somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করুন

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করুনঃ
ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে ঘরমুখো মানুষের ঘরে ফেরার বিড়ম্বনা ততই বেড়ে যাচ্ছে। এটা অবশ্য নতুন কিছু নয়। প্রতিবছরই এই বিড়ম্বনা মানুষের উৎসবকে অনেকটাই ম্রিয়মাণ করে। প্রতি বছরই ঈদের আগে আগে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ঘরমুখো মানুষকে নানাভাবে সাহায্য করার 'সারমন' পাই। শেষ পর্যন্ত সারমনগুলো সারমনই থেকে যায়। বাস্তবে কোন কাজে আসে না। এবারেই সেই একই
বিড়ম্বনার চিত্রে ঈদে ঘরমুখো মানুষগুলোর জন্য যেমন সহানুভূতিশীল তেমনি খানিকটা উদ্বিগ্নও না হয়ে পারছি না।
জানি ঘরমুখো মানুষের তুলনায় আমাদের যানবাহনের সংখ্যা কম হলেও ভোগান্তি ও কষ্ট মেনে নেয়া যায় না।। আমাদের দেশে শোষণ-লুণ্ঠনমূলক ব্যবস্থার কারণে যে দারিদ্রতার সৃষ্টি হলেও সেই দেশের দরিদ্র মানুষের ভাগ্যে ভাল কিছু আশা করা অন্যায় নয়।। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো যদি পরিকল্পিতভাবে এবং যথার্থ দক্ষতার সঙ্গে ঈদের সময়কার পরিবহন ব্যবস্থাকে পরিচালিত করতে পারেন তাহলে ভোগান্তি কমে আসবে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পত্রিকার রিপোর্টের ও টেলিভিশনের ক্যামেরার সামনে শুধু বড় বড় কথাই বলে যায়। কথার প্রয়োগ বাস্তবে আর হয় না। এবং সমস্যাটা এখানেই। যানবাহন কম থাকায় ভিড় বাড়বে সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর চোখের সামনেই যখন ঘাটে ঘাটে অপ্রীতিকর ও বেআইনি ঘটনা ঘটে তখন তার উত্তরে আইন প্রয়োগকারীদের কী বলার আছে? ঈদকে সামনে রেখে পথে পথে হয়রানি আর বিভিন্ন টার্মিনালেও নাজেহাল হওয়ার ঘটনা ঘটেই চলেছে। এই নাজেহাল হওয়ার ঘটনা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ইচ্ছে করলেই কমিয়ে আনতে পারে। ইতোমধ্যেই পরিবহন চাঁদাবাজি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এগুলো কি কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করলে কমিয়ে আনতে পারে না? ট্যাক্সিঅলা কিংবা রিকশাঅলা পুলিশের চোখের সামনেই অনেকগুণ বেশি ভাড়া হাঁকাচ্ছে। পুলিশ নির্বিকার। শুধু অধিকারই নয় পুলিশ ঘটনা প্রত্যক্ষ করে মুচকি মুচকি হাসে এমন ঘটনাও ঘটে।
গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের উপচেপড়া ভিড়ে কে কোথায় কোনদিকে যাবে, কোন বাস কোত্থেকে ছাড়বে সেই দিশাই পায় না ঘরমুখো যাত্রীরা। একই সঙ্গে চলছে কাউন্টারগুলোতে টিকেট বিক্রেতাদের কারচুপি। একই টিকেট দু'জনের কাছে বিক্রি করে বাস শ্রমিকরা একজনকে ইঞ্জিনকভারের ওপর বসতে বাধ্য করছে। লঞ্চে ও স্টিমারের দৃশ্যও একই রকম। পুরনো আনফিট লঞ্চ ব্যবহার করা হচ্ছে। ডেকে বসানো হচ্ছে অতিরিক্ত যাত্রী। লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি নির্বিকারভাবে বলেন, আমরা কী করব। অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া কিংবা আনফিট লঞ্চ অবস্থার কারণেই চালাতে হচ্ছে। অন্যদিকে ফেরিঘাটগুলোতে চলছে মারাত্মক চাঁদাবাজি এবং বিশেষ করে মহিলা যাত্রীদের ওপর ঠেলা-ধাক্কা দেয়ার প্রতিযোগিতা। মাওয়া-কাওড়াকান্দি এবং পাটুয়ারিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি পাইয়ে দেয়ার কথা বলে প্রতিটি গাড়ি হতে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদাবাজি চলছে বলে একাধিক পরিবহন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে কোথাও কোন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নামগন্ধও নেই।
এমতাবস্থায় সরকারের বক্তৃতা-বিবৃতি কিংবা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কথাবার্তা শুনে ঘরমুখো যাত্রীদের দুঃখ-কষ্ট লাঘব হবে না সেটাই বড় কথা। অতীতেও বহুবার দেশের পরিবহন ব্যবস্থার সমস্যা নিয়ে একটা দীর্ঘ পরিকল্পনা গ্রহণ ও তার বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে আমাদের চমৎকার ট্রেন নেটওয়ার্কটিকে যথাযথভাবে কার্যকর ও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে বহুবার বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পত্রিকার খবর বেরিয়েছে যে, ট্রেনের অর্ধেক টিকেট বিক্রি হয়ে বাকিটা বিক্রি হচ্ছে না। আবার পরের দিন অন্য একটি খবরে জানা গেল ট্রেনেরও টিকেট পাওয়া যাচ্ছে না। কোনটা ঠিক কোনটা বেঠিক সেটাও বলা কষ্টকর।
পরিবহন ব্যবস্থার বৈপ্লবিক উন্নয়ন করা অসম্ভব সম্ভব নয়। যদিও সরকারের সেদিকে মনোযোগ নেই। কিন্তু আত্মীয় পরিজনকে নিয়ে ঈদ উদযাপনের জন্য ঘরমুখো মানুষগুলোর যাত্রাটি যেন যথাসম্ভব নির্বিঘ্ন এবং নিরাপদ হতে পারে সরকার তো সেই ব্যবস্থাটি করতে পারে। আর কোন মানুষকে যেন লঞ্চডুবিতে মরতে না হয় সরকার তো সেটা নিশ্চিত করতে পারে।


১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×