প্রয়োজনীয় উপকরণঃ
১. একজন সাদাসিধা নায়ক
২. অসম্ভব রূপবতী বুদ্ধিমতীএকজন তরুণী (বাস্তবে যা কখনোই সম্ভব নয়। রূপবতী আবার বুদ্ধিমতী!!!)
৩. নায়িকার বাবা (যার কাজকর্ম আউট অফ প্যাটার্ন)
৪. নায়িকার মা
৪. অত্যন্ত মেধাবী একজন মানুষ (বিদেশ থেকে আসা, সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলে ভাল)
৫. উদ্ভট কিছু চরিত্র
৬. যেখানে ঘটবে (শহর অথবা গ্রাম)
কার্যপদ্ধতিঃ
প্রথমে আপনাকে চরিত্রগুলো গুছিয়ে নিতে হবে। চরিত্রগুলোতে কিছু আওলা ঝাওলা বৈশিষ্ট দিতে হবে। যেমন ধরুন নায়ক কোন কারণ ছাড়া ঢাকা শহরের কোন মেসে থাকবে, সে কোন চাকরি বাকরি কিছুই করবে না। দুনিয়ার যাবতীয় আজগুবি কাজে তাকে পাওয়া যাবে। অদ্ভূত কিসিমের কিছু মানুষের সাথে তার পরিচয় থাকতে হবে। উদাহরনস্বরুপ বলা যায় কোন ভিখারী কিংবা পাইপে বাস করা কোন অর্ধউন্মাদ ব্যাক্তি কিংবা কোন ছিনতাইকারী (হিমুর ক্ষেত্রে সবগুলোই থাকতে হবে)। মোটকথা আপনি যেখানে প্যাচ লাগাবেন সেখানে নায়কের একজন বন্ধুজাতীয় লোক থাকতে হবে। নায়ককে পছন্দ করে এমন একটি চরিত্র রাখতে পারেন যে চরিত্র খুবই বিত্তশালী। টাকা পয়সা ঘটিত সব সমস্যার সমাধানের জন্য এমন চরিত্রের বিকল্প নেই। আসা যাক নায়িকার কথায়। হুমায়ুন কাকুর প্রথম দিকের নায়িকা হলে নায়িকা হবে অতি রূপবতী যাকে দেখলেই মনে হবে বাজিল বুকে সুখের মতো ব্যাথা! নায়িকা যদি ১৯৯০ থেকে ১৯৯৬ এর মধ্যের কোন গল্পের নায়িকা হয়, তবে নায়িকা অতি রূপবতী হবে তবে সাথে আরো একজন শ্যামলা তরুণী থাকবে যে হবে অতি রূপবতী। যার চোখ হবে জন্ম কাজল পরানো এবং খুবই সুন্দর। তবে আসল নায়িকা যতই ধানাই পানাই করুক না কেন, শেষে দেখা যাবে, মায়াবতীই আসল নায়িকা
চরিত্রগুলোকে দেখা করানোর জন্য আপনাকে আজগুবি নানা ঘটনা ঘটাতে হবে। বিভিন্ন ঘটনা ব্যবহার করতে পারেন। যেমন বিদেশফেরত চরিত্রটিকে দেশে এনেই নানা রকম বিপদে ফেলে দিলেন। ঘটনাক্রমে যেভাবেই হোক আপনাকে এই চরিত্রের সাথে নায়িকাকে দেখা করিয়ে দিতে হবে। লেখাতে অবশ্যই পুলিশ বা র্যাব প্রসঙ্গ থাকতে হবে। নায়ক হোক বা বিদেশফেরত চরিত্র পুলিশ বা র্যাবের খপ্পরে ফেলতেই হবে। মারধোর করা না করা আপনার বিবেচনার উপর ছেড়ে দিলাম। একরাত পুলিশ বা র্যাবের আস্তানায় রেখে অলৌকিকভাবে তাদের ছাড়িয়ে আনুন। এটা গল্পটার একটা অলঙ্কার বা বিশেষ বৈশিষ্ট। এখন কোন কারণ ছাড়াই আমাদের এই বিদেশফেরত চরিত্র অসুস্থ হয়ে পড়বে(যে কেউই অসুস্থ হতে পারে)। যে অসুখই হোক, তার জ্বর এসে যাবে এবং আস্তে আস্তে সে প্রায় কোমায় চলে যাবে। কোমায় থাকা অবস্থায় তার বিভিন্ন চরিত্রের (সেটা আপনার পছন্দ, নায়িকাও হতে পারে কিংবা নায়কের পরিচিত