somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সরকার জনগনের ভাষা বুঝতে ব্যার্থ, রাজনৈতিক পরাজয় বরন করতেই হবে...

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ৯:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বর্তমান বিশ্বে একটি রাজনৈতি দলের উত্থান এবং পতন দুটোই নির্ধারিত হয় সেই রাজনৈতিক দলের সমর্থক তথা জনগনের সমর্থনের প্রভাবে। এটা প্রায় শতভাগ সত্যি, তবে এর ব্যতিক্রমও পাওয়া যাবে হয়ত। যদিও এই সমর্থনের প্রভাব সবসময় দ্রুত ক্রিয়াশীল নয় কিন্তু যেকোন ভাবেই হোক কোন না কোন সময় এই জনসমর্থনের প্রভাব যে কোন রাজনৈতিক দলের উপর পড়বেই। সে দল যত বড়ই হোক আর যত ছোটই হোক, সে দলের কর্মকান্ড যত ভালই হোক আর যত খারাপই হোক। এ জনসমর্থন কোন অবস্থায়ই সেই রাজনৈতিক দলর সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িতদের সর্মথন কে নির্দেশ করেনা এবং কখনোই ধ্রুব নয়, এটা পরিবর্তীত হয় রাজনৈতিক দলের কর্মকান্ডের পরির্বতনের সাথে সাথে। তবে সেই রাজনৈতিক দলর সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িতদের কর্মকান্ড এবং প্রভাব অত্যান্ত ধীরগতিতে হলেও জনসমর্থনের উপরে প্রভাব বিস্তার করে। তবে বর্তমান আন্তঃরাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে এ কথা অনস্বীকার্য যে শুধু মাত্র জনসমর্থন ছাড়াও বর্হিবিশ্বের সাথে এবং প্রতিবেশী দেশের সাথে পারস্পারিক আর্থিক, রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কও একটি রাজনৈতিক শক্তির অবস্থানের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যান্ত দু্খঃজনক হলেও এটা চিন্তা করার যথেষ্ট কারন আছে যে, বাংলাদেশের ইতিহাসের অত্যান্তগুরুত্বপূর্ণ এবং বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি বাংলাদেশের স্থপতি অবিসংবাদিত মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের দল আওয়ামিলীগ রাজনৈতিক অপমৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
হয়ত এটা আমার মত সাধারন মানুষের কাছথেকে আসার কারনে এ ধারনাটা ততটা গুরুত্ব বহন করেনা কিন্তু মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মতামতগ্রহনের সদিচ্ছা থেকেই এ আলোচনার অবতারনা।

বর্তমান সরকারের কর্মকান্ড দৃষ্টে মনেহচ্ছে বাংলাদেশের জন্ম ও তারপরবর্তী ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দল আওয়ামিলীগ এবার সবচেয়ে শক্তিশালী সরকার গঠনকরে সবচেয়ে অগ্রহণযোগ্য আচরন করছে এবং সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ অবস্থানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সর্ববৃহৎ দলটির কাছে জনগনের যে প্রত্যাশা ছিল এবং থাকার কথা তা পুরনে অথবা তার প্রতি নুন্যতম সন্মান প্রদর্শনে দলটি পুরোপুরি ব্যার্থতা প্রদর্শন করে চলছে। অবশ্যই যে কোন দলের ভবিষ্যত নির্ধারনের নিয়ামক অন্যতম শক্তি জনগন যথেষ্ট অসহায় কিনতু অত্যান্ত সর্তকতার সাথে তাদের কর্মকান্ড পর্যবেক্ষণ করছে। এসময়ে তারা যে ধরনের চরিত্র ও আচরন প্রকাশ করবে জনগন তার উপরে ভিত্তি করেই তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নির্ধারন করবে। যদি আওয়ামীলিগ মনে করে থাকে যে প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক, সামরিক ও ভুঅবস্থানগত প্রভাব তাদের পক্ষে থাকলেই তারা দীর্ঘদিন সর্বোচ্চ রাজনৈতিক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে সেটি হবে তাদের মারাত্মক ধরণের ভুল। হয়ত সাময়িক ভাবে তাদের তৃপ্তি লাভ হতেপারে কিন্তু সবকিছুর শেষে তাদেরকে জনরায়ের প্রভাবের কাছে পরাজয় স্বীকার করতেই হবে। এপরাজয় যতটা না তাদের বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির প্রচেষ্টার ফসল তার চেয়ে অনেক অনেক গুন বেশী দায়ী থাকবে তাদের শঠতাপূর্ন হিংসা ও ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক মনোভাব এবং বহিঃশক্তির প্রতি আনুগত্য, নির্ভরতা ও তাবেদারী মনোভাব। প্রকৃত পক্ষে দলটি হয়ত জনগনের ভাষাটি বুঝতে ব্যার্থ হচ্ছে অথবা জনরায়ের প্রতি আস্থা রাখার পরিবর্তে বিকল্প পথ অবলম্বন করার সিদ্ধান্ত নিতে চাচ্ছে।

প্রকৃত পক্ষে ভুল রাজনৈতিক পথে হাটার কারনেই বর্তমান আওয়ামীলিগ জনগনের কাছেথেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে যাচ্ছে। সরকার অদক্ষ শাসনব্যাবস্থা, দ্রব্যমুল্য ও আইনশৃংখলা পরিস্থিতিসহ জনগনের নুন্যতম সাধারন চাহিদা পূরনে তারা অনেকটাই ব্যার্থ হয়েছে, কিছু জাতীয় ইস্যুকে প্রচন্ড নগ্ন ভাবে রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করতে চেয়েছে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার উপায় হিসেবে, বাংলাদেশের স্বার্থ জলাঞ্জলীদিয়ে প্রতিবেশী দেশের স্বার্থ রক্ষার্থে ভূমিকা রাখা ও অত্যান্ত নগ্নভাবে নতজানু পররাষ্টনীতি গ্রহণ করে দেশের সম্মান ভুলন্ঠিত করেছে, ইতিবাচক দিনবদলের স্বপ্ন দেখিয়ে নেতিবাচক রাজনীতি চাপিয়ে দিয়ে তরুন সমাজকে ধোকা দেয়া হয়েছে।


বর্তমান সময়ের কতগুলো বিশেষ রাজনৈতিক অবস্থা এবং কর্মকান্ডের বিষয়ে দৃষ্টিপাত করলেই সহজেই বর্তমান সরকারের ব্যার্থতা, রাজনৈতিক অভিসন্ধি ও চাতুর্য সমন্ধে ধারনা পাওয়া যাবে............

১) দ্রব্যমুল্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অধিকাংশ মন্ত্রনলয়ে অদক্ষ মন্ত্রী ইত্যাদি। চালের দাম দশটাকাতে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল কিন্তু সেটা সম্পূর্ন অস্বীকার করা হয়েছে।

২) সাবেক সরকারের দূর্নীতি ইস্যুগুলো যথাসময়ে নিয়ম তান্ত্রিক ভাবে প্রমান ও বিচার ব্যাবস্থা নাকরে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের আগে ব্যাবহার করার জন্য রেখে দেয়া , নির্বাচন পদ্ধতিতে যথা সম্ভব জটিলতা সৃস্টি করা। যুদ্ধাপরাধ ইস্যুটি অন্যতম প্রধান একটা জাতীয় ইস্যু হওয়া সত্বেও তারা এটির রাজনীতিকরন করেছে এবং এই বিচার কর্ম শুরু করা উচিত ছিল প্রথমদিকেই কিন্তু নির্বাচনের আগে ইস্যুটিকে কাজে লাগানোর জন্য এটাকে রেখে দেয়া হয়েছিল। স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি দাবি করে যুদ্ধাপরাধ ইস্যু নিয়ে পনগনের সাথে প্রতারনা করা হয়েছে।

৩) টিপাইমুখ, তিস্তা, ট্রান্জিট ও নদীবন্দর ব্যাবহার প্রভৃতি ইস্যুতে সরকার দেশের স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে ভিনদেশী স্বার্থ রক্ষায় সচেষ্ট থেকেছে, সিমান্তে ফেলানী হত্যা এবং হাবিবুরের প্রতি অমানুষিক নির্যাতনের ক্ষেত্রে দেশের জনগনের মনোভাবের প্রতি সম্মান না দেখিয়ে অত্যান্ত নির্লজ্জ নির্লিপ্ততা দেখিয়েছে।

৪) জনগনের এবং মোট ভোটার সংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তরুনদের স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল একটি উন্নত প্রযুক্তিমুখী বাংলাদেশের, ডিজিটাল যুগের সুচনা করার কথা ছিল, এ ক্ষেত্রে তরুন সমাজকে হতাশ করাহয়েছে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাস প্রচন্ড ভাবে বিস্তার লাভ করেছে। প্রতিটি ঘর থেকে একজন কে চাকুরী দেবার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছিল, প্রতিশ্রুতি রক্ষাকরার কোন ব্যাবস্থা করা হয়নাই....

.....


সর্নিবন্ধ অনুরোধঃ এগুলো একেবারেই আমার ব্যাক্তিগত মতামত, যদি লেখায় ভুল থাকে বা মতের অমিল থাকে জানাবেন অবশ্যই সম্মানের সাথে বিবেচনা করবো। দয়াকরে গালিগালাজ করবেন না কারন প্রতিউত্তরে আমি গালি দিবো না, আর যদি গালি দিতেই হয় আমাকে দিতে পারেন কিন্তু সেটা মা-বাবা, পরিবার পরিজনদের নিয়ে নয়...
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ৯:৩৯
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×