View this link মোবাইল ফোনে একটি মেসেজে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়
মসিউর রহমান খান
মোবাইল ফোনের একটি মেসেজ নিয়ে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে। দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে এ নিয়ে বিরাজ করছে চাপা উত্তেজনা। শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন পলিটিশিয়ানের নাম উল্লেখ করে যাচ্ছেতাই ভাষায় গালাগাল দেয়া হয়েছে ওই ম্যাসেজটিতে। এমনকি যাদের গালাগাল দেয়া হয়েছে, তাদেরও বেশ কয়েকজনের মোবাইল ফোনে মেসেজটি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
পরিচয় গোপন করে টেলিটকের একটি নাম্বার দিয়ে (০১৫৫৩৪২৭৮০৯) এ মেসেজটি থ্রো করা হয়েছে। মেসেজের শেষ অংশে প্রাপককে কমপক্ষে আরো ১০ জনকে ফরোয়ার্ড করতে বলা হয়েছে। ইংরেজি বর্ণমালা ব্যবহার করে বাংলায় লেখা হয়েছে মেসেজটি।
আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে বেশির ভাগ নেতার মোবাইল ফোনেই মেসেজটি ২৯ মার্চ দলের ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং শুরুর আগেই পৌছে যায়। এতে বর্তমান চিফ জাস্টিস রুহুল আমীন, সাবেক দুই প্রেসিডেন্ট এরশাদ ও বি. চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু, বিএনপির সংস্কারপন্থী চার নেতা মান্নান ভূঁইয়া, সাইফুর রহমান, হাফিজ উদ্দিন ও সাদেক হোসেন খোকা এবং বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ নেতা আমুকে বিভিন্ন ধরনের গালাগাল দিয়ে বলা হয়, তার হাত থেকে আওয়ামী লীগকে বাচান। একইভাবে বিএনপি নেতা মান্নান ভূঁইয়া, সাইফুর রহমান, হাফিজ উদ্দিন ও সাদেক হোসেন খোকাকে গালি দিয়ে তাদের হাত থেকেও বিএনপিকে বাচানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে এরশাদ, বি. চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেনকে গালি দিয়ে তাদের হাত থেকে দেশ বাচানোর কথা বলা হয়েছে। আর বিচার বিভাগকে বাচাতে চিফ জাস্টিসকে গালি দেয়া হয়েছে।
তাদের কথিত জাতীয় সরকারের উদ্যোক্তা বা রূপকার হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে। মেসেজের শেষ অংশে বলা হয়েছে, কমপক্ষে আরো ১০ জনকে এ মেসেজটি পাঠানো আপনার জাতীয় দায়িত্ব। তবে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে মেসেজটি নিয়ে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগের সংস্কারপন্থী বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তারাও মেসেজটি পেয়েছেন ২৯ মার্চ সকালে। তাদের সন্দেহ, দলের ভেতর থেকেই একটি চক্র এ ঘটনা ঘটিয়েছে। যে নাম্বার থেকে মেসেজ পাঠানো হয়েছে, সেটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে বলে ওই নেতারা জানান। তারা আরো বলেন, মেসেজের প্রেরককে খুজে পাওয়া কঠিন কাজ নয়। তবে আমরা এসব জিনিস নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে চাই না।
জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়ে মেসেজ পাওয়া সংস্কারপন্থী আওয়ামী লীগ নেতারা চুপ থাকলেও এটিই এখন দেশের পলিটিশিয়ানদের মধ্যে ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে।
মেসেজে যা লেখা হয়েছে
সন্ত্রাসের জন্মদাতা, লবণ চোর-চাল চোর, জাতীয় সরকারের অন্যতম উদ্যোক্তা, সরকারের এজেন্ট আমির হোসেন আমুর হাত থেকে আওয়ামী লীগকে বাচান। টিআইবি রিপোর্টে ১ নাম্বার দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী মান্নান ভূঁইয়া, নিজে অর্থমন্ত্রী হয়ে ট্যাক্স ফাকি দিয়া কালো টাকা সাদা করা দুই দুর্নীতিবাজ ছেলের বাপ সাইফুর রহমান, সাবেক স্বতন্ত্র, জাতীয় পার্টি, বিএনপি, বর্তমান সরকারপন্থী বিএনপি নেতা, সুযোগসন্ধানী হাফিজউদ্দিন, হাইজ্যাক করতে গিয়া গণপিটুনি থেকে বেচে যাওয়া, সিটি কর্পরেশনের মি. ২০ পার্সেন্ট সাদেক হোসেন খোকাদের হাত থেকে বিএনপিকে বাচান। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে সরকারি প্লট নেয়া প্রধান বিচারপতি রুহুল আমীনের হাত থেকে বিচার বিভাগকে বাচান। বাদল হত্যাকারী, আওরঙ্গ, লিয়াকত, হান্নানের গডফাদার মোস্তফা মোহসীন মন্টুর বস, কালো টাকা সাদা করা, ট্যাক্স ফাকি মারা দুদক-নির্বাচন কমিশনের সরকারি উকিল, জীবনে একবারও নির্বাচনে জিততে না পারা, জাতীয় সরকারের রূপকার, দালাল, বুড়া (ড.?) কামাল হোসেন, বুড়া, নোংরা, দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এরশাদ, সব সময় রঙ বদলকারী, মিষ্টি কথার নিচে কুৎসিত চেহারার বি. চৌধুরীর হাত থেকে দেশকে বাচান। কমপক্ষে ১০ জনকে ফরোয়ার্ড করুন। এটা আপনার জাতীয় দায়িত্ব।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


