয়া যায়, তবুও মূলত এই পথটি সবাই ব্যবহার করেন। ছবিতে দূরে যে বিল্ডিংগুলো দেখছেন, সেগুলো নিউ জার্সির বিল্ডিং।

দ্বিতীয় ছবিঃ
পার্কটি দেখতে মূলত ডিম্বাকৃতির। চারদিকেই প্রশস্ত বাধাঁনো পথ আছে চলাচলের জন্যে। এই ছবিটির ডান পাশের বিল্ডিংটি ম্যানহাটান শহরেই অবস্থিত। সামান্য দূরে বাঁ দিকে যে বড় ভবনটি দেখতে পাচ্ছেন, সেটি মূলত নৌভ্রমন পিপাসুদের জন্যে তৈরী নৌবন্দর, এখান থেকে ইচ্ছ্ কে;রলেই আপনি "নিউ জার্সি" শহরেও প্রবেশ করতে পারেন, পাশাপাশি "হাডসন" নদীও ভ্রমন করতে পারেন।

তৃতীয় ছবিঃ
প্রবেশ পথ দিয়ে ঢুঁকে বাঁ দিকের পথ দিয়ে এগুলেই দেখতে পাবেন কাঠ ও লোহা দিয়ে তৈরী বেঞ্চ। সন্ধ্যায় এখানে অনেকেই তার ভালোলাগার মানুষ নিয়ে আসেন বেড়াতে, পাশাপাশি নদীর পাশে একটি সুন্দর বিকেল উপভোগের প্রায় সব রকম সুবিধাও এখানে আছে।

চতুর্থ ছবিঃ
প্রথমেই বলেছি এটি মূলত ডিম্বাকৃতির একটি পার্ক। চারদিকে চলাচলের পথ থাকলেও মাঝে দেখতে পাবেন সবুজের নিবিড় ছোঁয়া। পেছনে ম্যানহাটান শহরের 12তম এ্যাভিনিউর কিছু ভবন দেখা যাচ্ছে।

পঞ্চম ছবিঃ
এখানে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে হাডসন নদীর সাথে মিশে যাওয়া পার্কের অংশটি, পাশাপাশি রয়েছে ছাউনির মতো নান্দনিক স্থাপনা। দূরে পেছনে দেখা যাচ্ছে নিউ জার্সি শহর।

ষষ্ঠ ছবিঃ
এখানে দেখতে পাচ্ছেন, একজন ব্যক্তি তার পোষা কুকুর নিয়ে হাটতে এসেছেন এখানে। ছোট ছোট নাম না জানা গাছগুলো পার্কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে বহুগুন।

এই হলো মোটামুটিভাবে "রিভারসাইড পার্ক"। উল্লেখ করার মতো তেমন বিশেষ কিছু নেই, তবুও শেষ করার আগে বলবো, যদি কখনো ম্যানহাটান শহরের আসার মতো সুযোগ হয়, তবে অবশ্যই একবার ঘুরে যাবেন এই ছোট্ট পার্কটি। নিঃসন্দেহে বলতে পারি, ছোট্ট হলেও পার্কটি যে কোন মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে।



বিঃদ্রঃ সময় এবং ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে পার্কটি সম্পর্কে তেমন বিশেষ কিছু তথ্য তুলে ধরতে পারিনি বলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আশা করছি আমার আগামী লিখাতে ম্যানহাটান শহরের বিশেষ কিছু স্থান নিয়ে আরো বেশী তথ্যবহুল লিখা উপস্থাপন করতে পারবো।

 

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ১:১০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

 

মোট সময় লেগেছে ২.৭৯৮৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
www.e-dirts.com
www.ayojon.com/

শত ব্যস্ততার মাঝেও, ফেলে আসা অতীতের স্মৃতির রোমন্থন করতে গিয়ে খুঁজে ফিরি সেই হারানো মুখ। ইট-পাথরের এই শহরের অলি-গলিতে খুঁজে...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