somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সরকার কি করেছে তা জাতিকে জানাতেই হবে...

০৯ ই অক্টোবর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়া ব্যাক্তিদের ব্যাপারে সৌদি বাদশাহর কাছে আবেদন করলে নাকি জানানো হয়েছিল, নিহত মিশরীয় ব্যাক্তির পরিবার যদি ক্ষমা করে তাহলে সৌদি আরবের কোন আপত্তি নেই। এটা তো ছিল বিশাল এক সুযোগ। এই সুযোগের প্রেক্ষিতে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল?

শিরশ্চেদের পর (আগে নয়) রিয়াদ দূতাবাসের লেবার কাউন্সেলর হারুন অর রশিদের মাধ্যমে নিম্মলিখিত তথ্য গুলো জানা যায়)-

১। বাংলাদেশের সৌদি দূতাবাস, রিয়াদস্থ মিশরীয় দূতাবাসের মাধ্যমে নিহত ব্যাক্তির পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে দণ্ডপ্রাপ্তদের ক্ষমা করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিল।
২। এ বিষয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়াদস্থ মিশরীয় রাষ্ট্রদূতের সাথে সাক্ষাত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছিল।
৩। মিশরের রাষ্ট্রদূত জানান যে, নিহত হাসান আল সাইদ মিশরের প্রত্যন্ত জনপদ শারকাইয়া এলাকার অধিবাসী। ওই এলাকার অধিবাসীরা সাধারণভাবে হত্যার বদলে হত্যার নীতি একনিষ্ঠ ভাবে বিশ্বাস করে। এ কারনে নিহত হাসান আল সাইদ-এর উত্তরাধিকারীদের কাছ থেকে প্রাণভিক্ষার সম্মতি আদায় করা একটি কঠিন কাজ। তবে তিনি নিহতের পরিবারকে যেকোনওভাবে দণ্ডপ্রাপ্তদের ক্ষমা করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আশ্বাস প্রদান করে।
৪। এ ব্যাপারে রিয়াদস্থ মিশরীয় দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়।
৫। দুই বছর আগে মিশরীয় দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানিয়ে দেন যে, নিহতের পরিবার কোনও ভাবেই হত্যাকারীদের ক্ষমা করতে রাজি নয়।

