somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি হুমায়ুন আহমেদীয় রোমান্টিক গল্পের রেসিপি।

০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তত্ত্বঃ এই পরীক্ষণের মূল উদ্দেশ্য একটি আজগুবি অথচ সুপাচ্য হুমায়ুন আহমেদীয় গল্প রচনা করা। এই লেখা পাঠ করার পরে যে কেউ একটি হুমায়ুন আহমেদীয় রোমান্টিক গল্প রচনা করতে পারবেন আশা করি।

প্রয়োজনীয় উপকরণঃ

১. একজন সাদাসিধা নায়ক
২. অসম্ভব রূপবতী বুদ্ধিমতীএকজন তরুণী (বাস্তবে যা কখনোই সম্ভব নয়। রূপবতী আবার বুদ্ধিমতী!!!)
৩. নায়িকার বাবা (যার কাজকর্ম আউট অফ প্যাটার্ন)
৪. নায়িকার মা
৪. অত্যন্ত মেধাবী একজন মানুষ (বিদেশ থেকে আসা, সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলে ভাল)
৫. উদ্ভট কিছু চরিত্র
৬. যেখানে ঘটবে (শহর অথবা গ্রাম)

কার্যপদ্ধতিঃ

প্রথমে আপনাকে চরিত্রগুলো গুছিয়ে নিতে হবে। চরিত্রগুলোতে কিছু আওলা ঝাওলা বৈশিষ্ট দিতে হবে। যেমন ধরুন নায়ক কোন কারণ ছাড়া ঢাকা শহরের কোন মেসে থাকবে, সে কোন চাকরি বাকরি কিছুই করবে না। দুনিয়ার যাবতীয় আজগুবি কাজে তাকে পাওয়া যাবে। অদ্ভূত কিসিমের কিছু মানুষের সাথে তার পরিচয় থাকতে হবে। উদাহরনস্বরুপ বলা যায় কোন ভিখারী কিংবা পাইপে বাস করা কোন অর্ধউন্মাদ ব্যাক্তি কিংবা কোন ছিনতাইকারী (হিমুর ক্ষেত্রে সবগুলোই থাকতে হবে)। মোটকথা আপনি যেখানে প্যাচ লাগাবেন সেখানে নায়কের একজন বন্ধুজাতীয় লোক থাকতে হবে। নায়ককে পছন্দ করে এমন একটি চরিত্র রাখতে পারেন যে চরিত্র খুবই বিত্তশালী। টাকা পয়সা ঘটিত সব সমস্যার সমাধানের জন্য এমন চরিত্রের বিকল্প নেই। আসা যাক নায়িকার কথায়। হুমায়ুন কাকুর প্রথম দিকের নায়িকা হলে নায়িকা হবে অতি রূপবতী যাকে দেখলেই মনে হবে বাজিল বুকে সুখের মতো ব্যাথা! নায়িকা যদি ১৯৯০ থেকে ১৯৯৬ এর মধ্যের কোন গল্পের নায়িকা হয়, তবে নায়িকা অতি রূপবতী হবে তবে সাথে আরো একজন শ্যামলা তরুণী থাকবে যে হবে অতি রূপবতী। যার চোখ হবে জন্ম কাজল পরানো এবং খুবই সুন্দর। তবে আসল নায়িকা যতই ধানাই পানাই করুক না কেন, শেষে দেখা যাবে, মায়াবতীই আসল নায়িকা ;)। ঘটনা যদি এরও পরের হয়, তবে একটা নতুন কথা আসবে, সেটা হল কনে সুন্দর আলো। যে আলোতে সাধারণ কোন মেয়েকেও অসাধারণ সুন্দর মনে হবে। বিশেষত শ্যামলা মেয়েদের /:)। তবে মনে রাখতে হবে এই সময়ের রূপবতীরা চট করে অন্য চরিত্রদের মনের কথা ধরে ফেলবে, অনেক বুদ্ধিমতী হবে এবং অবশ্যই নায়কের সাথে কোন দিক দিয়েই মিল হবে না। নায়ক নায়িকা দুইজনেরই বুক ফোটে তো মুখ ফোটে না টাইপ অবস্থা হবে। ভালবাসার কথা একে অপরকে জানানোর জন্য আপনাকে মহেন্দ্রক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে সেই সাথে লাগবে বেলী অথবা কদম ফুল। মহেন্দ্রক্ষণটা হতে পারে কন্যা সুন্দর আলো। আর যেহেতু নায়িকার বাবা আউট অফ প্যাটার্ন একজন মানুষ সেহেতু নায়িকাকে বাবার করা নানা আজগুবি ঘটনা খুব দক্ষতার সাথে সামাল দিতে হবে। নায়িকার বাবার আউট অফ প্যাটার্ন কাজ কর্মের মাঝে আছে রাস্তায় পাওয়া বিশেষ মেধা সম্পন্ন কাউকে বাসায় ধরে নিয়ে আসা ইত্যাদি ইত্যাদি। নায়িকার মা নায়িকার সাথেও থাকতে পারে আবার আলাদাও থাকতে পারে। সেটা আপনার ইচ্ছা। সাথে থাকলে নায়িকার বাবার নায়িকার মা'র প্রতি অপছন্দ প্রকাশ পাবে আর সাথে না থাকলে ভালোবাসা। এখানে আপনাকে মনে রাখতে হবে পুরো ঘটনাটা আবর্তিত হবে বিদেশফেরত চরিত্রটি নিয়ে।


