(মধ্যযুগের বাংলা গীতি কবিতা)
চন্ডীদাস
মরম না জানে ধরম বাখানে
এমন আছয়ে যারা।
কাজ নাই সখি তাদের কথায়
বাহিরে রহুন তারা।।
আমার বাহির দুয়ারে কপাট লেগেছে
ভিতর দুয়ার খোলা।
তোরা নিসাড় হইয়া আয় লো সজনি
আঁধার পেরিলে আলা।।
আলার ভেতরে কালাটি আছে
চৌঙটি রয়েছে তথা।।
সে দেশের কথা এ দেশে কহিলে
লাগিবে মরমে ব্যাথা।
তোরা পর-পতি সনে শয়নে স্বপনে
সতত করিবি লেহা।
তোরা সিনান করিবি নীর না ছুঁইবি
ভাবিনী ভাবের দেহা।।
কহে চন্ডীদাস এমতি হইলে
তবে ত পিরীতি সাজে।
তোরা না হইবি সতী না হবি অসতী
থাকিবি ধরণী মাঝে।
কবি পরিচিতিঃ
নামঃ বড়ু চন্ডীদাস।
জন্ম ও মৃত্যুঃ (আনুমানিক ১৪শ শতক)।
বড়ু চন্ডীদাস নামের এই কবির আসল নাম অনন্ত, কৌলিক উপাধি বড়ু, গুরু প্রদও নাম চন্ডীদাস। জন্মস্থান বাঁকুড়া জেলার ছাতনা, মতান্তরে বীরভূমের নান্নুর। তাঁর রচিত কাব্যের নামপত্র পাওয়া যায়নি। বসন্তরঞ্জন বিদ্বদ্বল্লভ ১৯০৯ সালে বাঁকুড়া-বিষ্ণুপুরের এক গ্রাম থেকে গ্রন্থখানি উদ্ধার করেন এবং ১৩২৩ বঙ্গাব্দে তা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন। তিনি কাব্যটির নামকরণ করেন ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’। চর্যাপদের পরে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনই বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। চন্ডীদাস ভণিতার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যমন্ডিত অসংখ্য পদ পাওয়ার ফলে চন্ডীদাস কয়জনÑ পন্ডিতদের মনে এই প্রশ্ন জাগে। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন এব অন্যান্য বৈষ্ণব পদের ভণিতা, ভাব, ভাষা কাল ও লিপি বিচার করে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ প্রমাণ করেছেন যে, চন্ডীদাস তিনজন: বড়ু চন্ডীদাস, দ্বিজ চন্ডীদাস ও দীন চন্ডীদাস। তবে কারও কারও মতে, চন্ডীদাস নামের কবির সংখ্যা আরও বেশী। বড়ু চন্ডীদাস এঁদের মধ্যে প্রাচীনতম ও চৈতন্য-পূর্ববর্তী।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন নাট্যগীতিকাব্য। প্রধান তিন চরিত্রÑ কৃষ্ণ, রাধা, ও বড়ায়ি-কে আশ্রয় করে এ-কাব্য জন্ম, তাম্বুল, বংশী ও বিরহ ইত্যাদি মোট তের খন্ডে বিন্যস্ত। রাধা-কৃষ্ণের পরিচয় ও প্রণয়ের এই দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় কাহিনীটি, কৃষ্ণ কর্তৃক রাধাকে ত্যাগ ও তজ্জাত রাধার বিরহ-আর্তির মধ্যে দিয়ে পরিসমাপ্তি লাভ করেছে। এই জন্যে বংশী ও বিরহ খন্ডে উচ্ছ্বসিত গীতিময়তার পরিচয় আছে।
সহায়ক গ্রন্থঃ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন: সম্পাদনাÑ বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ; বাংলা সাহিত্যের কথা (দ্বিতীয় খন্ড): মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্; মধ্যযুগের বাংলা গীতিকবিতা: সম্পাদনাÑ মুহম্মদ আবদুল হাই ও আহমদ শরীফ; বড়ু চন্ডীদাসের কাব্য: সম্পাদনাÑ মুহম্মদ আবদুল হাই ও আনোয়ার পাশা; শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য পাঠের ভূমিকা: নীলিমা ইব্রাহিম; বড়ু চন্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন: সম্পাদনাÑ অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৯:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



