somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমেরিকায় প্রবাস জীবন: পর্ব-১

১৭ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১০:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটু ভূমিকা না দিয়ে এই সিরিজের প্রথম লিখাটা শুরু করতে পারছিনা। কথায় বলে স্বপ্নের দেশ আমেরিকা, এ ল্যান্ড অফ অপরচুয়িনিটি। কথাটা পুরোপুরি না হলেও অনেকটাই সত্য। আর তাই এই অর্থনৈতিক মন্দার সময়েও অনেকেই বিভিন্ন দেশ থেকে আমেরিকায় পাড়ি দেয়ার জন্য অনেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সে কাতারে আমাদের তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো ছাড়াও উন্নত বিশ্বের নাগরিকরাও আছেন। সে বিষয়টা নিয়ে আরো বিস্তারিত অন্য কোন পর্বে লিখার আশা রাখছি।

এই সিরিজে আমি আমার আমেরিকা আসার অভিজ্ঞতা, সাফল্য-ব্যর্থতা, আনন্দ-বেদনার অভিজ্ঞতা যতটুকু সম্ভব তুলে ধরার চেষ্টা করবো।

যাইহোক, সামুতে যারা আমার প্রথম দিককার লিখাগুলো পড়েছেন বা যারা সামুতে প্রথম দিক থেকেই লিখালিখি করছেন, তারা অনেকেই হয়তো আমার আমেরিকায় আসার বিষয়টি সম্পর্কে জেনে থাকবেন। তারপরেও আমার এই "আমেরিকায় প্রবাস জীবন" সিরিজে পুরো বিষয়গুলোই প্রথম থেকেই লিখার ইচ্ছে রাখছি যাতে নতুন যারা সামুতে এসেছেন, তারাও পুরোপুরি স্পষ্ট ধারণা পেতে পারেন।

ঘটনার শুরুটা হয়েছিলো ২০০৫-এর মাঝামাঝি। বড় ভাইয়া তখন ভারতে তার আন্ডারগ্র্যাড করছেন। আমি তখন ঢাকা সিটি কলেজে বিবিএ পড়ছি। বড় ভাইয়া ছুটিতে দেশে বেড়াতে এলেন, আর আমি তখন সেমিস্টার ফাইনাল নিয়ে ব্যস্ত। এক সকালে নাস্তা করে, আমার প্রাণপ্রিয় মোটরবাইক (বাজাজ পালসার) ;) নিয়ে ভো ভো করে কলেজে যাচ্ছি। হঠাৎ সেলফোনটা বেজে উঠলো, কিন্তু কলেজে পরীক্ষা থাকার কারণে রাস্তায় বাইক থামিয়ে ফোনটা ধরিনি। যাইহোক, কলেজে গিয়ে পরীক্ষার হলে বসে পড়লাম। পরীক্ষা শুরু হতে যাবে, চোখে-মুখে অন্ধকার অবস্থা। গোগ্রাসে রিভাইস করছি, আবার ফোন এলো। দেখলাম বড় ভাইয়া ফোন করছেন, কিছুটা বিরক্তি নিয়েই রিসিভ করলাম।

ভাইয়া: "এ্যাই, তুই কি কখনো ডিভির জন্য এ্যাপ্লাই করেছিস? তোর নামেতো ইউ.এস এ্যাম্বেসি থেকে কাগজ এসেছে। পরীক্ষা শেষ করে সোজা বাসায় চলে আয়।"

বড় ভাইয়া আমি হ্যালো বলতেই একটানে কথাগুলো বলে ফেললেন।

আমি: কৈ? নাতো?! আমার নামে কাগজ আসবে কোত্থেকে?

ভা্ইয়া: কাগজ এসেছে, পোস্টম্যান বাসায় এসে বসে আছে, বকশিশ চাচ্ছে। মা , ১০০ টাকা দিয়েছে কিন্তু ব্যাটা ১০০০টাকা চাচ্ছে।

আমি: আগে কাগজটা খুলে দেখেন, ডিভির হলে ২০০ টাকা দিয়ে বিদেয় করে দেন। ১০০০টাকা কি হাওয়া থেকে পড়ে নাকি?

