মমতার বাংলাদেশ সফর বাতিলের খবরটি শোনার পর থেকে চিন্তা করছি, আমাদের যদি একজন মমতা থাকত! আমরা যদি একজন মমতা পেতাম! যে ব্যাক্তিগত বন্ধুত্বের উর্ধ্বে উঠে দেশ ও জাতির স্বার্থ দেখার সাহস রাখে! যে মমতা বলতে পারে, "বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার ব্যাক্তিগত সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাজ্যবাসীর স্বার্থ দেখা তার অগ্রাধিকার।"
অথচ আমাদের প্রধানমন্ত্রী শুধু মুখে দাবী করেছে তার চেয়ে বড় দেশপ্রেমিক একজনও নেই বাংলাদেশে। কিন্তু সব কাজকর্ম প্রমাণ করে তার চেয়ে ভারতপ্রেমী আর একজনও নেই বাংলাদেশে। মমতার মতো সাহস নিয়ে বৈধ অধিকার আদায় করার দাবী তিনি তুলতে পারেন না।
শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ফোন, মনমোহনের অনুরোধও মমতাকে টলাতে পারেনা। পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থের বাইরে তিনি কোন অনুরোধ রাখেন না। তিনি বাংলাদেশে আসবেন না। অন্যদিকে সামান্য সোনিয়ার সামনে একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী নুয়ে পড়ে!
তিস্তা চুক্তির ভিতর আসলে ভারতের স্বার্থ আগে দেখা হয়েছে। কিন্তু তারপরও মমতার অভিযোগ, তিস্তা-চুক্তি নিয়ে কেন্দ্র তার সঙ্গে প্রায় কোনো আলোচনা করেনি। গোড়ায় চুক্তির খসড়াও দেখানো হয়নি। অথচ এর আগের বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকারের সঙ্গে তাদের সবিস্তারে আলোচনা হয়েছিল।
আনন্দবাজার পত্রিকায় বলা হয়, অবস্থা বুঝে এরপর দিনই শিবশঙ্কর মেননকে মমতার সঙ্গে কথা বলতে পাঠান প্রধানমন্ত্রী ও প্রণব। মেনন মমতাকে বলেন, “আগে চুক্তিটা হয়ে যাক। তারপর আপনি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে আপনার আপত্তির কথা জানাবেন। বলবেন এতটা পানি দেয়া যাবে না। প্রধানমন্ত্রীও আপনাকে চিঠি দেবেন। গোটা বিষয়টা তখন ঠিক হবে। কারণ, এটা একটা অন্তর্বর্তী চুক্তি।” মমতা তাতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “সে ক্ষেত্রে তো আপনারা চুক্তিটাই সৎ ভাবে করছেন না।”
একটি বিষয় এখানে খেয়াল করার মতো, তিস্তা চুক্তি নিয়ে অনেক আগে থেকেই ভারতীয় মহল গবেষণা করে আসছিল। সবকিছু তারাই ঠিক করেছে। এরপরও মমতার কথা হলো তিনি এখন নির্বাচিত প্রতিনিধি। তাকে সবকিছু জানাতে হবে। এরপর চুক্তি।
অথচ বাংলাদেশ অনেকগুলো চুক্তি মনমোহনের সফরের সময় করতে যাচ্ছে। কি করতে যাচ্ছে কেউ জানেনা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানেনা, পানিসম্পদমন্ত্রী জানেনা, সংসদ জানেনা! শেখ হাসিনার উপদেষ্টা গওহর রিজভী গতকাল বলেছিল, "সম্ভাব্য সব চুক্তি, প্রটোকল ও সমঝোতা স্মারক মন্ত্রীসভায় সোমবার উপস্থাপন করা হবে। অথচ প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ আজ মন্ত্রীসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেছেন, "এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।" অর্থাৎ মন্ত্রীসভাও জানেনা মনমোহনের সাথে কিসের চুক্তি কিভাবে হচ্ছে!
এখানেই আসল পার্থক্য ভারতের মমতার সাথে বাংলাদেশের শেখ হাসিনার। মমতার সাথে আলোচনা না করে, দেশের জনগণকে না জানিয়ে কোন চুক্তি মমতা করতে দিবেনা। দেশ ও জাতির পক্ষে মমতার সাহসী অবস্থান দেখে মন হাহাকার করে উঠে হায়, আমাদেরও যদি একজন মমতা থাকতো?!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