চরিত্রগুলোকে দেখা করানোর জন্য আপনাকে আজগুবি নানা ঘটনা ঘটাতে হবে। বিভিন্ন ঘটনা ব্যবহার করতে পারেন। যেমন বিদেশফেরত চরিত্রটিকে দেশে এনেই নানা রকম বিপদে ফেলে দিলেন। ঘটনাক্রমে যেভাবেই হোক আপনাকে এই চরিত্রের সাথে নায়িকাকে দেখা করিয়ে দিতে হবে। লেখাতে অবশ্যই পুলিশ বা র‌্যাব প্রসঙ্গ থাকতে হবে। নায়ক হোক বা বিদেশফেরত চরিত্র পুলিশ বা র‌্যাবের খপ্পরে ফেলতেই হবে। মারধোর করা না করা আপনার বিবেচনার উপর ছেড়ে দিলাম। একরাত পুলিশ বা র‌্যাবের আস্তানায় রেখে অলৌকিকভাবে তাদের ছাড়িয়ে আনুন। এটা গল্পটার একটা অলঙ্কার বা বিশেষ বৈশিষ্ট। এখন কোন কারণ ছাড়াই আমাদের এই বিদেশফেরত চরিত্র অসুস্থ হয়ে পড়বে(যে কেউই অসুস্থ হতে পারে)। যে অসুখই হোক, তার জ্বর এসে যাবে এবং আস্তে আস্তে সে প্রায় কোমায় চলে যাবে। কোমায় থাকা অবস্থায় তার বিভিন্ন চরিত্রের (সেটা আপনার পছন্দ, নায়িকাও হতে পারে কিংবা নায়কের পরিচিত কাউকে আমদানী করে তাকে) সাথে দেখা হবে। তারা বিভিন্ন গায়েবি কথাবার্তা বলবে। এই ফাকে চরিত্রটি যে বিষয়ের শিক্ষক সে বিষয়ের কঠিন কোন সমস্যা সমাধান করিয়ে নিতে পারেন। শহরে হলে হাসপাতালে নিতে পারেন, গ্রামে হলে নায়িকার বাসায় আশ্রিত রেখে দিতে পারেন। ভুলেও এই চরিত্র কোন হাসপাতালে আছে বা তার খরচ পত্র কিভাবে চলছে সেই বর্ণনায় যাবেন না। আপনার ঘটনাটি যদি গ্রামের হয়, জোৎস্না বিষয়ক কিছু কথাবার্তা থাকা ফরজ। শহরের হলে বৃষ্টি বিষয়ক। এখন প্যাচ লাগাতে হবে। নানাভাবে প্যাচ লাগানো যায়। যেমন ধরুন নায়িকার বাবার সেই বিদেশফেরত চরিত্রটি পছন্দ হয়ে গেল। কিন্তু নায়িকা আবার নায়ককে পছন্দ করে। এমন নানা ঝামেলা হওয়ার পরে (সেটা আপনার সৃজনশীলতার উপর নির্ভর করে) বিদেশফেরত চরিত্রটি আবার ফেরত চলে যাবে এবং প্যাচ খতম। তবে ভুলেও হ্যাপি এন্ডিং দেখাবেন না। প্রয়োজনে কোন চরিত্রকে পূর্বাভাস ছাড়াই মেরে ফেলুন। বইয়ের শেষে কখনোই নির্দিষ্ট কোন পরিণতি দেবেন না। ধোঁয়াশা একটা পরিণতি রাখুন যাতে করে পাঠক নিজের মতো করে পরিণতি কল্পনা করে খুশি থাকতে পারে।

