somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গ্যাস ব্লক ইজারা: কিছু সত্য কিছু অতিরজ্ঞিত ভাবনা

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[ এই পোস্টটি সম্পূর্নই আমার ব্যাক্তিগত চিন্তাধারা ও বিচ্ছিন্ন পড়াশোনার ফসল। এখানে উল্লেখিত ডাটা ইনটারনেট ও পত্র-পত্রিকা থেকে নেয়া। পদত্ত ডাটা সমসাময়িক না ও হতে পারে। সর্বপরি আমি ভূতত্ব ও অর্থনীতি সম্পর্কে বিষদ ধারনা রাখি না ]



সম্প্রতিক সময়ে ৩ টি সামুদ্রিক ব্লক ইজারা নিয়ে ব্যাপক অলোচনা-সমালোচনা চলছে। চুক্তির অনুমোদন সম্প্রতিক সময়ে হলেও চুক্তির বেজ গাইড লাইন প্রনয়ণ শুরু হয় ২০০৪-৬ এ এবং অনুকোদন হয় ২০০৮ এবং ২০০৯ এ এই গাইড লাইন অনুসারে ১ম চুক্তি স্বাক্ষরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থাত দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল ও তত্তাবধায়ক সরকার সবাই এর সাথে যরিত।


চুক্তির সবচেয়ে সমালোচিত দিক:
১। সর্বোচ্চ ৫৫% কস্ট রিকভারি
২। ৮০% গ্যাস রফতানির সম্ভবনা
৩। এলএনজি আকারে রফতানি

১। সর্বোচ্চ ৫৫% কস্ট রিকভার : ধরুন কোন কম্পানি ১ টি ব্লকে ১ টিসিএফ উত্তলনযোগ্য গ্যাস খেত্র পেল। ২-ডি/৩-ডি সিসমিক সার্ভে, ড্রিলিং, রিগ স্থাপন ইত্যাদি ইত্যাদিতে তারা১,২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করলো। আর গ্যাস উত্তলনের জন্য ৪-১০ কূপ খনন করে সর্বোমোট ২
বিলিয়ন ডলার ব্যয় করলো। তাহলে এই ২ বিলিয়ন ডলার উসুল করার জন্য কম্পানিটি সর্বোচ্চ ৫৫% পর্যন্ত গ্যাস দাবি করতে পারবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমরা কত দামে তাদের কাছ থেকে গ্যাস কিনবো ?

চুক্তিতে বর্নিত উপায়ে ১ ইউনিটের (১০০০ সিফ) বর্তমান মূল্য ৪-৪,৫ ডলার । সুতরাং ২ বিলিয়ন/ ৪ = ৫,০০,০০,০০০ ইউনিট পাবে যা
১ টিসিএফ (১০,০০,০০,০০০) এর ৫০%। অতএব ৫৫% পাবার সুযোগ থাকলেও তারা ৫০% বেশী পাবে না। আর আমরা গ্যাস বেশী দামে কিনি তাহলে ওদের কম ইউনিট দিতে হবে আর কম দামে কিনলে বেশী ইউনিট দিতে হব তবে অবশ্যই তা ৫৫% এর মধ্য।

** আর দাম নির্নয় ও বিদেশী কম্পানির বিনিয়োগ বাজেট পাশ ও মনিটর করা পেট্রবাংলার কাজ। সুতরাং তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যত ভাল চুক্তিই করেন না কেন মনিটরিং এ ঘাপলা হলে সবই যাবে।

২। ৮০% গ্যাস রফতানির সম্ভবনা : ৫৫% কস্ট রিকভারি প্লাস ২৫% লাভের অংশ মোট ৮০% ভাগ। বাংলাদেশের বাত্সরিক প্রবৃদ্ধে ৫-৬% আর তা কনটিনিউ করার জন্য ২৩০ সান পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রয়োজন ১০০-১৩০ টিসিএফ গ্যাস। কয়লার জ্বালানি ক্ষমতাকে যদি আমরা গ্যাসে কনভার্ট করি তাহলে আমাদের বর্তমানে আছে
(গ্যাস প্লাস কয়লা ) ৩৫-৪০ টিসিএফ। সুতরাং দেশেই চাহিদার কমতি নেই।

টাটার মত ৩০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ আমরা ফিরিয়ে দিয়েছি কারন ১০-১২ বছর গ্যাস দেওয়ার গেরান্টি আমরা দিতে পারিনি। এখন আমদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে বেসকারী/বিদেশী প্রতিষ্ঠানে আমরা ৪-৫ ডালরে গ্যাস দিব নাকি বাজার মূল্যে (৮-১২ ডলার) দেব ?

