হবিগঞ্জে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসী সহায়ক কর্মচারী নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগঃ
হবিগঞ্জে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসী সহায়ক কর্মচারী নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, চলতি মাসে সহায়ক কর্মচারী নিয়োগের জন্য ২০০৮ সালের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। হবিগঞ্জ চীফ জুডিসিয়িাল ম্যাজিস্ট্রেট ও বাছাই কমিটির চেয়ারম্যান মোঃ হেলাল উদ্দিন কর্তৃক গত ৮ আগষ্ট ২০০৮ ইং তারিখে স্বাক্ষরিত পরীক্ষার কেন্দ্রীয় আসন নির্দেশিকা সিটে দেখা যায়, হবিগঞ্জ সরকারী মহিলা কলেজের মূল ভবনের ৪ ও ৫ নং কক্ষ এবং একাডেমিক ভবনের ১০১, ১০২, ২০২, ৩০১ নং কক্ষে অনুষ্ঠিত ১৯ টি পদে যথাক্রমে প্রসেস সার্ভার পদে ৫৪৮ জন, নাজির ৩২ জন, হিসাব রক্ষক ১৭ জন, রেকর্ডকীপার ২৮ জন, তুলনা সহকারী ৩২ জন, এমএলএসএস ৪৫০ জন, নৈশ প্রহরী ৭ জন, ফরাস ১৬ জন, জুডিসিয়াল পেশকার ১৪৫ জন, ষ্টোরকীপার ৯২ জন, টাইপিষ্ট/কপিষ্ট ১১ জন, নিম্নমান সহকারী কাম টাইপিষ্ট ১২ জন, রেকর্ড সহঃ/নিম্নমান সহকারী ১২ জন, ক্যাশিয়ার ৩৬ জন, বেঞ্চ সহকারী ৭৩ জন, ক্যাশ সরকার ৭৪ জন, ষ্টেনোগ্রাফার ৫ জন, ষ্টেনোগ্রাফার কাম কম্পিউটার অপারেটর ২ জন, ষ্টেনো টাইপিষ্ট ১২৮ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। এরমধ্যে ক্যাশ সরকার পদে লোক নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতি ধরা পড়েছে। জানা যায়, গত ১০/০৭/০৮ ইং তারিখে ক্যাশ সরকার পদে প্রথম দরখাস্ত গ্রহণ করা হয়। যার ক্রমিক ও রোল নং ১ । উক্তপদে সর্বশেষ দরখাস্ত গ্রহণ করা হয় ১৫/০৭/০৮ ইং তারিখে। যার ক্রমিক নং ৮৪ এবং রোল নং ৭৪। দরখাস্ত গ্রহণের শেষ তারিখ ছিল ২০/০৭/০৮ ইং। ওই তারিখে সর্বশেষ দরখাস্ত গ্রহণের পর অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও বাছাই কমিটির চেয়ারম্যান মোঃ হেলাল উদ্দিন কর্তৃক স্বাক্ষরিত রিপোর্টসীট ও রেজিষ্ট্রারে লেখা হয় যে, ক্যাশ সরকার পদে মোটপ্রাপ্ত দরখাস্তের সংখ্যা ৮৪। বাতিল দরখাস্তের সংখ্যা ১০ টি। বাছাইয়ের পর সঠিক দরখাস্তের সংখ্যা ৭৪ টি বলে উল্লেখ আছে।
৮ আগষ্ট অর্থাৎ পরীক্ষার দিন যে আসন বিন্যাস পরীক্ষার হলে টাঙানো হয়, তাতে ক্যাশ সরকার পদে ৭৪ জনের কথা উল্লেখ ছিল বলে জানা গেছে। কিন্তু ফলাফল বিবরণীতে ৭৫ নং রোল নম্বরধারী আবু হানিফ নামে একজন লোক পাশ করেছেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। অথচ ওই রোল নং পরীক্ষা শুরুর আগে ঘোষিত হয় নি। ওই রোল নম্বরের আবু হানিফ পরীক্ষার হলে যায় নি কিংবা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে নি। গোপন সূত্রে জানা যায়, নিয়ম বহির্ভূতভাবে পরীক্ষার দিন রাত ৯ ঘটিকার সময় বাছাই কমিটির একজন সদস্যের বাসায় উক্ত ব্যক্তির দরখাস্ত গ্রহণ করা হয়। এবং বেআইনীভাবে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। সর্বশেষ ৮৫ নং ক্রমিকে আবু হানিফের দরখাস্ত সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূতভাবে এন্টি করা হয়েছে। অবৈধভাবে দরখাস্তকারী আবু হানিফের বাড়ি বি বাড়িয়া জেলায় বলে জানা যায়। আবু হানিফের আবেদনের তারিখ ০৪/০৭/২০০৮ ইং লেখা হয়েছে। কিন্তু তার দাখিলকৃত দরখাস্তের সাথে যে সকল সনদের ফটোকপি দেওয়া হয়েছে, উক্ত ফটোকপিগুলো ০৬/০৭/২০০৮ ইং তারিখে সত্যায়নকৃত। তাহলে স্বভাবতই প্রশ্ন দেখা দেয় যে, ০৬/০৭/২০০৮ ইং তারিখে সত্যায়নকৃত কাগজপত্র ০৪/০৭/২০০৮ ইং তারিখে জমা হলো কিভাবে? এছাড়া ০৪/০৭/২০০৮ ইং তারিখে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এতে প্রমাণিত হয় যে, হবিগঞ্জ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও বাছাই কমিটির চেয়ারম্যান মোঃ হেলাল উদ্দিন নিয়ম বহির্ভূতভাবে আবু হানিফের দরখাস্ত গ্রহণ ও সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে পরীক্ষা গ্রহণ দেখিয়ে ঘুষ-দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে নিয়োগ দিয়েছেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