এখন যে প্রশ্ন গুলো সামনে আসে-

১। মিশরে কি বাংলাদেশের দূতাবাস নেই? নিশ্চয় আছে। তাহলে বাংলাদেশ কেন শুধু রিয়াদস্থ মিশরীয় দূতাবাসের মাধ্যমে যোগাযোগ করল? কেন মিশরস্থ বাংলাদেশের দূতাবাসের মাধ্যমে নিহত ব্যাক্তির পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেনি? সরকার কেন মিশরের দূতাবাসের মাধ্যমে সমযোতার চেষ্ঠা করেনি?
২। নিহতের পরিবার যে ক্ষমা করতে রাজি নয় তা দুই বছর আগেই যদি বাংলাদেশকে জানিয়ে দেয়া হয় তাহলে এই দুই বছর সরকার ও বাংলাদেশের সৌদি দূতাবাস কি করেছে?
৩। বাংলাদেশের সৌদি দূতাবাস সূত্রেই জানা যায়, নিহত ব্যাক্তির পরিবারের সাথে বাংলাদেশ সরকারের কেউ সরাসরি কথা বলেনি। কেন বলেনি? তারা কেন শুধু রিয়াদস্থ মিশর দূতাবাসের উপর দায়িত্ব দিয়ে বসে ছিল?
৪। বাংলাদেশেও মিশরের দূতাবাস আছে। এখান থেকেও একটি চেষ্ঠা করা যেত। কেন ঢাকাস্থ মিশরীয় দূতাবাসের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়নি?
৫। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি কতটুকু জানতো? একবারের জন্যও তো বাংলাদেশের কোন সংবাদপত্রে বিষয়টি আসেনি। তাহলে কি পুরো বিষয়টি সরকার সিরিয়াসলি নেয়নি? সংবাদপত্রে আসলে বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি হতো। জনমত তৈরি হতো। কেন দেশের কাউকে জানানো হয়নি?
৬। মিশরের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কোন সমস্যা নেই। তাহলে সরকার কেন রাষ্ট্রীয় ভাবে বিষয়টি মিশরের সাথে হ্যান্ডেল করেনি? কেন রিয়াদস্থ মিশরীয় দূতাবাসকে দায়িত্ব দিয়ে বসে ছিল?
৭। যদি সরকার সিরিয়াস হতো, মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত ব্যাক্তিদের পরিবারের সদস্যেদের মিশর যাওয়ার ব্যবস্থা করে নিহত ব্যাক্তির পরিবারকে অনুরোধ করতে পারতো। তারা প্রয়োজনে হাতে-পায়ে ধরে ক্ষমা আদায় করতো। তা কেন করা হয়নি?
৮। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মাধ্যমে চেষ্ঠা করতে পারতো। সাংবাদিক, সুশীল সমাজ, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, শিক্ষকসহ, মিশরে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের মাধ্যমে চেষ্ঠা করা যেত। কোন কিছুই কেন করা হয়নি?
৯। প্রয়োজন হলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলতো। অনুরোধ করতো। আরো প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রপতি নিজে গিয়ে অনুরোধ করতো। তারপরও তো এই অসহায় শ্রমিকগুলো প্রাণে বেঁচে যেত। কেন করা হয়নি?
১০। সরকার বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে জড়িতদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কি করেনি? লক্ষ লক্ষ ডলার খরচ করে বিভিন্ন দেশে গোয়েন্দা ও লবিষ্ট নিয়োগ করেনি? সম্ভাব্য দেশে যখনই পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিয়েছে সেখানে সেই আসামীদের ফিরিয়ে আনার জন্য লবিং করেনি? এদের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী কয়বার সৌদি আরব ও মিশর সফর করেছে?
১১। শেখ হাসিনার কথিত শান্তির ফর্মূলা প্রচারের জন্য বিশ্বের অনেক দেশে কোটি টাকা খরচ করে প্রতিনিধি দল কি পাঠানো হয়নি? বারাক ওবামার সাথে বৈঠক করার জন্য লক্ষ ডলার খরচ করে লবিষ্ট নিয়োগ করা হয়নি? প্রয়োজনে সেই রকম প্রতিনিধি দল মিশরে পাঠানো হতো। তারা গিয়ে নিহত ব্যাক্তির পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতো। কেন করা হয়নি?
১২। সরকার দুই বছর আগে জানার পরও দেশের মানুষ কেন জানলো না যে আটজন লোক মৃত্যুর প্রহর গুনছে? আসলে এই লোকদের জীবন বাঁচানোর জন্য কি করেছে?
১৩। দূতাবাসের লেবার কাউন্সেলরের মাধ্যমে যা জানা যায়. গত দুই বছরে আর কোন প্রকার উদ্যোগ নেয়া হয়নি। সামান্য যা কিছু করা হয়েছিল তা দুবছর আগে। কেন এরপর সরকার নিশ্চুপ ছিল?
১৪। দুই বছর সময় পাওয়ার পরও সকল ধরনের বিকল্প পথে কেন চেষ্ঠা করা হয়নি? এই দুবছর কেন সরকার বসে ছিল?
১৫। আসলে সৌদি আরবের আইনের কারণে ওই সব শ্রমিকের জীবন গিয়েছে, না বাংলাদেশ সরকারের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে গিয়েছে?

সেই গানের কথাগুলো বার বার মনে পড়ছে-
আমি চিৎকার করে কাঁদিতে চাহিয়া
করিতে পারিনি চিৎকার
বুকের ব্যথা বুকে চাপায়ে নিজেকে দিয়েছি ধিক্কার
কত ব্যথা বুকে চাপালেই তাকে বলি আমি ধৈর্য
নির্মমতা কতদূর হলে জাতি হবে নির্লজ্জ

কিছু কি করা যেতোনা. এই অসহায় শ্রমিকদের জন্য? কারো কি কোন দায়িত্ব ছিলনা? তাদের রক্ত পানি করা পাঠানো ডলারে কি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দিনে দিনে বড় হয়নি? তাদের পাঠানো সেই হাজার কোটি ডলার থেকে ব্যয় করে কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিমাসে বিদেশ সফর করেনা? সিঙ্গাপুরে রাষ্ট্রপতির শারিরীক চেকআপের বিল কি সেই ডলার থেকে দেয়া হয়নি? জাতিসংঘ সম্মেলনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্য বুকিং করা সবচেয়ে বিলাস বহুল হোটেলের বিল কি সেই ডলার দিয়ে পরিশোধ করা হয়নি? প্রধামনন্ত্রীর কানের চিকিৎসার বিলের সেই ডলার ব্যয় করা হয়নি? আমলাদের বিদেশ ভ্রমনের বিল কি সেই ডলার থেকে দেয়া হয়নি? যারা ছিল ওই সব ডলারের যোগানদাতা তাদের বাঁচানোর দায়িত্ব কি কারো ছিলনা? এত দায়িত্বহীন কিভাবে হতে পারে একটি দেশের সরকার? প্রভু তোমাকেই জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হয়, যে দেশের সরকার এত দায়িত্বহীন সে দেশে কেন আমাদেরকে পাঠিয়েছ?

