somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইসলাম ধর্মে হতাশার স্থান

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১১:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আপনার কি কখন মনে হয়েছে আপনি একা ? নিজেকে মনে হয়েছে সবার থেকে, সব কিছু থেকে গুটিয়ে ফেলতে? মনটা ভরে উঠেছে হতাশায়, জীবনটাকে অসহনীয় আর দীর্ঘ মনে হয়েছে। শুধু মনে হয়েছে কেন আপনার উপর এতো চাপ, কেন আপনাকে এতো দুঃসময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। এর কোন একটা যদি আপনার অবস্থার সাথে মিলে যায়, তবে আপনি একা নন। আপনার মত আরও অনেক মানুষ একই রকম অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এখন দেখা যাক, ইসলাম ধর্মে এ সম্পর্কে কি বলা হয়েছে।

পবিত্র কোরান শরীফে সুরা আল বাকারায় (২:১৫৫) বলা হয়েছে, “আমি তোমাদের অবশ্যই আতংক, ক্ষুধা, সম্পদ, ও ফসল দিয়ে পরীক্ষা করবো”। এখানে আরও বল হয়েছে যারা ধৈর্য নিয়ে খারাপ সময় মোকাবেলা করে এবং বলে, “আমরা আল্লাহ কাছ থেকে এসেছি আর তার কাছেই আমরা ফিরে যাব”; তাদের জন্য সুখবর রয়েছে। সাথে সাথে সুরা আম মাইদায় বলা হচ্ছে (৫:৬), “ আল্লাহ তোমাদের ভারাক্রান্ত করতে চান না; বরং তোমাদের বিশুদ্ধ করে, তার নেয়ামত তোমাদের উপর পরিপূর্ণ করতে চান, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ থাক”। আবার সুরা আল মু মিনুন এ বলা হচ্ছে, কোন আত্মাকে তার ক্ষমতার বেশী পরীক্ষায় নেয়া হয় না। সুরা আল হাদীদ সহ একাধিক সুরায় বলা আছে, পৃথিবীর এই ক্ষণস্থায়ী জীবন হল একটা মরীচিকা। সাথে সাথে সুরা ইউসুফে (১২: ৮৭) বলা হয়েছে, কখনই আল্লাহ’র ক্ষমা সম্পর্কে আশা ছেড়ে দিও না। সুরা আত তালাক-এ (৬৫:৭) বলা হচ্ছে, “ শিগ্রই কষ্টের পরে, আল্লাহ, জীবন সহজ করে দিবেন’। আবার, সুরা আল আন আম (৬:৫৯) –এ আল্লাহ নিজেই ঘোষনা করেছেন, তার ইচ্ছা ছাড়া গাছের পাতা পর্যন্ত পড়ে না।

উপরের কথাগুলোকে আমাদের জীবনের সাথে মিলিয়ে ভাবলে, বিষয়টা অনেকটা এমন দাঁড়ায়। আমাদের প্রত্যেককেই মহান আল্লাহ তা’লা পরীক্ষা করেন। আমারা বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ি । এই বিপর্যয় আল্লাহ তরফ থেকেই আসে। কারন তার ইচ্ছা ছাড়া কোন পাতা পর্যন্ত পড়ে না। এই পরীক্ষার মধ্যে আমরা যখন পড়ি, আমাদেরকে ধৈর্য আর বিশ্বাস অবিচল রাখার জন্যে বলা হয়েছে। মহান সৃষ্টি কর্তা শীগ্রই আমাদের এ অবস্থার অবসান করবেন। আমরা সামাল দিতে পারব না, এমন কোন পরীক্ষায় আল্লাহ আমাদের ফেলেন না। বরং, আমারা আতঙ্কিত হয়ে পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলি। নিজেকে, অন্যকে, সৃষ্টিকর্তাকে দোষারোপ করি। কেও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে, কেও বা বিপথে চলে যায়, আত্ম ধ্বংসকারী কাজ করে। এমনকি জীবন নিয়ে ক্লান্ত হয়ে আত্মহত্যার কথা চিন্তা ভাবনা করে। জয় হয় শয়তানের কু মন্ত্রনার। আমারা আল্লাহ’র নির্দেশিত পথ থেকে দূরে সরে যাই।
ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর যে কোন ঘটনার সমাপ্তি আছে। এখন যা বর্তমান, কিছুক্ষণ পরেই তা অতীত হয়ে হারিয়ে যায়। মরুভুমিতে মরীচিকা দেখার মত। আল্লাহ আমাদের পরীক্ষা করেন, যাতে তিনি তার নেয়ামত কোন কার্পণ্য ছাড়াই আমাদের দিতে পারেন।

কিছু মানুষ বিপর্যয়ে ভারাক্রান্ত হয়ে অস্থির হয়ে পরেন। ভাবতে থাকেন, আর কত পরীক্ষা! আর এর শেষ কোথায়!! এই কথার উত্তরে বলা যায়, আল্লাহ যাকে বেশী ভালবাসেন তাকে হয়তো পরীক্ষাও বেশী করেন। সফলভাবে পরীক্ষা দিতে পারলে, আল্লাহ তা’লা বেহেস্তের অঙ্গীকার করেই রেখেছেন।

শেষে এই কথা বলি, ইহকাল এবং পরকাল নিয়ে আমাদের পূর্ণ জীবন। আমারা হয়তো আমাদের কিছু কাজের ফল ইহকালে না পেলেও, আল্লাহ’র রহমতে পরকালে অবশ্যই পাব। আল্লাহ’কে পরম বিশ্বাসে ডাকলে, আল্লাহ প্রত্যেকের ডাকে সাড়া দেন। তবে তার “সাড়া” আমারা এখন অনেকে বুঝতে পারি না। কিন্তু আমাদের শেষ বিচারের দিন যখন এই “সাড়া” র সব চেয়ে বেশী প্রয়োজন হবে, তখন আমরা তার উপকার পাব। আল্লাহ রাব্বুল আম আমীনের দরজা প্রত্যেক বিশ্বাসীর জন্য সব সময় খোলা।



সেপ্টেম্বর ১২, ২০১১
http://www.lekhalekhi.net



১০টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×