somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

:((আমার টেলিফোনে ধরা খাওয়া:((

১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাসায় প্রথম যখন টেলিফোনের সংযোগ নেয়া হয় তখন আমি ক্লাস থ্রীতে পড়ি। তখন ফোনটার প্রতি অনেক আকর্ষণ অনুভব করতাম। টেলিফোনের অপর প্রান্ত থেকে কিভাবে কথা আসে ভাবতেই অবাক হতাম। প্রথম প্রথম লোডশেডিং এর সময় ফোন বেজে উঠলে চমকে উঠতাম :|। যাই হোক, নতুন টেলিফোন বাসায় আসাতে সবাই অনেক আনন্দিত ছিল। কিন্তু সবার আনন্দে বাধ সাধলেন চাচা। চাচা তখন প্রতিদিন চেম্বারে যাওয়ার আগে ফোন লক করে যেতেন আর রাতে এসে খুলতেন। আর বলতেন ফোন খোলা রাখলে সবাই বেশী বেশী ফোন করবে তার চেয়ে বন্দ্ধ থাকুক। বাইরে থেকে কল আসলে রিসিভ করলেই চলবেX(


যাই হোক চাচার ফোন লক করে রাখা উল্টো ফোনের প্রতি আমাদের আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয়। তখন আমাদের সাথে এক চাচাতো ভাই থাকতো। ও কিভাবে যেন ফোন আনলক করার নিয়ম জেনে যায়।

যত দূর মনে পড়ে আনলক কোড ছিল এরকম:
#৩৪*১২৩৪#

আর লক করার কোড:
*৩৪*১২৩৪*০১#

১২৩৪ এর জায়গায় যে কোন চারটি সংখ্যা বসাতে হয়। কিন্তু চাচা ১২৩৪ ই ব্যাবহার করতেন :D

এরপরের ঘটনা অনেক দিন পরের। আমি তখন ক্লাস এইটে পড়ি। স্কুলে একটা মেয়েকে অনেক ভালো লাগতো :#> । মেয়েটা ক্লাস সিক্সে পড়ত। খেলাধুলায় নাচেগানে মেয়েটার অসাধারণ প্রতিভা। পুরো স্কুল সে দাপিয়ে বেড়াত। স্কুলের সবাই তাকে চিনত। মানে অনেকটা সেলিব্রেটি টাইপ আর কি /:) । সেলিব্রেটি বলে ফোন নাম্বারও খুব সহযেই পাওয়া গেল। বাসায় যখন সুযোগ পেতাম তখন মাঝে মাঝে লুকিয়ে ফোন করতাম:P। একেক সময় একেক জন(বাবা , মা ভাই) ফোন ধরত , কখনও কখনও ও নিজেও ধরত। কিন্তু যেই ধরুক , আমি কথা বলার সাহস পেতামনা। ২-৩ বার হ্যালো শোনার পরে রেখে দিতাম:|

একদিন ভাবলাম আজ কথা বলতেই হবে। ফোন করার পর ও ই ধরল। ২-৩ বার হ্যালো হ্যালো করল। কিন্তু তখনও আমি কিছু বলছিনা। যখন বলতে যাবো তখনই লাইনটা কেটে দিল/:)। সাথে সাথে আবার ফোন করলাম। এরপরের ঘটনা ভয়াবহ। স্পষ্ট শুনতে পেলাম ওপাশ থেকে ওর বাবা ফোনটা ধরেই খুব ধীরে ধীরে ওকে বলছে, " নাম্বারটা লিখে পুলিশকে ফোন কর":|। আমার তখন করুন অবস্থা। মনে হতে লাগলো কখন পুলিশ এসে বাসায় নক করবে । বাসায় কাউকে বলতেও পারিনা আবার ভয়ে বাইরেও যেতে পারিনা। বাইরে গিয়ে চোরের মত খালি সামনে পিছে তাকাই আর দেখি কোন পুলিশের গাড়ী আছে কিনা:|। ঐ ঘটনাটা বেশ কয়েকদিন বেশ কয়েকদিন আমাকে আতঙকিত করে রেখেছিলX(। পরে অবশ্য গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেনেছিলাম সব ভুয়া :|



ঐ বছররেই আরেকটা ঘটনা। একদিন ভাবলাম বন্ধুদের সাথে একটু মজা করি। একেকজনকে ফোন করে ক্যাসেট প্লেয়ারে গান বাজিয়ে শোনাতে লাগলাম:P। কিন্তু এবারও ধরা খাইলাম। একজনকে ফোন করার পর মেয়েলী গলায় হ্যালো শুনলাম। যাইহোক মেয়েলী কন্ঠকে গান শুনিয়ে ফোনটা রাখলাম , সাথে সাথেই বন্ধু কল ব্যাক করল।
বন্ধু: কিরে দোস্ত কেমন আছিস?
আমি: হ্যা দোস্ত ভালো আছি :|
বন্ধু: তুই কি ফোন করে সেতুকে(বন্ধুর বোন) গান শুনাইছিস:-*?
আমি: কই নাতো ... কে বলল... :P
বন্ধু: না ... ট্রেসিং মেশিনে তোর নাম্বারটাই তো উঠছে...




যাই হোক, ফোন নিয়ে আরও একটা ঘটনা বলেই শেষ করি। এইটা হয়তো ২ বছর আগের ঘটনা। বাসায় আমি ফোন ধরিইনা বলতে গেলে। ফোন আসলেও আম্মুকে বা কাউকে ডেকে ফোন উঠাতে বলি। ঐদিন বাসায় কেউ ছিলনা । ফোন আসার পর বাধ্য হয়ে আমাকেই উঠাতে হলX(

আমি : হ্যালো কে?
>> আমি সুলতান, সৌদি থেকে... তুমি কে?(সুলতান আমার ফুপাতো ভাই , অল্প কিছুদিন আগে সৌদি গিয়েছে)
আমি : ও ,সুলতান কেমন আছো ...আমি ...?
>>জি ভালো তোমরা সবাই ভালো আছো?
আমি : হ্যা ভালো... তারপর তোমার কি অবস্থা ... সব কিছু ঠিক মত চলতেছে.... ?
>>হ্যা ভালোই আছি.... তোমার আম্মু কোথায়?
আমি : আম্মু তো বাসায় নাই ...
>> আচ্ছা আসলে বইলো আমি ফোন করছিলাম

উনার শেষ কথা টা শুনে আমি একটা ধাক্কা খেলাম। আমার এক নানা (আম্মুর মামা) সৌদীতেই থাকেন। কাকতালীয় ভাবে উনার নামও সুলতান। আর দুর্ভাগ্যক্রমে ফোনটা উনিই করছিলেন :((:((:((








সর্বশেষ এডিট : ১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:২৯
২৩টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×