মেয়েটি অতি আধুনিক, স্মার্ট, চলাফেরায় খুব চটপটে। আমাদেরই সিনিয়র আপু। দারুন বুদ্ধিমতি ও মেধাবী। একই হলে থাকি। কোন কিছু না বুঝলে সোজা চলে যাই আপুর কাছে। আপু হিন্দু ধর্মের। যে কাউকে আপন করে নিতে পারে।
প্রথম প্রথম মেডিকেলের পড়াশুনা কিছুই মাথায় ঢুকেনা। অনেক চেষ্ঠা করি, ইংলিশ টু বাংলা ডিকশনারী নিয়ে লাইব্রেরীতে বসে থাকি। খুটিয়ে খুটিয়ে অর্থ বুঝার চেষ্ঠা করি। একদিন লাইব্রেরীতেই আপুর সাথে পরিচয়। সেই থেকে শুরু। যেটা ডিকশনারী নিয়ে বুঝতে কয়েক ঘন্টা লাগে সেটা আপুর কাছে গিয়ে পাঁচ মিনিটেই বুঝে নিই।
বরাবরই ভাল রেজাল্ট আপুর। আমাদের সেই আপু কিভাবে যেন সম্পর্কে জড়িয়ে গেল এক মুসলিম ছেলের সাথে। ছেলেটিও আপুর মতই অতি আধুনিক। আস্তে আস্তে সম্পর্ক অনেক গভীর। আপু হলে অনিয়মিত।
একদিন শুনলাম বিয়ে করে ফেলেছে। কোথায় কিভাবে করেছে তা জানিনা। প্রথমে শুনেছি, আপু মুসলিম হয়েছে। আবার শুনি, ছেলে-মেয়ে কেউ কারো ধর্ম পরিবর্তন করেনি। আপুকে জিজ্ঞেস করি, কিন্তু উত্তর দেয়না। তবে বলে, আমি কি আগে ধর্ম মানতাম? তোরা দেখেছিস কখনো পুঁজো করতে? বলি, না! আপু বলে এখনও সে রকমই আছি। কিন্তু আসল প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাইনা। আপু, এখন হিন্দু না মুসলিম!
এদিকে আপুর পরিবার মুসলিম ছেলেকে মেনে নেয় না, ছেলেটির পরিবারও হিন্দু মেয়েকে মেনে নেয় না। দিন যায়, মাস যায়। আপুর সেই আগের উচ্ছলতা আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে। ক্লাসে, পড়াশুনায় অনিয়মিত। কিভাবে যে কি হয়ে গেল, বুঝতে পারিনা।
আপুকে জিজ্ঞেস করি। চুপ করে থাকে। বারবার জিজ্ঞেস করার পর আপু বলে, তার হাজবেন্ড নাকি বলেছে, আপু যেন তার মা-বাবার সাথে যোগাযোগ না রাখে। কারণ ছেলের মা বাবা শর্ত দিয়েছে তারা আপুকে মেনে নিবে, তবে হিন্দু পিতা-মাতার সাথে কোন সম্পর্ক রাখতে পারবেনা। আপু বলে এটা কি সম্ভব? আপু নাকি উল্টো বলেছে, ছেলেটিকে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করতে! তাহলে আর কোন সমস্যা থাকেনা। ছেলেটি বলে, না এটা সম্ভব নয়। সে নিয়ে নিয়মিত সমস্যা চলছে। ছেলেটির এক কথা, এক্ষেত্রে ছেলেরা ধর্ম পরিবর্তন করেনা। বুঝতে পারলাম, তারা কেউ কারো ধর্ম পরিবর্তন করেনি। জাষ্ট বিয়ে করে ফেলেছে।
বললাম, আপনারা তো কেউ ধর্ম তেমন মানেন না। তারপরও সমস্যা হচ্ছে কেন? আপু বলে, উভয়ের ফ্যামিলিতে সমস্যা। আবার আমি আমার মা-বাবাকে ত্যাগ করতে পারব না। কিন্তু যাকে ভালবেসে বিয়ে করলাম, সে কিনা আমাকে বলে, মা-বাবাকে ত্যাগ করতে!
জিজ্ঞেস করলাম, এখন কি করবেন? বলে, জানি না!
সেই উচ্ছল আপু সেই যে হতাশ হলো, আর কাটাতে পারলো না। না ছেলেটি এগিয়ে আসল, না ছেলের পরিবার মেনে নিল, না আপুর পরিবার কিছু করতে পারল। পরিণতিতে শুরু হলো নেশা গ্রহণ। জীবনকে আনন্দময় রাখার জন্যই মনে হয়, অনেকের সাথে নানাবিদ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ল। কিন্তু তাতে কি আর শান্তি পাওয়া যায়?! জীবন যেন পৃথিবীতেই নরকে পরিণত হলো...
ঘটনাটি মনে পড়ল, একটি খবর পড়ে। আন্তধর্মীয় বিয়েকে উৎসাহ দিয়ে বিগত মইন উ সরকারের করা একটি আইনের বাস্তবায়ন সরকার শুরু করেছে। অর্থাৎ ছেলে-মেয়ে কেউ কারো ধর্ম ত্যাগ না করেই বিয়ে করতে পারবে। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকায় এসে ‘নো রিলিজিয়াস’ নামে ভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের বিয়ের সংখ্যা বাড়ছে। আইনমন্ত্রী ব্যাক্তিস্বাধীনতার নাম দিয়ে এ ধরনের বিয়েকে রক্ষা করার কথা বলেছেন। এতে ইতোমধ্যে সমাজ ও পরিবার প্রথায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
এ ধরনের বিয়ে শুধু বিবাহিত জীবনে সমস্যার সৃষ্টি করে তা নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ধর্মীয় পরিচয়েও বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করবে। ফলে ভবিষ্যৎ বংশধররা ধর্মহীন হয়ে যেতে পারে। যদি এ ধরনের বিয়ে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে কয়েক দশক পরেই দেশে ধর্মহীন একটি প্রজন্মের উদ্ভব ঘটতে পারে। নৈতিকতাহীন, ধর্মহীন জাতি তৈরি করার দীর্ঘমেয়াদী কোন টার্গেট নিয়ে কি এসব করা হচ্ছে?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

