ইসলামী ব্যাংক নিয়ে অনেকের মধ্যে অনেক ধরনের ক্ষোভ আছে। অনেকের আছে তিক্ত অভিজ্ঞতা। এখানে এধরনের একটি অভিজ্ঞতার কথা আমি বলব। বিচারের দায়িত্ব পাঠকবৃন্দ আপনাদের।
প্রায় ১৪/১৫ মাস আগে আমি ইসলামী ব্যাংকের এটিএম ক্যাডের গ্রাহক হই। আমি যখন গ্রাহক হই তখন ইসলামী ব্যাংকের এটিএম ক্যাড দিয়ে বেশ কয়েকটা ব্যাংকের বুথ থেকে টাকা তোলা যেত।এর জন্য কোন সার্ভিস চার্জ লাগতো না। ৩/৪ মাস আগে নয়া দিগন্তের ৫/৬ নং পেইজে ছোট্ট একটা বিজ্ঞাপনের দিকে চোখ আটকে গেল। সেখানে লেখা ইসলামী ব্যাংকের এটিএম ক্যাড দিয়ে ইসলামী ব্যাংকের নিজস্ব বুথ ছাড়া অন্য ব্যাংকের বুথ থেকে টাকা তুললে প্রতি বার সার্ভিস চার্জ কাটবে। এখানেই নিহিত রয়েছে ১ম প্রতারণা[/sb]। তারা কিন্তু আমাকে প্রথমে কার্ড দেয়ার সময় বলেছিল ইসলামী ব্যাংকের বুথ ছাড়াও কয়েকটা ব্যাংকের নাম বলেছিল (যেমন: এবি ব্যাংক) এর বুথ থেকে ফ্রি টাকা তুলতে পারবেন। ব্যবহার শুরু করার এক বছরের মাথায় সার্ভিস চার্জ বসাল। তারা কার্ড দেয়ার সময় কিন্তু বলেনাই তারা এভাবে সার্ভিস চার্জ বসাবে। তাহলে নিজ দায়িত্বে কার্ড নিতাম। কারও প্রোরচনার স্বীকার হতাম না। এরপর আসেন ২য় প্রতারণায়। মীরপুর ১ এ গ্রামীন ফোনের কাস্টমার কেয়ারের তৃতীয় তলায় ইসলামী ব্যাংকের একটা শাখা আছে। গ্রামীন ফোনের কাস্টমার কেয়ারের সাথেই আছে ইসলামী ব্যাংকের একটা বুথ। প্রায়ই সময় এই বুথে টাকা থাকেনা, মেশিন নষ্ট থাকে সহ আরো বহু সমস্যা থাকে। এই বুথের ১৫০ গজ সামনে আছে এবি ব্যাংকের একটা বুথ। যখন ইসলামী ব্যাংকেরে এই বুথে সমস্যা হয় তখন এখানকার সিকিউিরিটি গার্ড বলে এবি ব্যাংকের বুথে যান। পাঠকরা ভাল করে একটা জিনিশ খেয়াল করবেন ইসলামী ব্যাংকের নিজস্ব বুথ নষ্ট, তারা সাজেষ্ট করছে এবি ব্যাংকের বুথে যেতে, এবি ব্যাংকের বুথ থেকে টাকা তুলতে গেলে লাগে প্রতি বারে ১৫ টাকা করে।(সার্ভিস চার্জ)। একবারে ১০০০০ হাজারের বেশী টাকা তোলা যায় না। আমি যদি বিশ হাজার টাকা তুলি তাহলে সার্ভিস চার্জ কাটবে ৩০ টাকা, যদি ৩০০০০ হাজার তুলি তাহলে ৪৫ টাকা, যদি ৪০০০০০ তুলি তাহলে ৬০ টাকা। এখন আমি যদি বলি ইসলামী ব্যাংক তার নিজস্ব বুথ ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট করে রেখেছে এবং কন্টাকটের মাধ্যমে সে এই সার্ভিস চার্জের ভাগ নিচ্ছে, এটা কি আমার ভূল বলা হবে। এরপর