গৌতম রায় বলেছেন: মলমূত্রজাতীয় জিনিসের প্রতি নায়িকার বাপ বা সাইড-নায়কের অতিআগ্রহ থাকতে হবে। পাগলামি জিনিসটা দিতে হবে তাদরেই কারোর মাথায়। না হলে হুমায়ূন আহমদে সম্পূর্ণ হবে না। :)

রশিক রশীদ বলেছেন: কাজের লোকের একটা চিরত্র থাকবে নারী বা পুরুষ । সে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে পরামর্শ দেবে নায়কের উদ্ভট কান্ড করা বাবা তা সমর্থন করবে আর মা তাকে ধমক দিয়ে নিবৃত করবে।

মাহমুদহাসান বলেছেন: তাহার সাম্প্রতিক সাহিত্য বিশ্লেষণ করিলে দেখিতে পাওয়া যাইবে, তাহার নায়ক চরিত্রটির বয়স পঞ্চাশোর্ধ অথচ নায়িকা চরিত্রের বয়স ২৪-২৮ বৎসর পরিলক্ষিত হইতেছে। ইহা যে নিজের অপরাধ ঢাকিবার অতি নগণ্য হাস্যকর প্রচেষ্টা, ইহা অনুধাবন করা কষ্টকর নহে।


এখন বাকি রইল ঘুটা দেয়া।


ঘুটা ঘুটা ঘুটা.......


মোটামোটি এতেই অনেক কিছু ঘটে যাওয়া উচিত যাকে আমরা একটি রোমান্টিক গল্প হিসেবে চালিয়ে দিতে পারি।


ফলাফলঃ

একটি হুমায়ুন আহমেদীয় রোমান্টিক গল্প!!!

সতর্কতাঃ
১. কখনোই হ্যাপি এন্ডিং দেওয়া যাবে না।
২. মাঝে মাঝে কিছু ইংরেজী কবিতার লাইন ব্যবহার করতে হবে।
৩. যে কোন সময় পূর্বাভাস ছাড়াই অঘটন ঘটাতে হবে।


তাড়াহুড়ো করে লেখায় অনেক কিছু বাদ পড়ে গেল। ব্লগারদের অনুরোধ রইল সেগুলো মনে করিয়ে দেবার জন্য। সেগুলো এড করে দেব।

নায়িকার চেহারা বিষয়ক বিশদ জ্ঞানের জন্য আমি আমার একই সাথে রূপবতী এবং বুদ্ধিমতী বান্ধবী ফান্টার কাছে কৃতজ্ঞ।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুলাই, ২০১০ সকাল ১১:২১
২৯টি মন্তব্য ২৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×