somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মায়াবতী...so what বলার মুদ্রাদোষটা কি এখনো আছে তোমার?

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ২:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ তনুষার কথা অনেক দিন পরে মনে পড়ল। এটা খুব অদ্ভুত একটা ব্যাপার। একটা সময় ছিলো যখন সারাক্ষন ওকেই ভাবতাম, অথচ আজ? হায়রে আমার মন, তোকে তো আমিই চিনলাম না এখনো।

তনুষার সাথে আমার প্রথম দেখা এবং প্রথম পরিচয় দুটোই হয় ঝিগাতলা বিটস ইউনোভাসির্টির আন্ডারগ্রাউন্ড সাইবার ক্যাফেতে।
সালটা ছিল ২০০০। ঢাকা সিটি কলেজে সবে ইন্টারে ভর্তি হয়েছি। চোখে মুখে নানা রঙ্গের ঝিলিক। কম্পিউটার স্যার তানিম আহমেদই প্রথম ক্যাফের খোঁজটা দিলেন। বাংলাদেশে সাইবার ক্যাফে, ইন্টারনেট এইসব তখনও এতটা জনপ্রিয় হয়নি। বাসায় কম্পিউটার ছিল অনেক আগে থেকেই কিন্তু ইন্টারনেটের জন্য ক্যাফেতে যেতে হত। খুজেঁ পেতে ঐ ছিমছাম ক্যাফেটা খুঁজে পেয়েছিলাম।

ওর সাথে আমার পরিচয় পর্বটা অত্যন্ত নাটকীয়। কাকতালীয় বল্লেও বলা যায়। বল্লে হয়ত কেউ বিশ্বাস করতে চাইবে না।
ক্যাফেতে তেমন জরুরী কোন কাজ ছিল না। নিতান্তই ব্রাউজ আর চ্যাট করার জন্য যাওয়া হত। একদিন বাংলাদেশ রুমে গিয়ে 'মায়াবতী' নামে একজনকে পেলাম। আর পায় কে? নক করে ধুমায়া আড্ডা !

আমার পাশে খুব সুন্দর ড্রেস পরা একটা মেয়ে বসে ছিলো, চেহারা দেখা যাচ্ছিল না, তাই খেয়াল করিনি প্রথমে। কিছুক্ষন পর হঠাৎ সেখানে একটা ছন্দমিল লক্ষ্য করলাম। যাচাই করে নিতে আমি মায়াবতীকে একটা প্রশ্ন করে মেয়েটার দিকে তাকালাম, দেখলাম ও মনিটরের দিকে একবার তাকিয়েই টাইপ করা শুরু করল। আবার আমি যখন টাইপ করছিলাম তখন আড়চোখে ওকে দেখি যে ও চুপ করে বসে আছে। সাহস করে উঠে গিয়ে জিগ্গেস করলাম-'এক্সকিউজ মি, আপনি কি মায়াবতী?'
মেয়েটা অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে ছিলো অনেকক্ষন। সেই প্রথম আমার মায়াবতীর অসম্ভব মায়াময় মুখটা দেখলাম। সেই থেকে শুরু।

আমরা পরস্পরের কাছে ধীরে ধীরে পরিচিত হতে থাকলাম। জানলাম, বনেদী বংশের মেয়ে ও, বা-মার একমাত্র মেয়ে। আর আছে এক ভাই, কানাডা সেটেলড। ব্যাঙ্গালোরে থাকে ওদের বেশীর ভাগ আত্নীয় স্বজন। ও হলি ক্রসে পড়ত। আমার চেয়ে বড় ছিলো ও। বয়সে প্রায় ৩ মাসের আর দৈর্ঘ্যে প্রায় ইন্চিখানেক।

মেয়েদের আর্কষন করার মত আমার ভেতর কিছুই নেই। কিন্তু কোন এক অজানা কারনে ও আমাকে ভীষন আপন করে নিল। এদেশে ওর কোন বন্ধু ছিলো না এটা একটা কারন হতে পারে। তবে, আমার পরে ও আর কারো সাথে কোন প্রকারের সম্পর্কে জড়ায়নি। সে হিসেবে বাংলাদেশে আমিই ওর একমাত্র বন্ধু ছিলাম।

