ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করুনঃ
ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে ঘরমুখো মানুষের ঘরে ফেরার বিড়ম্বনা ততই বেড়ে যাচ্ছে। এটা অবশ্য নতুন কিছু নয়। প্রতিবছরই এই বিড়ম্বনা মানুষের উৎসবকে অনেকটাই ম্রিয়মাণ করে। প্রতি বছরই ঈদের আগে আগে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ঘরমুখো মানুষকে নানাভাবে সাহায্য করার 'সারমন' পাই। শেষ পর্যন্ত সারমনগুলো সারমনই থেকে যায়। বাস্তবে কোন কাজে আসে না। এবারেই সেই একই
বিড়ম্বনার চিত্রে ঈদে ঘরমুখো মানুষগুলোর জন্য যেমন সহানুভূতিশীল তেমনি খানিকটা উদ্বিগ্নও না হয়ে পারছি না।
জানি ঘরমুখো মানুষের তুলনায় আমাদের যানবাহনের সংখ্যা কম হলেও ভোগান্তি ও কষ্ট মেনে নেয়া যায় না।। আমাদের দেশে শোষণ-লুণ্ঠনমূলক ব্যবস্থার কারণে যে দারিদ্রতার সৃষ্টি হলেও সেই দেশের দরিদ্র মানুষের ভাগ্যে ভাল কিছু আশা করা অন্যায় নয়।। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো যদি পরিকল্পিতভাবে এবং যথার্থ দক্ষতার সঙ্গে ঈদের সময়কার পরিবহন ব্যবস্থাকে পরিচালিত করতে পারেন তাহলে ভোগান্তি কমে আসবে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পত্রিকার রিপোর্টের ও টেলিভিশনের ক্যামেরার সামনে শুধু বড় বড় কথাই বলে যায়। কথার প্রয়োগ বাস্তবে আর হয় না। এবং সমস্যাটা এখানেই। যানবাহন কম থাকায় ভিড় বাড়বে সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর চোখের সামনেই যখন ঘাটে ঘাটে অপ্রীতিকর ও বেআইনি ঘটনা ঘটে তখন তার উত্তরে আইন প্রয়োগকারীদের কী বলার আছে? ঈদকে সামনে রেখে পথে পথে হয়রানি আর বিভিন্ন টার্মিনালেও নাজেহাল হওয়ার ঘটনা ঘটেই চলেছে। এই নাজেহাল হওয়ার ঘটনা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ইচ্ছে করলেই কমিয়ে আনতে পারে। ইতোমধ্যেই পরিবহন চাঁদাবাজি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এগুলো কি কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করলে কমিয়ে আনতে পারে না? ট্যাক্সিঅলা কিংবা রিকশাঅলা পুলিশের চোখের সামনেই অনেকগুণ বেশি ভাড়া হাঁকাচ্ছে। পুলিশ নির্বিকার। শুধু অধিকারই নয় পুলিশ ঘটনা প্রত্যক্ষ করে মুচকি মুচকি হাসে এমন ঘটনাও ঘটে।
গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের উপচেপড়া ভিড়ে কে কোথায় কোনদিকে যাবে, কোন বাস কোত্থেকে ছাড়বে সেই দিশাই পায় না ঘরমুখো যাত্রীরা। একই সঙ্গে চলছে কাউন্টারগুলোতে টিকেট বিক্রেতাদের কারচুপি। একই টিকেট দু'জনের কাছে বিক্রি করে বাস শ্রমিকরা একজনকে ইঞ্জিনকভারের ওপর বসতে বাধ্য করছে। লঞ্চে ও স্টিমারের দৃশ্যও একই রকম। পুরনো আনফিট লঞ্চ ব্যবহার করা হচ্ছে। ডেকে বসানো হচ্ছে অতিরিক্ত যাত্রী। লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি নির্বিকারভাবে বলেন, আমরা কী করব। অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া কিংবা আনফিট লঞ্চ অবস্থার কারণেই চালাতে হচ্ছে। অন্যদিকে ফেরিঘাটগুলোতে চলছে মারাত্মক চাঁদাবাজি এবং বিশেষ করে মহিলা যাত্রীদের ওপর ঠেলা-ধাক্কা দেয়ার প্রতিযোগিতা। মাওয়া-কাওড়াকান্দি এবং পাটুয়ারিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি পাইয়ে দেয়ার কথা বলে প্রতিটি গাড়ি হতে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদাবাজি চলছে বলে একাধিক পরিবহন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে কোথাও কোন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নামগন্ধও নেই।
এমতাবস্থায় সরকারের বক্তৃতা-বিবৃতি কিংবা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কথাবার্তা শুনে ঘরমুখো যাত্রীদের দুঃখ-কষ্ট লাঘব হবে না সেটাই বড় কথা। অতীতেও বহুবার দেশের পরিবহন ব্যবস্থার সমস্যা নিয়ে একটা দীর্ঘ পরিকল্পনা গ্রহণ ও তার বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে আমাদের চমৎকার ট্রেন নেটওয়ার্কটিকে যথাযথভাবে কার্যকর ও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে বহুবার বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পত্রিকার খবর বেরিয়েছে যে, ট্রেনের অর্ধেক টিকেট বিক্রি হয়ে বাকিটা বিক্রি হচ্ছে না। আবার পরের দিন অন্য একটি খবরে জানা গেল ট্রেনেরও টিকেট পাওয়া যাচ্ছে না। কোনটা ঠিক কোনটা বেঠিক সেটাও বলা কষ্টকর।
পরিবহন ব্যবস্থার বৈপ্লবিক উন্নয়ন করা অসম্ভব সম্ভব নয়। যদিও সরকারের সেদিকে মনোযোগ নেই। কিন্তু আত্মীয় পরিজনকে নিয়ে ঈদ উদযাপনের জন্য ঘরমুখো মানুষগুলোর যাত্রাটি যেন যথাসম্ভব নির্বিঘ্ন এবং নিরাপদ হতে পারে সরকার তো সেই ব্যবস্থাটি করতে পারে। আর কোন মানুষকে যেন লঞ্চডুবিতে মরতে না হয় সরকার তো সেটা নিশ্চিত করতে পারে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