কাউকে আমদানী করে তাকে) সাথে দেখা হবে। তারা বিভিন্ন গায়েবি কথাবার্তা বলবে। এই ফাকে চরিত্রটি যে বিষয়ের শিক্ষক সে বিষয়ের কঠিন কোন সমস্যা সমাধান করিয়ে নিতে পারেন। শহরে হলে হাসপাতালে নিতে পারেন, গ্রামে হলে নায়িকার বাসায় আশ্রিত রেখে দিতে পারেন। ভুলেও এই চরিত্র কোন হাসপাতালে আছে বা তার খরচ পত্র কিভাবে চলছে সেই বর্ণনায় যাবেন না। আপনার ঘটনাটি যদি গ্রামের হয়, জোৎস্না বিষয়ক কিছু কথাবার্তা থাকা ফরজ। শহরের হলে বৃষ্টি বিষয়ক। এখন প্যাচ লাগাতে হবে। নানাভাবে প্যাচ লাগানো যায়। যেমন ধরুন নায়িকার বাবার সেই বিদেশফেরত চরিত্রটি পছন্দ হয়ে গেল। কিন্তু নায়িকা আবার নায়ককে পছন্দ করে। এমন নানা ঝামেলা হওয়ার পরে (সেটা আপনার সৃজনশীলতার উপর নির্ভর করে) বিদেশফেরত চরিত্রটি আবার ফেরত চলে যাবে এবং প্যাচ খতম। তবে ভুলেও হ্যাপি এন্ডিং দেখাবেন না। প্রয়োজনে কোন চরিত্রকে পূর্বাভাস ছাড়াই মেরে ফেলুন। বইয়ের শেষে কখনোই নির্দিষ্ট কোন পরিণতি দেবেন না। ধোঁয়াশা একটা পরিণতি রাখুন যাতে করে পাঠক নিজের মতো করে পরিণতি কল্পনা করে খুশি থাকতে পারে।
গৌতম রায় বলেছেন: মলমূত্রজাতীয় জিনিসের প্রতি নায়িকার বাপ বা সাইড-নায়কের অতিআগ্রহ থাকতে হবে। পাগলামি জিনিসটা দিতে হবে তাদরেই কারোর মাথায়। না হলে হুমায়ূন আহমদে সম্পূর্ণ হবে না।
রশিক রশীদ বলেছেন: কাজের লোকের একটা চিরত্র থাকবে নারী বা পুরুষ । সে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে পরামর্শ দেবে নায়কের উদ্ভট কান্ড করা বাবা তা সমর্থন করবে আর মা তাকে ধমক দিয়ে নিবৃত করবে।
মাহমুদহাসান বলেছেন: তাহার সাম্প্রতিক সাহিত্য বিশ্লেষণ করিলে দেখিতে পাওয়া যাইবে, তাহার নায়ক চরিত্রটির বয়স পঞ্চাশোর্ধ অথচ নায়িকা চরিত্রের বয়স ২৪-২৮ বৎসর পরিলক্ষিত হইতেছে। ইহা যে নিজের অপরাধ ঢাকিবার অতি নগণ্য হাস্যকর প্রচেষ্টা, ইহা অনুধাবন করা কষ্টকর নহে।
এখন বাকি রইল ঘুটা দেয়া।
ঘুটা ঘুটা ঘুটা.......
মোটামোটি এতেই অনেক কিছু ঘটে যাওয়া উচিত যাকে আমরা একটি রোমান্টিক গল্প হিসেবে চালিয়ে দিতে পারি।
ফলাফলঃ
একটি হুমায়ুন আহমেদীয় রোমান্টিক গল্প!!!
সতর্কতাঃ
১. কখনোই হ্যাপি এন্ডিং দেওয়া যাবে না।
২. মাঝে মাঝে কিছু ইংরেজী কবিতার লাইন ব্যবহার করতে হবে।
৩. যে কোন সময় পূর্বাভাস ছাড়াই অঘটন ঘটাতে হবে।
তাড়াহুড়ো করে লেখায় অনেক কিছু বাদ পড়ে গেল। ব্লগারদের অনুরোধ রইল সেগুলো মনে করিয়ে দেবার জন্য। সেগুলো এড করে দেব।
নায়িকার চেহারা বিষয়ক বিশদ জ্ঞানের জন্য আমি আমার একই সাথে রূপবতী এবং বুদ্ধিমতী বান্ধবী ফান্টার কাছে কৃতজ্ঞ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