কতদিন ধানমন্ডি লেকের পাড় দিয়ে দুজনে হেটেঁ বেড়িয়েছি; রাইফেল স্কয়ারে ঘুরে বেড়িয়েছি। বিটসে আর ব্লু প্লানেটেও যেতাম প্রায়ই। পাবলিক লাইব্রেরীতেও যেতাম, তবে ঘুরে বেড়াতে নয়। এ্যাসাইনমেন্টের জন্য।
বেগম রোকেয়া মিলনায়তনে আমার একটা স্টেজ শোতে ওকে দাওয়াত করেছিলাম। ওদের করলাটা নিয়ে গুলশান থেকে নিজে ড্রাইভ করে একা একা শাহবাগ চলে এল!

ওকে বলেছিলাম সামনের রোতে না বসার জন্য। ও সেটা বেমালুম ভুলে গেল। আমাকে ভাল করে দেখার জন্য বসল একেবারে সামনের সারিতেই। ফলে যা হবার তাই হল। ওর উপর চোখ আটকে গেল। উত্তরনের কর্ণধার ইরাজ ভাই পর্দার আড়াল থেকে তাগাদা দিতে লাগল- 'প্রলয় কি হল? শুরু কর।' যখন ধাত্স্থ হলাম, তখন আমি ভীষণ নার্ভাস। গীটারের রিড উল্টা পাল্টা করে ফেল্লাম। গানের লাইন ভুল গেলাম। ও সেটা বুঝতে পেরে মাঝের সারিতে গিয়ে বসল। আমার তাতে কোন লাভ হল না।

শো শেষে বাইরে বেরিয়ে অনেকক্ষন ওর গাড়িতে চুপচাপ বসে ছিলাম। ও -ও কোন কথা না বলে গাড়িটা ফুলার রোডের শেষ মাথায় এনে পার্ক করে মাথা নিচু করে বল্ল- 'সরি প্রলয়, সব দোষ আমার, আমি ভুলে গিয়েছিলাম।' আমার মুখ দিয়ে তখনও কোন কথা বের হয়নি।
কতদিন আগের কথা, অথচ মনে হয় এইতো সেদিন!

আশুলিয়ায় আমাদের অসম্ভব নির্জন একটা বটতলা ছিল। ওখানে আমাদের অনেক মজার মজার স্মৃতি ছিলো। বট তলায় বসে ও আমাকে প্রায়ই ওর ছোটবেলার অনেক ঘটনা আনমনে বলে যেত। সেসব শুনে প্রতিবারই আমি খুব কৌতুহলী হয়ে ওকে প্রশ্ন করতাম -'তনু, তোমার সেই সোনার চামচটা এখন কই?' ও অবাক হয়ে তাকালে আমি বলতাম -'আরে ঐ যে, যেটা মুখে নিয়ে তুমি জন্মেছিলে।' ও হাসতে হাসতে উল্টে পড়ত।

একদিন সেই বটতলার বটকে সাক্ষী করে আমার সাথে ওর চুক্তি হল যে ওকে আমি গিটার শিখাবো, তার বদলে ও আমাকে ড্রাইভিং শিখাবে। ও বল্ল,
-দেখ আবার চুক্তি যেন ভঙ্গ না হয়!
-হলে কি হবে?
-উমম...বটগাছকে সাক্ষী করে চুক্তি করে সেটা ভঙ্গ করলে তুমিও বটগাছ হয়ে যাবে!
-তাই নাকি?
-জ্বি স্যার, এটাই নিয়ম।
-বাহ সুন্দর নিয়ম তো! তাহলে চলনা, আমাদের চুক্তিটা বিল গেটসকে সাক্ষী রেখে করি, প্লিজ!

ও হাসতে হাসতে কুটিপাটি হয়ে যেত।
চলবে







সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:২৯
৩০টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×