আগের পোষ্ট- এই আমাদের ইংরেজি জ্ঞান?!
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই অক্টোবর, ২০১১ দুপুর ১২:২৭
১৭টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

♣♣ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সকল চলচ্চিত্রের ভিডিও ও ডাউনলোড লিংক!!!♣♣

লিখেছেন বঙ্গভূমির রঙ্গমেলায়, ০১ লা আগস্ট, ২০১৫ দুপুর ২:০৯




বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রামাণ্য, স্বল্পদৈর্ঘ্য এবং পূর্ণদের্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এত বেশিসংখ্যক চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়েছে যে, দেশের বাইরেও তা প্রশংসা কুড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হেরাল্ড ট্রিবিউন পত্রিকার ভাষায় ‘আগামী প্রজন্মের... ...বাকিটুকু পড়ুন

হলুদ সাংবাদিকতা বন্ধ হোকঃ ডাঃ মীম এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার প্রসঙ্গে।

লিখেছেন জ্বলন্ত রিপন, ০১ লা আগস্ট, ২০১৫ দুপুর ১২:০৬


ঢাকা মেডিকেলের ইমার্জেন্সি বিভাগে কর্তব্যরত ডাঃ মিম রোগীর লোকের সাথে রূঢ় ব্যবহার করার খবর ছাপিয়েছে যুগান্তর পত্রিকা ।
পুরো খবর পড়ার পর যে কেউই ভাববে সাঙ্ঘাতি একটা বিষয় ।
আসুন খবর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের নামে অসহায় মানুষগুলোর সাথে এ যেন নির্মম উপহাস।

লিখেছেন মোঃ গালিব মেহেদী খাঁন, ০১ লা আগস্ট, ২০১৫ দুপুর ২:০৯


মসজিদ আল্লাহর ঘর। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের স্থান। মসজিদ কোন আরাম আয়েশের বা এলাকার গৌরবের স্থাপনা নয়।
মসজিদ প্রয়োজন অনুযায়ি নির্মিত হবে। এটাই স্বাভাবিক। প্রশ্ন হল মসজিদকে আলিশান হতে হবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কম বেশি

লিখেছেন ইনকগনিটো, ০১ লা আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৩:০৫

শীত এলেই আমি জীবনের সাথে দূরত্ব বজায় রেখে চলি
কিছু ছায়া ঝরে পড়েছিলো রক্তের ভেতর
রক্তের ভেতর ঝরে পড়েছিলো ক্ষুধা ও ফাঙ্গাস
প্রেমিকার বিছানা ছেড়ে বেশ্যার ঘরে যেতে যেতে জীবনের কথা বলি
শীত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোটবেলায় আমার করা কয়েকটি অদ্ভুত ধারনা _!!! আপনার_ ???

লিখেছেন Uttam49, ০১ লা আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৪:৩৬


১) পুজায়/ঈদ এ কেনা কাপড়টি আগে দেখানো যাবে না তাহলে পুরাতন হয়ে যাবে ।
২) সন্ধার পর গাছের পাতা ছেড়া যাবে না কারন তখন গাছ ঘুমায়।
৩) রাতের বেলায় সেরম... ...বাকিটুকু পড়ুন

নগ্ন হৃদয়ে

লিখেছেন জেন রসি, ০১ লা আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৫:৪২




মুহূর্তের স্বাদে কয়েক ফোঁটা ঘামের অসুখ
গড়ে উঠে সভ্যতা, রক্তের আদিম-জন্মসুখে
বৃক্ষের অতলেই ঘুমিয়ে ছিল কিছু ছায়ার নির্ঘুম রাত
যেমন মানবীর বুকে মানবের সুরের এপিটাফ-
মৃত নগরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন