somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্মাচরণ ও বাঙ্‌লাদেশ - ২

২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেড়প্রস্থ খাওয়া শেষে যেই না একটু আরাম করে বসেছি সোফায়, আবার পরে গেলাম ব্যারিষ্টার সাহেবের সামনে। আসলে উনিই চলে এলেন, কি যেন খুঁজছিলেন, এবার আমিই যেচে তাকে বসতে বললাম পাশে। আশ-পাশের উৎসুক দু’এক জনের কানের রেডার লক্ষ্যস্থির করেছে আমাদের মৃদু আলাপচারিতায়। ফিরে যাই ওনার প্রথম প্রশ্নে - বাংলাদেশে বেশিরভাগ মানুষ মুসলমান, তারা যদি চান তো সরকারের বাধা কোথায় ইসলামী আইন-কানুন প্রচলন করতে? আমিও তাই বলি, সমস্যা তো কোথাও নেই। কিন্তু ঐ যে, একটা বিরাট যদি আছে এই প্রশ্নে। মানুষের চাইতে হবে, হিযবুত তাহিরীর বা হরকাতুল মুজাহিদীন চাইলে হবে না। মানুষকেই চাইতে হবে। এই যে শতকরা ৮০’র ওপর মানুষ মুসলমান, তারা কি চায়? চুরি করলে কব্জি কেটে দেয়া হোক? নাকি স্বামীর সাথে তালাক হলে স্ত্রীকে আরেক পুরুষের সাথে সহবাস-সমেত বিয়ে ও তালাক পূর্বক আগের স্বামীর সাথে আবার বিয়ে হোক? ইসলামী কানুনের নামে উন্মত্ত রাজতন্ত্র চালু হোক? ধর্মের লেবাস পরে মানুষ দেড় হাজার বছর আগের যুগে ফিরে যাক? না মানুষ তা চায় না। পরিষ্কারভাবেই মানুষ তা চায় না, এবং এই মানুষ লঘুভাগের ২০ শতাংশ মানুষ না, ঐ ৮০ শতাংশই। মানুষ ইসলামী-হিন্দু-খ্রীষ্ট কোন ধর্মীয় আইনই চায়না বলেই বাংলাদেশে ধর্মীয় আইন নেই। এতক্ষনে আবার কথা বলে উঠলেন ব্যারিস্টার সাহেব, “কেন? মুসলিম বিবাহ আইন? উত্তরাধিকার আইন?” হ্যাঁ ঠিক বলেছেন, ঐ আইনসমূহের অস্তিত্ব আছে সত্যি, কিন্তু ওগুলো তো সার্বজনীন আইন নয়। কখনো শুনেছেন, হিন্দু ছেলে-মেয়ের বিয়ে হয়েছে মুসলিম আইনে? সুতরাং এই উপআইন, পাতিআইন এসব আসলে মূল্যহীন। বাংলাদেশে এখনো মানুষ সত্যিকারের শিক্ষিত হয়নি তাই, এইসব আইন এখনো টিকে আছে। দেনমোহরের মত অপমানকর ব্যবস্থা এদেশে এখনো দাপট নিয়ে চলেছে। তাই যখন দেখি নারী দিবসে কোন প্রমিন্যান্ট নারীবাদী নারীর হাতে নারীমুক্তির প্ল্যাকার্ড, মনে মনে বুঝতে চেষ্টা করি ইনি স্বামীর পকেট থেকে কত লক্ষ টাকা দেনমোহর হিসেবে হাতিয়েছেন?

আসলে এই প্রসঙ্গে জৈন-ব্রাক্ষন্য-ইসলাম আলাদা করে একেকটা নাম বলার দরকার নেই, সব রসুনের গোড়া একই জায়গায়। বেদ-বাইবেল-কোরান সব জায়াগায়ই এক মতের ছায়া, নারী পুরুষের ভোগ্যা। নারীর আলাদা কোন অনুভূতি নেই, বোধ নেই, মর্যাদা নেই - অস্তিত্বই নেই। এই যে নেই নেই নেই, এর থেকে মানুষের উপায় কি? উপায় আবার কি! উপায়ের জন্য কি মানুষ বসে আছে? হিন্দু বিধবাদের কি এখন বিয়ে হচ্ছে না? সতীত্বের অগ্নি-পরীক্ষা ইদানীং কবে কোথায় শোনা গেছে? হাসিনা-খালেদা-রওশন এরশাদ-বিদিশা এদের কি ইসলাম ছুটে গেছে? গেলে আমরা চুপ কেন? মৌলানারা চুপ কেন? আসলে যুগে যুগে মানুষ দরকার মতই বদলে নিয়েছে এই ধর্ম নামের উপকথাকে। যখন যেভাবে এই গালভরা ব্যবস্থা মানুষের সমসাময়িক পারিপার্শ্বিকের সাথে খাপ খাওয়াতে পেরেছে, তাই টিকে থেকেছে ধর্মের ছাতার তলায়।

তা থাকুক। কিন্তু সমাজকে এগিয়ে নিতে হবে সামনে। এই সামনে যাওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষার আলোয় ভেসে যাবে একদিন ধর্মাচরণের অপ্রয়োজনীয় উপাদানসমূহ। যা টিকে থাকবে, তা হবে ঐ যুগের মানুষেরই এ্যাট্রিবিউট, কিংবা বলা যেতে পারে সামগ্রীকভাবে ঐ সমাজেরই ক্রাইটেরিয়া। ধর্মাচরণের মূল উদ্দেশ্য মানুষ শুধমাত্র শিক্ষিত হলেই বুঝতে পারবে - তখনই মানুষ ড. আহমদ শরীফের ভাষায় বলতে পারবে - “আমি জৈন-বৌদ্ধ-হিন্দু-ইহুদী-খ্রীষ্ট-মুসলমান শ্রাস্ত্র মেনে চলি কারণ আমি ঐসব শাস্ত্রে ভর করে মানুষ হতে চাই, কেবলমাত্র হিন্দু-মুসলমান ইত্যাদি হওয়ার জন্য নয়।“ শাস্ত্রটা পথ মাত্র গন্তব্য মানুষ হওয়া। আর একমাত্র উপযুক্ত শিক্ষাই পারে মানুষকে এই গন্তব্য চেনাতে।
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×