somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হিসেব কষে প্রেমে পড়িনি কখন:পার্নো মিত্র

১৯ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১০:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমার জীবনে প্রেম এসেছে খুব স্বাভাবিক নিয়মে। খুব চেয়েচিন্তে, হিসেব কষে প্রেমে পড়িনি কখনও।


ক্লাস সিক্সে প্রথম প্রেমে পড়ি। ছেলেটি আমার থেকে বছর চারেকের বড় ছিল। টেনে পড়ত। সেন্ট জেমসে। আমি পড়তাম প্র্যাট মেমোরিয়ালে। একই স্কুল বাসে বাড়ি ফিরতাম। ও ছিল ওয়ান অফ দ্য মোস্ট ওয়ান্টেড গাইজ ইন হিজ স্কুল। গুড লুকিং, হ্যাণ্ডসাম। অনেকেরই ওকে পছন্দ ছিল। আমারও ওর ওপর ক্রাশ ছিল। ক্রাশটা যে কখন রিলেশনশিপে পরিণত হল, সেটা ঠিক বুঝতে পারিনি।

ব্যাপারটা বেশ মজার ছিল। কচি বয়সের প্রেম তো। আমার এক ক্লাসমেট ওরও খুব ভাল বন্ধু ছিল। মানে তাকে বোন বলত ও। আমার সেই বান্ধবী ওকে গিয়ে বলে, পার্নো লাইকস ইউ, হ্যানত্যান। তো ছেলেটা হঠাৎ এক দিন ফোন করে বসল। বাড়িতে। ল্যাণ্ডলাইনে।

তখন আমার ম্যাথস টিচার এসেছিলেন পড়াতে। নীচে বসেছিলেন। আর ওপরের ঘরে ফোন। আমি গেলাম ওপরে। কে ফোন করেছে তখনও জানতামই না। যেই ফোন ধরে হ্যালো বলেছি, ও দিক থেকে বলে ‘হাই দিস ইজ ধ্রুব’। শুনে তো আমার হাত থেকে ফোন পড়ে যাওয়ার জোগাড়। বাবারে! আমার হার্ট অত জোরে বোধ হয় আর কোনও দিন বিট করেনি। উফফফ্‌। আমি ভয়ের চোটে ‘কিছু না কিছু না। আই হ্যাভ টু গো,’ বলে ফোন-টোন ফেলে সোজা দৌড়ে।

তার পর আস্তে আস্তে সম্পর্কটা গাঢ় হল। ও ক্লাস টেন দিল। আমার সঙ্গে দেখা হল। কথা হল। তখন আর আগের মতো নার্ভাস লাগত না আমারও। আমাদের সম্পর্কটা পাঁচ বছর ছিল। আমার এই টিনেজ লাভ আমার কাছে খুব প্রিয়। এখনও যখন আমার স্কুলের বন্ধুরা দেখা করি, ওরা বলে আমরা ভেবেছিলাম তোর আর ধ্রুবর বিয়ে হবে। আমি বলি, ‘হয়নি তো দেখতেই পাচ্ছিস। অ্যাণ্ড আই ডোন্ট রিপেন্ট ফর দ্যাট। কিছু করার নেই।’ কলেজে গিয়ে ওর কিছু আজেবাজে বন্ধু হল।


অন্য একটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক হল। আমার সঙ্গে ব্রেক আপ। মন খারাপ হয়েছিল। তবে বিচ্ছেদটা মেনে নিতেও সমস্যা হয়নি তেমন করে।

গত বছর ওর বিয়ে হয়েছে। এখনও মাঝেমাঝে ফোন করে। বলে কেমন আছো। সম্প্রতি আমার অপারেশন হল। ও ফোন করে খবর নিল। ফরম্যাল একটা রিলেশন এখনও আছে। ব্যস।

আমার জীবনে এর পরে অন্য একটি ছেলে এল। মুজাম্মল মুস্তাক ভাট। হোটেল ম্যানেজমেন্ট পড়ত। ও মডেলিং করতে চেয়েছিল বলে আমার সঙ্গে এক জন ওর আলাপ করিয়ে দিয়েছিল। আমার সঙ্গে ফোনে ওর প্রথম কথা হয়েছিল। আমি ওকে বলেছিলাম, ‘ইউ ড্রেস আপ প্রপারলি, ওকে?’। ওর এই কথাটা ইগোতে লেগেছিল। যাই হোক, সামনে আসতে দেখলাম বেশ সুপুরুষ। পুরো যুগল হংসরাজের মতো দেখতে। প্রথমে কিন্তু ভাললাগা বা ক্রাশ ছিল না। আমরা বন্ধু হয়ে উঠি। তার পর প্রেম। ওর সঙ্গে সম্পর্কটা আড়াই বছর চলল। সম্পর্ক গড়ে ওঠার এক বছরের মধ্যেই ও মুম্বই চলে গেছিল। পরে ও কাশ্মীর চলে গেল। তার পর দুবাই। লং ডিসট্যান্স রিলেশনে যে সমস্যাগুলো হয় সেগুলো আমাদেরও হতে লাগল। তার ওপর ও আমার পেশার বিরোধী ছিল। আমাদের ধর্মটাও আলাদা ছিল। সম্পর্কটা ওয়র্ক আউট করল না।

