somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্মাচরণ ও বাঙ্‌লাদেশ- ৩

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ধর্ম সম্পর্কে কোন প্রশ্ন উঠলেই বাঙ্গালী মুসলমানের বিরক্তিও চরমে উঠে যায়। ইনারা ইশকুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে বাইরে ঘুরে ঘুরে নিজেদের ধর্মবোধকে নিজের অজান্তেই তরল করে ফেলেছেন। যার কারণে ধর্মের বিপরীতে যায় এমন কাজ করতেও খুব একটা দ্বিধা করেন না।

উদাহরণ দিই - রোজার মধ্য-দুপুরে যদি এইরকম একজন বাঙ্গালীর সামনে আপনি খানাপিনার আয়োজন করেন, নাক কুঁচকে ভীষণ অবাক হয়ে উনি জিজ্ঞেস করবেন 'সেকি রোজা রাখেননি?' পালটা যদি তাকে জিজ্ঞেস করেন ফজরের নামায পড়েছেন কিনা, দেখবেন উনার মুখ লাজুক লাজুক হয়ে যাচ্ছে। 'আসলে সেহরীর পর ঘুমিয়ে পরেছিলাম আরকি।' তো যোহর পড়েছেন? ' না আসলে এত্ত ব্যস্ততা, আজকে মনে হয় আর হবে না, দেখি মাগরীবটা অবশ্যই পড়ব।' এরপর ইনার কাজ হবে দ্রুত কেটে পরা।

বিজ্ঞানে বাঙ্গালী মুসলমানের আগ্রহ অপরিসীম, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে যেন তা বাড়ছেই, বাড়ছেই। খুবই ভাল খবর। এভাবেই বাঙ্গালী জাতি একদিন বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে উঠবে, বাড়বে যৌক্তিক চিন্তা-চেতনার চর্চা। উন্মুক্ত হবে মন, মনন। কিন্তু আসলেই কি হবে? বাঙ্গালীর মধ্যে বিশ্বদরবারে বিজ্ঞানে অবদান তো ঐ এক হিন্দু বাঙ্গালীরই - জগদীশ চন্দ্র বসু। কিন্তু ব্যাটাতো হিন্দু! মুখে স্বীকার না করলেও বাঙ্গালী মুসলমানের খুব একটা ভালো লাগে না বসু-ফসুর নাম মুখে আনতে। অবশ্য নেহাৎ ঠেকায় না পরলে আনেও না।

নাহয় নাই থাকলো অবদান, আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক করতে তো আর বাধা নেই। বিজ্ঞানের হেন বিষয় নেই, যাতে বাঙ্গালী মুসলমানের বিরাট জ্ঞান নেই। ফিসিক্স, মেটা-ফিসিক্স, সাইকোলজী, এ্যান্থ্রপোলজী আপনি শুধু প্রসঙ্গ ছুড়ে দেবেন, দেখবেন তর্ক-বিতর্ক জমে গেছে। ইবনে-সীনা আর ডারউইন কেউই ইনাদের কাছে

অপরিচিত দুরের মানুষ নন। বিবর্তনবাদ নিয়ে বিতর্কে বাঙ্গালী মুসলমান খুবই আমোদ পায়। বেশিরভাগ শিক্ষিত দাবীদার অন্তত তার শিক্ষার গুন-মানের মর্যাদা রাখতে হলেও বিবর্তনবাদের পক্ষে। আবার এদেরকেই জিজ্ঞেস করে দেখুন যে ধর্মগ্রন্থমতে বিশ্বব্রিক্ষ্মান্ডের বয়স ৬০১২ বছর এই বক্তব্য তারা মানেন কিনা।

বাঙ্গালী মুসলমান এসব মানেনও আবার মানেনও না। ধর্ম সম্পর্কে কিছুটা জানেনও আবার জানেনও না। তাতে বাঙ্গালী মুসলমানের কিছু যায় আসেও না; তর্ক-বিতর্কে এতটুকু ভাটাও পরেনা। এভাবেই চলছে

বাঙ্গালীর দৈনন্দিন ধর্মাচরণ। চলছে, চলবেই।
১০টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×