আওয়ামি আদালত মামলা খারিজ কে দিয়েছে। তার মানে কি হাসিনার খাবারে বিষ মেশানোর পুরোটাই আষাড়ে গপ্পো?
আমার দেশ থিকা নিউজটার কপি পেস্ট
ইয়াজউদ্দিন ফখরুদ্দীন মইনউদ্দিনের বিরুদ্ধে সাকা চৌধুরীর মামলা খারিজ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জরুরি অবস্থার সময় কারাগারে বিষ প্রয়োগে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এনে সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ ও সাবেক সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপি। তিনি গতকাল সকালে মামলাটি আদালতে দায়ের করার পর বিকালে আদালত তা খারিজ করে দেন।
গতকাল সকাল ১০টায় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। শুনানি শেষে আদালত মামলাটি গ্রহণ করে বিকালে আদেশ দেবেন বলে জানান। এরমধ্যে দুপুরে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলা দায়ের প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের নেত্রীকে জরুরি অবস্থার সরকারের সময় কারাগারে বিষ প্রয়োগে হত্যার চেষ্টা হয়েছে। বিষয়টি আমরাই দেখব। সরকার বিষ প্রয়োগের ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। কারও উপযাচক হয়ে মামলা দায়ের করার প্রয়োজন নেই। বিকালে মহানগর হাকিম একেএম এমদাদুল হক সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর এ মামলা খারিজ করে দেন।
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী তার এ মামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮ জনকে সাক্ষী করেন। এজাহারভুক্ত বাকি ৪ আসামি হলেন লে. জেনারেল মাসুদউদ্দিন চৌধুরী (বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার), সেনা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই’র সে সময়ের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল চৌধুরী ফজলুল বারী ও মেজর জেনারেল ড. এটিএম আমিন, তখনকার আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাকির হোসেন। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী মামলার এজাহারে উল্লিখিত আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৭ ও ৩২৮ ধারায় হত্যার হুমকি ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এজহারে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমান সংসদ নেতা। আমি এই সংসদের একজন সদস্য। তাকে হত্যা প্রচেষ্টায় আমি ক্ষুব্ধ হয়েছি। এ কারণেই আমি তাকে হত্যার চেষ্টাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য এ মামলা দায়ের করছি। আদালতে তিনি এ মামলার এজাহারের সঙ্গে বিভিন্ন পত্রপত্রিকার কাটিংও পেশ করেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিশেষ কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় শেখ হাসিনার খাদ্যে বিষ মিশিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে প্রথম অভিযোগ করেন সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী। দুই সপ্তাহ আগে সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে কারাগারে বন্দি থাকাকালে খাদ্যে বিষ মেশানোর অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাকে স্লো পয়জনিং করা হয়েছিল।’
আদালতে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুই বছর দেশকে রাজনীতিশূন্য করার চেষ্টা করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। গত ১১ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বলেছিলেন, কারাগারে অন্তরীণ থাকাকালে তাকে স্লো পয়জনিং করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্য বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে প্রচার এবং প্রকাশ হয়েছে। আমি আশা করেছিলাম আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অথবা সরকারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। কিন্তু তা করা হয়নি। শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের প্রধান হলেও সংসদ নেতা হিসেবে সংসদে তিনি আমারও নেতা। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তাই আমি এ মামলা করতে বাধ্য হয়েছি। আমি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার প্রার্থনা জানাচ্ছি।
বিকালে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়ার পর সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেছেন, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মার্চ, ২০১০ দুপুর ১২:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