আমার জীবনে এখনও পর্যন্ত সব ক’টা সম্পর্ক খুব গভীর এবং সিরিয়াস ছিল। এমন নয় যে ক্রাশটাই ক্রাশড হয়ে গেল। এগোল না। এমন নয় যে আমি সব সময় খুব সুন্দর দেখতে ছেলেদেরই প্রেমে পড়ি। মানুষটা ভাল হওয়া খুব জরুরি। আলটিমেটলি তো ভিতরের মনটা, সত্তাটাই ম্যাটার করে। লুকটা নয়। মানুষটার মূল্যবোধ, জীবনদর্শন খুব ভাইটাল।

আমি খুব কমিটেড পার্সন। যত দিন যে রিলেশনটা চলেছে, তত দিন আমি সেই ছেলেটির প্রতি অসম্ভব কমিটেড থেকেছি। বিশ্বস্ত থেকেছি। আর কারও দিকে এক বারের জন্য ঘুরে তাকাইনি। অন্য কারও সঙ্গে ফ্লার্টও করিনি।



তবে এখনও আমার যত বয়ফ্রেণ্ড হয়েছে, তারা সকলেই বেশ সুপুরুষ। মুজাম্মলের সঙ্গে ব্রেক হওয়ার পরে আমি বেশ কিছু দিন সিঙ্গল ছিলাম। কেরিয়ার নিয়ে ব্যস্ত।

তার পর নিকির সঙ্গে আলাপ। ও মুম্বইয়ের ছেলে। আমার তৃতীয় বয়ফ্রেণ্ড। নিকির সঙ্গে প্রথম থেকেই সম্পর্কটা ছিল বন্ধুর মতো। এখন ব্রেক আপ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু বন্ধুত্বটা অটুট আছে।

আমার জীবনে কোনও সম্পর্ক ভেঙে গেলেও বন্ধুত্বটা ভাঙেনি। কোনও রকম তিক্ততা আসেনি পারস্পরিক আদানপ্রদানের ক্ষেত্রে। নিকিকে আমি এখনও বলি, আমার জন্য একটা ফিল্ম তৈরি

কর না। ও বলে ‘হাঁ জরুর। উসমে হিরোইন তেরেকো হি লেঙ্গে। অউর হিরো সোচ রাহা হুঁ, রণবীর কপূর ঠিক রহেগা।’ সম্পর্ক শেষ মানে বন্ধুত্ব শেষ নয়, আমার জন্য। রাস্তা বদলে গেলেও আমরা খুব খুশি, নিজেদের মতো করে। যে যার মতো, যে যার জীবনে।

সম্প্রতি আমি আমেরিকা বেড়াতে গিয়েছিলাম। তিন মাস ছিলাম। ওখানে গিয়ে আমার অনেক ছেলেকে ভাল লেগেছে। পাকিস্তানি ছেলেদের কী সুন্দর দেখতে। রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলাম। কেউ কেউ বলল, হাই বিউটিফুল। এত রোমান্টিক। এত দারুণ লাগে। এখানে কখনও রাস্তা দিয়ে হাঁটলে এমন কমেন্ট শুনতে পাওয়া যায় না। আমেরিকাতে অবশ্য আমার এক জন স্পেশাল বন্ধু আছে। তার বিষয়ে আর কিছু এখন না-ই
বললাম। তবে অনেকের ধারণা, আমার সঙ্গে ক্রিকেটার রণদেব বসুর অ্যাফেয়ার চলছে। বিশ্বাস করুন, তেমন কিচ্ছু নেই। আমরা বন্ধু। এর বেশি কিচ্ছু নেই। আমার জীবনে বন্ধুদের একটা আলাদা জায়গা আছে। রণ আমার তেমনই এক বন্ধু। আমার প্রচুর বন্ধু আছে। আই লাইক মেকিং ফ্রেণ্ডস।