আসেন ৩য় প্রতারণায় আমি যদি এবি ব্যাংক বা এই নেটওয়াকের কোন ব্যাংকের বুথ থেকে টাকা তুলি উদহারণ স্বরুপ ১০০০ টাকা তুললাম। ওদের স্লিপে লেখা থাকে আমি তুলেছি ১০১৫ টাকা। কিন্তু আমি এই ১৫ টাকা তুলি নাই। এই ১৫ টাকাকে সার্ভিস চার্জ হিসেবে দেখানোর মত সৎ সাহস ইসলামী ব্যাংকের নাই। এখন দেখুন ওদের গ্রাহক হয়রানীর নমুনা। আজ (১/৮/২০১১) তারিখে আমি মিরপুর ১ এর ইসলামী ব্যাংকের বুথে গিয়েছি সকাল ১১টার দিকে। গিয়ে দেখলাম বরাবরের বুথে টাকা নেই। গেলাম ব্যাংকে। অভিযোগ জানালাম। তারা বলল ৩ ঘন্টার মধ্যে টাকা ঢুকিয়ে দিবে। আমি চলে আসলাম নিচে। বুথের সামনে কয়েকটি নাম্বার আছে অভিযোগের জন্য। ফোন করা শুরু করলাম। চারটা মোবাইল নাম্বার থেকে ১টা খোলা পেলাম। সেই নাম্বারে অভিযোগ জানালাম। তারা বলল বুথে টাকা ফুরানোর পর টাকা ঢুকাতে একটু সময় লাগে। আমার কথা হচ্ছে ব্যাংক তো আমাকে কার্ডটা ফ্রি দেয়নাই। টাকা ঢুকাতে যেহেতু সময় লাগে তাহলে আগের থেকে ব্যবস্থা নেয় নাই কেন? ওদের সার্ভিস চার্জ দেয়ার পর আমি সাফারার হব কেন? যাক কথা বর্তা শেষ করলাম। এরপর আমি টাকা তুলতে গেলাম বিকাল ৪.২০ মিনিটে। গিয়ে দেখি তখনও বুথে টাকা ঢোকানো হয় নি। ফোন করলাম অভিযোগ কেন্দ্রে। চারটা মোবাইল নাম্বারের সবগুলিই বন্ধ। ফোন করলাম টিএনটি নাম্বারে। সেখানে পেলাম। ফোন রিসিভ হয় কিন্তু কথা হয় না। দুই তিন বার চেষ্টার পর একজন ব্যক্তিকে পেলাম। যার সাথে কথা হতে হতে তিনি লাইন কেটে দিলেন। আবার আমি চেষ্টা করলাম। এবার ধরল আর একজন। তার সাথে কথা হতে হতে এক পর্যায়ে তিনি বললেন আমাদের বুথ এই রকমই ইচ্ছা হলে ব্যবহার করেন পছন্দ না হলে করেন না। এই হলো ইসলামী ব্যাংকের সার্ভিস।
আর ইসলামী ব্যাংকের বুথে গিয়ে টাকা থাকেনা, মেশিন নষ্ট এটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু এবি ব্যাংকরে বুথ বা এই নেট্ওয়ার্কের অন্য ব্যাংকের বুথে কিন্তু এই সমস্যা কখনও দেখিনাই। সেখানে সবসময় টাকা থাকে। মেশিনও নষ্ট থাকে না।এই ব্যপারটা নিয়ে আমি কেন জানি হিসাব মেলাতে পারিনা।পাঠকবৃন্দ সমস্যাটা কোথায় আমার মাথায় না কি ইসলামী ব্যাংকের। আর তাই শিরনাম টা দিয়েছি ইসলামী ব্যাংক, নামের আগে ইসলাম থাকায় সব জায়েজ। যদি ভূল বলে থাকি তাহলে নিজ গুনে ক্ষমা করবেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


