গার্মেন্টস শিল্প ও শ্রমিক আন্দোলনঃ
২০ ভাগ বেতন বাড়ানোর দাবিতে সম্প্রতি গাজীপুরের জিএমএস কম্পোজিট নিটিং কারখানায় ব্যাপক আন্দোলন হয়েছে। পুলিশী এ্যাকশনে আহত হয়েছে ২০ জন শ্রমিক। বিশ্বাস সিনথেটিক লিমিটেড নামে সাভারের একটি কারখানায় আনসারের এ্যাকশনে শ্রমিকরা গুলিবিদ্ধ ও আহত হয়েছে।
পৌনঃপুনিকভাবে এ রকম ঘটনা ঘটছে। গার্মেন্টস খাতের কারখানা, নিটিং-ডায়িং কারখানায় মাঝে মাঝে শ্রমিক অসন্তোষ ও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে। অধিকার বঞ্চিত বিকুব্ধ শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে ভাংচুর চালাচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে কারখানার। কখনো কখনো এ আন্দোলন রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ছে। ঘটছে গাড়ি ভাংচুরের মতো ঘটনা। সেখানেও ঘটছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি।
মালিকপক্ষকে রক্ষা করছে র্যাব-পুলিশ-আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কখনো মালিকপক্ষের প্রাইভেট গুন্ডাবাহিনীও দমন করছে শ্রমিক আন্দোলন কার্যক্রম। দুই পক্ষে চলছে সংঘাত-সংঘর্ষ। শেষ পর্যন্ত প্রাণহানিও ঘটছে। আহত, গুলিবিদ্ধ ও জখম হচ্ছেন শ্রমিকরা। বন্ধ হচ্ছে কারখানা।
গার্মেন্টস শিল্প একটি শ্রমঘন শিল্প। শ্রমিকরাই এর প্রাণ। কাজেই শ্রমিকদের বিষয়টি উপেক্ষা করে এ সমস্যার বাস্তব সমাধান প্রায় অসম্ভব। জিনিসপত্রের অগ্নিমূল্য, শ্রমিকদের মানবেতর জীবনযাপন, নিম্নমজুরি, মালিক পক্ষের অতি মুনাফা-নির্ভরতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্ভরতা ইত্যাদি কারণে বারবার ঘটছে এ রকম আন্দোলন।
এ বিষয়ে দরকার মালিক, শ্রমিক ও সরকার- ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা। ইতোপূর্বে একাধিকবার এসব বিষয় আলোচিত হয়েছে। চিহ্নিত হয়েছে সমস্যা। প্রস্তাবিত হয়েছে সমাধানের উপায়। এখন দরকার এসবের কার্যকর বাস্তবায়ন।
জরুরি অবস্থার সুযোগে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন ও সাংগঠনিক কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে 'চাপিয়ে দেয়া' সিদ্ধান্ত নিয়ে এ অগ্নিগর্ভ সমস্যার সমাধান অসম্ভব।
মানবিক, কল্যাণকর ও বাস্তবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এ সমস্যার সমাধান দরকার। শ্রমিকদের প্রতি একটি দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে মালিকপক্ষকে। ন্যায্য ও মর্যাদাপূর্ণ মানবিক জীবনযাপনের মত মজুরীসহ সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা ছাড়া শ্রমিককল্যাণ সাধন অসম্ভব। কারখানার মুনাফার অর্ধেক শ্রমিকদের নামে বরাদ্দ করেই এ খাতের দ্রুত বিকাশ সম্ভব। এ বিষয়ে মালিকপক্ষ ও সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। চালকের আসনে বসে সরকারকেই আনতে হবে এর বাস্তব এবং টেকসই সমাধান।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