ভাইয়া: আচ্ছা ঠিক আছে, দেখি কি করা যায়। তুই পরীক্ষা শেষ করে বাসায় চলে আয়।

আমি: আচ্ছা, স্লামুলাইকুম।

ভাইয়া: ওয়ালাইকুমুসালাম।

ফোনটা রেখে আর রিভাইস করাতে মন বসালাম। ততক্ষণে পরীক্ষার হলে স্যার চলে এসেছেন। রিবাইস আর করা হলোনা।

পরীক্ষা শেষ করে যথারীতি বাসায় ফিরলাম। বাসায় ফিরে কাপড়-চোপড় ছাড়ার আগেই কাগজগুলো নিয়ে বসে বড়লাম। কাগজ নিয়ে খানিকটা নাড়া-চাড়া করার পর যা বুঝলাম, তা হলো, আমাকে ওরা ডিভির প্রসেসিংএর ইনিশিয়াল স্টেজে সিলেক্ট করেছে (অনেকে এটাকে ফার্স্ট লেটারও বলে থাকেন) এবং আমার কাছ থেকে আরো তথ্য চাচ্ছে।

রাতে খাবার টেবিলে বসে বাবার সাথে কথা হচ্ছিলো। বড় ভাইয়া, মা সবাই মতামত দিলেন খুব সম্ভবত কাউসার (আমার ছোট চাচা, তখন নিউ ইয়র্কে ব্লুমবার্গের হেডকোয়ার্টারে ফাইনানশিয়াল এ্যানালিস্ট হিসেবে কর্মরত) এই কাজটা করেছে। সুতরাং কাগজ যেহেতু এসেছে প্রথমে চাচার সাথে কথা বলে বিষয়টা যাচাই করে দেখা দরকার।

পরেরদিন সকালে, চাচার সাথে কথা হলো। বিষয়টা তিনিই নিশ্চিত করলেন। তিনিই জানালেন যে, আমার আর বড় ভাইয়ার হয়ে তিনিই ডিভিতে এ্যাপ্লাই করেছিলেন। স্ক্যান করে, কাগজগুলো পাঠানো হলো চাচার কাছে। সবকিছু ঠিকঠাক মনে হওয়ার পর, যথারীতি কাগজগুলো পূরণ করে, ঢাকা থেকে ডিএইচএল এ কুরিয়ার করে কেন্টাকিটতে পাঠানো হলো।

চলবে....
৫টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সিটিজেন ভিজিল্যান্টি থেকে কালেমার মিছিল: সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কতগুলো অশনি সংকেত - প্রথম পর্ব

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮


গত মাসে আমেরিকায় "সিটিজেন ভিজিল্যান্টি" নামে মুসলিম ও অভিবাসীবিদ্বেষী একটি সিনেমা মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি প্রথমদিকে দর্শকদের মধ্যে তেমন জনপ্রিয় হয়নি। পরে যখন ইলন মাস্ক এক্স প্ল্যাটফর্মে তার ২৪ কোটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

'গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড' আন্দোলন কেন ব্যর্থ হলো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



মাও সে তুং-এর গৃহীত "গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড" (১৯৫৮-১৯৬০) আন্দোলনটি মূলত অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা, চরম অব্যবস্থাপনা এবং ভুল কৃষি নীতির কারণে মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ ফিরতে পারে, তবে…

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২০




১। ২০১২ থেকে সংঘটিত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১২ বছরের গু/ম, খু/ন, অ*পশাসন, গণতন্ত্র হ*ত্যা, নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বং*স, দুর্নী*তি, বাকস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার হরণের মাত্রা এমন চরমই ছিল যে, শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা-গান-খেলাধুলা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ২:১৭

আইন সমাজ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নয়। আইন দৃশ্যমান, প্রতিরোধযোগ্য। সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো মানুষকে নিজেই নিজের আনন্দ নিষিদ্ধ করতে শেখানো। জীবন থেকে আনন্দের উচ্ছেদ ঘটানো। এই কাজটি বাংলাদেশে গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:৫০


জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×