somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শয়তানের একসপ্তাহ

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দৃশ্য ১:

আজ ছিল শয়তানের স্বর্গ হইতে বিতারণের অষ্টম মহাবর্ষপুর্তি। স্বর্গের স্মৃতি মনে পড়তেই তাঁহার মনটা হাহাকার করিয়া উঠিল। কত আনন্দেই না তাহার জীবন কাটিয়া যাচ্ছিল স্বর্গে। শরাবন তহুরার সমূদ্রে সার্ফিং করিতে করিতে আর সদা যৌবনবতী, অনিন্দ্যসুন্দরী, বিশালবক্ষা অপ্সরীদের সহিত ম্যারাথন গ্রুপ সেক্স করিতে করিতে তাহার খেয়ালই ছিল না কবে মহামহিম প্রভুর সুনজর তাহার ওপর হতে সরিয়া গিয়াছে। প্রভুর আবার এসকল ছোট খাট বিষয়ের প্রতি আগ্রহ নাই। তাহার আনন্দ নব নব গ্যালাক্সি, নক্ষত্র, নীহারিকা, গ্রহ-উপগ্রহ নিয়া খেলাধুলায়। এত এত খেলনা নিয়া খেলিতে খেলিতে তাঁহারও বিরক্তি আসিয়া গেল। তিনি তৈরী করিলেন নির্মল বিনোদনের এক অদ্ভুত জীব, আদম। আদমকে অপ্সরীদের ভাগ দিতে হইবে ভাবিতেই হিংসায় তাহার মন বিষিয়ে উঠিল। এর পরের ঘটনা সকলেরই জ্ঞাত। নিজের নাক কাটিয়া পরের যাত্রা ভঙ্গ করিবার এই দৃষ্টান্ত যুগে যুগে বহুবার অনুসৃত হইয়াছে। এই দু:খের দিনে অপ্সরী বিরহে মন কাতর হইলেও আদম সন্তানদিগের নারী নামক প্রতি-অপ্সরী নিয়া নরকগুজার করার কথা ভাবিতেই তাহার মন শান্তনার পরশে প্রশান্ত হইলো। বিশেষ দিবসখানা কি করিয়া পালন করা যায় তাহা নিয়া ভাবিতে লাগিলেন তিনি।

দৃশ্য ২:
বৃহস্পতি গ্রহের ডেভিলস ডেন নামক অনাবিস্কৃত উপগ্রহে গোপন বৈঠকে অনুসারীদের সাথে মিলিত হইলেন শয়তান। স্বর্গচ্যুতি দিবসে বিশেষ ঘোষনা দিলেন, আজ যে সাগরেদ আদম সন্তানদের দ্বারা যত বেশি অপকর্ম করাইতে পারিবে তাহার জন্য রহিয়াছে বিশেষ পুরস্কার। বিশেষভাবে খেয়াল রাখিতে হইবে যেন আদম সন্তানেরা নামাজ আদায় ও কোরআন পাঠ হইতে দূরে থাকে, বেশি করিয়া পর্ণোগ্রাফি দেখে আর গালাগালিতে লিপ্ত হয়। বিশেষত কোরআন পাঠের পরিমান বেশি হইলে শয়তান দূর্বল অনুভব করিয়া থাকেন, তাহার মাথা ঘুড়ায়, বমি বমি ভাব অনুভুত হয়।

দৃশ্য ৩:

দিনশেষে ডেভিলস ডেনে হিসাব নিকাশ চলিতেছে।

একজন বলিলো, আমি অনেক বড় একখানা কাজ করিয়াছি। আমি মাওলানা সাজিয়া জ্বালাময়ী ভাষন দিয়া একপাল মুসলমান আস্তিককে পেটে বোমা বাধিয়া অমুসলিমদের ওপর ঝাপাইয়া পরিতে উৎসাহিত করিয়াছি। শয়তান মোটামুটি খুশি হইয়া তাহাকে একলক্ষ এন্টি-নেকী উপহার দিলেন।

আরেকজন বলিলো, মাওলানা সাজিয়া আমি এক পঞ্চাশ বছরের বৃদ্ধকে চতুর্থ স্ত্রী হিসেবে দশ বছরের বালিকাকে বিবাহ করিতে উৎসাহিত করিয়াছি। বালিকার কষ্টের কথা ভাবিয়া একটু বিচলিত হইতেই শয়তানের মনে পড়িলো, তিনি শয়তান। সাগরেদকে তিনলক্ষ এন্টি-নেকী দিয়া বিদায় করিলেন।

আরেকজনা বলিলো, মাওলানা সাজিয়া আমি নাস্তিকের রক্ত হালাল বলিয়া ফতোয়া দিয়াছি। ইতোমধ্যে আস্তিকেরা চারখানা লাশ ফালাইয়া দিয়াছে। শয়তান নিজের ভলান্টিয়ার অনুসারী হিসেবে নাস্তিকদের ভালো পায়। ইহারা স্বত:প্রনোদিত হইয়া ঈমানদারের ঈমানের সাথে জেহাদে লাগিয়া থাকে। নিজের দলভুক্তদের হারাইয়া শয়তান ক্ষুব্ধ হইয়া সাগরেদকে বকাঝকা করিয়া তাড়াইয়া দিলেন।