আমি বিয়েও করতে চাই। সেটল করতে চাই। অ্যাম আ বিগ বিলিভার ইন ম্যারেজ। আমি ইনস্টিটিউশনটাকে রেসপেক্ট করি। কবে বিয়ে করব, এই মুহূর্তে জানি না। তবে করব। গয়নাগাটি পরে, টিপিক্যাল বউ সেজে...। বিয়ে খুব বড় একটা দায়িত্ব, খুব বড় কমিটমেন্ট। সেটার জন্য নিজেকে তৈরি করার দরকারও আছে। আমার খুব ইচ্ছে বিয়ে করার। তবে প্রোফেশনাল জগতে আমি কারও প্রেমে পড়িনি। ইণ্ডাষ্ট্রির জায়গাটা কাজের। কলিগদের সঙ্গে


আমার টার্মস খুব ভাল। তার বেশি নয়। অভিনয়ের বাইরে বাইরেও আমার একটা জীবন আছে। সেটা ব্যক্তিগত। সেটা থেকেও আমি বাঁচার রসদ পাই। চাওয়া-পাওয়া ব্যালান্স করে চলি।

সাক্ষাৎকার: শমীককুমার ঘোষ
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যে কারনে কুরআনকে স্রষ্টা পদত্ত বিধান বলা যায় না (পর্ব-৩)

লিখেছেন সজা১২৩, ২২ শে মে, ২০১৫ রাত ৮:২৪

আল কুরআন বলে সকল কাফের, মুশরিক, ও পাপিষ্ঠ মুসলিমদের পরকালে জাহান্নামে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি ভোগ করতে হবে। কতকাল জাহান্নামে থাকতে হবে? কুরআন বলে অনন্তকাল। অনন্তকালের অর্থ কি? অনন্তকাল মানে যার শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিলো ফ্লাইটঃ মেঘ ফুড়ে ওরা এসেছিলো বজ্র হয়ে - (Kilo Flight: They Were The Fire From The Clouds)!!

লিখেছেন শতদ্রু একটি নদী..., ২২ শে মে, ২০১৫ রাত ৮:২৭


নভেম্বর (দ্বিতীয় সপ্তাহ), ১৯৭০
রাওয়ালপিন্ডি, পশ্চিম পাকিস্তান

ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শামসুল আলম বর্তমানে সি-১৩০ ট্রান্সপোর্ট স্কোয়াড্রনে কর্মরত, পোস্টিং রাওয়ালপিন্ডিতে। ১২ নভেম্বরের ভয়াবহ ঘূর্নিঝড় আর জ্বলোচ্ছাসের (ভোলা সাইক্লোন) পর উনারা যারা পশ্চিমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনযুদ্ধ

লিখেছেন এম সহিদুজ্জামান, ২২ শে মে, ২০১৫ রাত ৮:৫৪

বাড়ি থেকে ঢাকা আসলাম মার্চ মাসের ৩১ তারিখ । তিনদিন এর বাসা ওর বাসা ঘুরে অবশেষে একটা মেসে উঠলাম এপ্রিল এর ৩ তারিখ । শুরু হল ঢাকার জীবন । চাকরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

জগাখিচুড়ী-২

লিখেছেন উর্বি, ২২ শে মে, ২০১৫ রাত ১০:০৫


আহেম! আহেম!
হইল কিছু একটা কি!!!! :3
Tom হাসতেসে কেন! :P ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিত্যাক্ত দেশের সকল জন সাধারণরাই ।

লিখেছেন ***মহারাজ***, ২২ শে মে, ২০১৫ রাত ১০:৫৫


পরিত্যাক্ত দেহ আমার
পরিত্যাক্ত মন
পরিত্যাক্ত ভরা আমার এ জীবন ।
পরিত্যাক্ত আমার প্রতিটি কথা
পরিত্যাক্ত আমার জীবনের প্রতিটি ব্যাথা ।
পরিত্যাক্ত দেশে নয়
পরিত্যাক্ত আপনি আমি আমরাই
পরিত্যাক্ত দেশের সকল জন... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭০ আইটেম এর ভর্তার হোটেল - নাম হয়তো শুনেছেন, গিয়েছেন কখনো? (ভিডিও ব্লগ)

লিখেছেন লাবিব ইত্তিহাদুল, ২২ শে মে, ২০১৫ রাত ১১:৩৫



এই হোটেল এর নাম শুনেন নি এমন মানুষ অনেক কম। এত এত ভর্তা! যেগুলোর অনেক গুলোর নাম তো দূরের কথা, কল্পনাও করা যায় না। তো, গিয়েছিলাম সেই হোটেলে। দাম ও... ...বাকিটুকু পড়ুন