এই সিরিজে আমি আমার আমেরিকা আসার অভিজ্ঞতা, সাফল্য-ব্যর্থতা, আনন্দ-বেদনার অভিজ্ঞতা যতটুকু সম্ভব তুলে ধরার চেষ্টা করবো।
যাইহোক, সামুতে যারা আমার প্রথম দিককার লিখাগুলো পড়েছেন বা যারা সামুতে প্রথম দিক থেকেই লিখালিখি করছেন, তারা অনেকেই হয়তো আমার আমেরিকায় আসার বিষয়টি সম্পর্কে জেনে থাকবেন। তারপরেও আমার এই "আমেরিকায় প্রবাস জীবন" সিরিজে পুরো বিষয়গুলোই প্রথম থেকেই লিখার ইচ্ছে রাখছি যাতে নতুন যারা সামুতে এসেছেন, তারাও পুরোপুরি স্পষ্ট ধারণা পেতে পারেন।
ঘটনার শুরুটা হয়েছিলো ২০০৫-এর মাঝামাঝি। বড় ভাইয়া তখন ভারতে তার আন্ডারগ্র্যাড করছেন। আমি তখন ঢাকা সিটি কলেজে বিবিএ পড়ছি। বড় ভাইয়া ছুটিতে দেশে বেড়াতে এলেন, আর আমি তখন সেমিস্টার ফাইনাল নিয়ে ব্যস্ত। এক সকালে নাস্তা করে, আমার প্রাণপ্রিয় মোটরবাইক (বাজাজ পালসার)
ভাইয়া: "এ্যাই, তুই কি কখনো ডিভির জন্য এ্যাপ্লাই করেছিস? তোর নামেতো ইউ.এস এ্যাম্বেসি থেকে কাগজ এসেছে। পরীক্ষা শেষ করে সোজা বাসায় চলে আয়।"
বড় ভাইয়া আমি হ্যালো বলতেই একটানে কথাগুলো বলে ফেললেন।
আমি: কৈ? নাতো?! আমার নামে কাগজ আসবে কোত্থেকে?
ভা্ইয়া: কাগজ এসেছে, পোস্টম্যান বাসায় এসে বসে আছে, বকশিশ চাচ্ছে। মা , ১০০ টাকা দিয়েছে কিন্তু ব্যাটা ১০০০টাকা চাচ্ছে।
আমি: আগে কাগজটা খুলে দেখেন, ডিভির হলে ২০০ টাকা দিয়ে বিদেয় করে দেন। ১০০০টাকা কি হাওয়া থেকে পড়ে নাকি?
ভাইয়া: আচ্ছা ঠিক আছে, দেখি কি করা যায়। তুই পরীক্ষা শেষ করে বাসায় চলে আয়।
আমি: আচ্ছা, স্লামুলাইকুম।
ভাইয়া: ওয়ালাইকুমুসালাম।
ফোনটা রেখে আর রিভাইস করাতে মন বসালাম। ততক্ষণে পরীক্ষার হলে স্যার চলে এসেছেন। রিবাইস আর করা হলোনা।
পরীক্ষা শেষ করে যথারীতি বাসায় ফিরলাম। বাসায় ফিরে কাপড়-চোপড় ছাড়ার আগেই কাগজগুলো নিয়ে বসে বড়লাম। কাগজ নিয়ে খানিকটা নাড়া-চাড়া করার পর যা বুঝলাম, তা হলো, আমাকে ওরা ডিভির প্রসেসিংএর ইনিশিয়াল স্টেজে সিলেক্ট করেছে (অনেকে এটাকে ফার্স্ট লেটারও বলে থাকেন) এবং আমার কাছ থেকে আরো তথ্য চাচ্ছে।
রাতে খাবার টেবিলে বসে বাবার সাথে কথা হচ্ছিলো। বড় ভাইয়া, মা সবাই মতামত দিলেন খুব সম্ভবত কাউসার (আমার ছোট চাচা, তখন নিউ ইয়র্কে ব্লুমবার্গের হেডকোয়ার্টারে ফাইনানশিয়াল এ্যানালিস্ট হিসেবে কর্মরত) এই কাজটা করেছে। সুতরাং কাগজ যেহেতু এসেছে প্রথমে চাচার সাথে কথা বলে বিষয়টা যাচাই করে দেখা দরকার।
পরেরদিন সকালে, চাচার সাথে কথা হলো। বিষয়টা তিনিই নিশ্চিত করলেন। তিনিই জানালেন যে, আমার আর বড় ভাইয়ার হয়ে তিনিই ডিভিতে এ্যাপ্লাই করেছিলেন। স্ক্যান করে, কাগজগুলো পাঠানো হলো চাচার কাছে। সবকিছু ঠিকঠাক মনে হওয়ার পর, যথারীতি কাগজগুলো পূরণ করে, ঢাকা থেকে ডিএইচএল এ কুরিয়ার করে কেন্টাকিটতে পাঠানো হলো।
চলবে....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