সর্বশেষে একজন দুরু-দুরু বক্ষে বলিলেন, পৃথিবীতে গিয়া ক্যাটরিনার নৃত্য দেখিয়া এতই বিমোহিত হইয়া পড়িয়াছিলাম যে কাজের কথা ভুলিয়াই গিয়াছিলাম। অবশেষে যখন মনে পড়িলো, তখন তড়িঘড়ি করিয়া জনৈক নাস্তিকের পকেটে আগামি মাসের ইন্টারনেট বিল বাবদ একহাজার টাকা পুড়িয়া দিয়া আসিলাম। শয়তান তাহার সাগরেদের দুরদৃষ্টিতে মুগ্ধ হইয়া বায়ান্ন লক্ষ এন্টি-নেকী উপহার দিলেন, যাহার বিনিময়ে পরকালে তিনি ৭২ খানা নারী অর্থাৎ এন্টি-অপ্সরীর ওপর ছড়ি ঘুড়াইতে পারিবেন।

দৃশ্য ৪: পরেরদিন।
ঘুম থেকে উঠিয়াই শয়তান নিজেকে আরো শক্তিশালী বোধ করিতে লাগিলেন। শয়তান তাহার ড্যাশবোর্ডে দেখিতে পাইলেন যে, আজ পাঁচজন নিয়মিত নামাজি ব্লগার ফজরের নামাজ ফাঁকি দিয়া সামহোয়্যারইন ব্লগে ব্লগিংএ ব্যাস্ত রহিয়াছিল, কেউ কেউ জীবনে প্রথমবারের মত গালাগালিতেও অংশ নিয়াছিল।

দৃশ্য ৫: দুইদিন পর।
আজ শয়তান আরো শক্তি অনুভব করিতে করিতে ঘুম থেকে উঠিলেন। ড্যাশবোর্ডে দেখিলেন, আজ ফজরের নামাজ ফাঁকি দেয়া ব্লগারের সংখ্যা ১৩ তে পৌছাইয়াছে। ইহাদের মধ্যে দুইজন আবার ব্রাউজারের আরেক ট্যাবে ই্যুট্যুবে ক্যাটরিনার "শিলা কি জাওয়ানি" ও দেখিয়াছে এবং ফেসবুকে শেয়ার দিয়াছে।

দৃশ্য ৬: চতুর্থদিন।
আজকের মত আনন্দ নিয়া আগে কোনদিন ঘুম ভাঙিয়াছে বলিয়া মনে পড়িলো না। গালির ফোয়াড়া ছুটেছে আজ ব্লগে।

দৃশ্য ৫: পঞ্চমদিন।
আজ কিন্চিৎ দুর্বল অনুভূত হচ্ছে। বিতর্কে সুবিধা করার জন্য আস্তিক ব্লগাররা কোরআন পাঠ শুরু করিয়াছেন।

দৃশ্য ৬: সপ্তমদিন।
আজ এতটাই দুর্বল অনুভুত হইতেছে যে, অবিনশ্বর শয়তানেরও মনে হইলো তাহার আয়ূ বেশি নাই। খোঁজ নিয়া দেখিলেন, ব্লগের আস্তিকরাতো বটেই, নাস্তিকেরাও পবিত্র কোরআনের বাংলা, ইংরেজী, আরবী ভার্সন ডাউনলোডাইয়া একজোগে পাঠ শুরু করিয়াছে। পবিত্র কোরআনের শক্তিতে দুর্বল হইয়া পরিয়াছে মহাপরাক্রমশালী শয়তান।

অবস্থা দেখিয়া প্রথমে ভড়কাইয়া গেলেও একটু পরেই সম্বিত ফিরে পেলেন তিনি। জরূরী সভা ডাকিয়া যে শয়তান নাস্তিককে ইন্টারনেটের পয়সা দিয়াছিল তাহাকে ১০০১ খানা দোর্রা মারার নির্দেশ দিলেন, এবং ঘোষনা দিলেন, যে যত নাস্তিককে আস্তিক বানাইতে পারিবে তাহাকে ততগুলা এন্টি-অপ্সরী বেশি দেয়া হইবে।

দৃশ্য ৭:
অতপর: পৃথিবী হইতে নাস্তিকতা চিরদিনের জন্য বিলুপ্ত হইলো। আস্তিকেরা গনিমতের মাল ভাগবাটোয়ারা করিয়া সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিলো। শয়তান মুখে হাসি ফিরিল।


মোরাল:

তোমরা কি দেখোনা, কি করিয়া কাকপাখি উড়িয়া চলে, হাগিতে হাগিতে? মিস করে না একটি দিনও। কেমন করিয়া ম্যাৎকার করে ছাগুর পাল, যাহার কম্পনে শ্রবণেন্দ্রীয় হয় বিমোহিত। নাস্তিকের প্ররোচনায় হয় কোরআন পাঠ, আস্তিকেরা করে নতুন পাঠোদ্ধার। শয়তান ফিরায়ে দেয় নাস্তিকের ঈমান।অতপর: তোমরা তাহার কোন অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে?


টীকা:

১. স্বর্গ: এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির তৃতীয় সর্পিলাকার বাহুর ভিতরের দিকে অবস্থিত এম-এক্স-৭ নামক নক্ষত্রের চারিদিকে ঘুর্নায়মান ৭ খানা গ্রহের প্রত্যেকটাকে স্বর্গ বলা হইয়া থাকে।
২. মহাবর্ষ: মহাজাগতিক বছর আর পৃথিবীর বছর এক নয়। মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সি খোদার আরশের চারিদিকে একবার ঘুরে আসতে যত সময় লাগে তা এক মহাজাগতিক বর্ষ বা মহাবর্ষ)।

বি. দ্র: ঘোষনা দিয়াছি আস্তিক-নাস্তিক বিতর্ক এড়াইয়া চলিবো। ইহা একটি ফানপোস্ট।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১:০৪
১০টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×