রোযা রোযাদারদের জন্য সুপারিশ করবেঃ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, রোযা ও কুরআন কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোযা বলবে, আমি তাকে দিনের বেলায় পানাহার ও প্রবৃত্তির চাহিদা মেটানো থেকে বিরত রেখেছি। সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। কুরআন বলবে আমি তাকে রাতে ঘুম থেকে বিরত রেখেছি। সুতরাং আমার সুপারিশ কবুল করুন। তখন দু’জনের সুপারিশই গ্রহণ করা হবে। - মুসনাদে আহমাদ, হাদীসঃ ৬৫৮৯; তাবারানী, মাজমাউয যাওয়াইদ ৩/৪১৯।
রোযাদারদের দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় নাঃ হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তিন ব্যাক্তির দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না – ১. রোযাদারের দুআ ইফতার করা পর্যন্ত, ২. ন্যায়পরায়ণ বাদশাহের দুআ, ৩. মাজলুমের দুআ। আল্লাহ্ তায়ালা তাদের দুআ মেঘমালার উপরে উঠিয়ে নেন এবং এর জন্য আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। আর আল্লাহ্ তায়ালা বলেন, আমার ইজ্জতের কসম! বিলম্বে হলেও আমি অবশ্যই তোমাকে সাহায্য করব। - মুসনাদে আহমাদ, হাদীসঃ ৯৭৪৩; জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৫৯৮; ইবনে হিব্বান, হাদীস ৩৪২৮; ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৭৫২।
রমযান মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়ঃ হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন রমযান মাস আসে, জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানদেরকে শৃংখলিত করে রাখা হয়। - ইমাম বুখারী ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
রোয়াদারের জন্য জান্নাতের বিশেষ দরজাঃ হযরত সাহল ইবনে সা’দ (রাঃ ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জান্নাতে রাইয়ান নামে একটি দরজা আছে। এই দরজা দিয়ে শুধু রোযাদাররা প্রবেশ করবে। ঘোষণা করা হবে রোযাদাররা কোথায়? তখন তারা উঠে দাঁড়াবে। যখন তারা প্রবেশ করবে তখন ঐ দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং তা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করবে না। - সহীহ বুখারী, হাদীস ১৮৯৬।
রোযাদার ব্যাক্তি জাহান্নামের আগুন থেকে দুরেঃ আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যাক্তি আল্লাহ্র পথে একটি রোযা রাখে, তার এই একটি দিনের বদৌলতে আল্লাহ্ তায়ালা তাকে (জাহান্নামের) আগুন থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে রাখবেন। - ইমাম বুখারী ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
রোযা ঢাল স্বরুপঃ হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, রোযা ঢাল স্বরুপ। - সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৫১; ইবনে মাজাহ্, হাদীস ১৬৩৯।
অন্য হাদীসে এসেছে, রোযা ঢাল স্বরুপ যতক্ষণ না তা বিদীর্ণ করে ফেলা হয়। - মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৬৯০।
কীভাবে এই ঢালকে বিদীর্ণ হওয়া থেকে রক্ষা করা যায়?
রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, রোযা হচ্ছে ঢাল। যখন তোমাদের কেউ রোযা থাকে সে যেন অশ্লীল কথাবার্তা না বলে এবং মূর্খের ন্যায় কাজ না করে। কেউ যদি তাকে গালি দেয় বা ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হয় তাহলে সে যেন বলে, আমি রোযাদার, আমি রোযাদার। - সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯০৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৫১।
হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যাক্তি (রোযা রাখার পরও) মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ ত্যাগ করল না তার পানাহার বর্জনে আল্লাহ্র কোন প্রয়োজন নেই। - সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯০৩।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