হয় তারা উত্পাদকের কাছ থেকে বাজার মূল্যে কিনুক অথবা পেট্রবাংলার কাছ থেকে বাজার মূল্যে কিনুক। আমদের পক্ষে আর ভর্তুকি দিয়ে তাদের গ্যাস দেওয়া উচিত নয়। সুতরাং ৮০% গ্যাস যাতে বাংলাদেশেই ব্যাবহার হয় তা সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে।


৩। এলএনজি আকারে রফতানি : গ্যাস উত্তলোক কম্পানি গুলো যত তারাতারি পরে তরা তাদের বিনিয়োগ ও মূনাফা তুলে নিতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তারা মোট মজুদের ৭'৫% এর অধিক ১ বছরে উত্তোলন করতে পারবে না। সুতরাং ১ টিসিএফ তুলতে প্রায় ১৪ বছর লাগবে। ৭'৫% এর অধিক তুলতে চাইলে পেট্রবাংলার অনুমতি লাগবে। সুতরাং পেট্রবাংলার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যত ভাল চুক্তিই করেন না কেন মনিটরিং এ ঘাপলা হলে সবই যাবে।

** আর পাইপ লাইনের গ্যাস দিয়ে শিল্প চালানোর চাইতে এলএনজি দিয়ে শিল্প চালানোর খরচ অনেক অনেক বেশী তাই বাংলসদেশ অতি সহজেই ঐ শিল্পগুলো আমাদের এখানে আনতে পারে। আর এলএনজি মূলত বাড়ির জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার হয়। আমাদের উচিত পাইপ লাইন বাদ দিয়ে সিলিন্ডারে মুভ করা।

অনটারনেটিভ: আমরা ইচ্ছে করলে নিজেরাই গ্যাস উত্তোলন করতে পারি। তার অগে কিছু তথ্য:

১। বাংলাদেশে স্থল ভাগে প্রতি ১০ টি কূপের ১ টিতে উত্তলোনযোগ্য গ্যাস পাওয়া যায়। কূপ প্রতি খরচ প্রায় কোটি টাকা।
২। ড্রিলিং রিগের মূল্য ২ মিলিয়ন ডলার।
৩। বাংলাদএশের সি- ড্রিলিং রিগ, সিসমিক সার্ভে শিপ, ৩-ডি সার্ভে করার সামর্থ নাই।


কন্ট্রাক্ট : পুরো খরচ ও বিমার প্রমিয়াম বাংলাদএশকে বহন করতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে ২ টি ব্লক বিদেশী কম্পানি ফেরত দিয়েছে। সার্ভে ও টেস্ট কূপ খনন করে তাদের ব্যয় ছিল ৪ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশকে এই যুকিটা নিতে হবে কন্ট্রাক্ট অথবা নিজেরা যেভাবেই করুক।

বাপেস্কের যে অবস্থা তাতে ১০-১৫ কোটি টাকা খরচ করে স্থল ভাগে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন করা যেতে পারে। সমুদ্র আমদের কোন অভিজ্ঞতা নাই। আমাদেশ ৫-১২ বছর প্রয়োজন তা অর্জন করার জন্য।

আশা করি চুক্তি নিয়ে অতিরজ্ঞিত ধারনাগুলো অমি ক্লিয়ার করতে পেরেছি। তার পরেও যে কোন ধারা নিয়ে আমরা দেন-দরবার করতেই পারি। কিন্তু পুরো চুক্তি বাতিল কোন সমাধান নয়। অন্তত আগামী ৫-৭ বছর আমদের কোন না কোন বিদেশী কম্পানির দ্বারস্থ হতেই হবে যদি না আমরা এই সময়ের মধ্যে নিজেরা সামর্থ অর্জন না করি ত হলে আরো বেশী সময় বিদেশী কম্পানির পেছনে দৌড়াতে হবে। আর এক একটি চুক্তি করতে ১-২ বছর সময় লাগে। আমাদের অতি তারাতারি গ্যাস প্রয়োজন।

মাথা কেটে মাথা ব্যাথা সারানো কোন সমাধান নয় বরং মাথাটা রেখেই যত ভাল ভাবে তা পরিচর্যা/ পরিচালনা করা যায় সে চেষ্টাই করা উচিত।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৩০
১৩টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আত্মসমালোচনা।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৭ শে মে, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩

আত্মসমালোচনা।
আত্মসমালোচনা সভ্যতার অন্যতম প্রধান শক্তি। যে ব্যক্তি, সমাজ, দল বা জাতি নিজের ভুল দেখার ক্ষমতা হারায়, সে ধীরে ধীরে যুক্তিবোধও হারায়। বাঙালির বড় সংকট এখানেই আমরা সমালোচনাকে শত্রুতা মনে করি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালি গলায় নজরুলসংগীত গেয়ে ভাইরাল লায়লা বাউল

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ২৭ শে মে, ২০২৬ রাত ১০:৪৫


খালি গলায় ‘নয়ন ভরা জল’ নজরুলসংগীত গেয়ে রীতিমতো ভাইরাল ফরিদপুরের লায়লা বাউল। জীর্ণ শাড়ি পরা এই নারীর গাওয়া বাউল ও লোকগান টিকটক, ফেসবুক এবং ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়েছে দ্রুত।

ভাইরাল সেই ভিডিও

জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহিষের নাম যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প: ভাইরাল সংস্কৃতির মারপ্যাঁচে কোরবানির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে মে, ২০২৬ রাত ১১:৪৮


কোরবানি ঈদ এলেই আমাদের চারপাশে কেমন যেন একটা উৎসব-উৎসব আমেজের পাশাপাশি অদ্ভুত সব কাণ্ডকারখানার ধুম পড়ে যায়। বাঙালি যে সব কিছুতেই একটু রসকষ আর মজা খুঁজতে পছন্দ করে, সেটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশীরা কি সবচেয়ে সুখী?!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২৭ শে মে, ২০২৬ রাত ১১:৫২

নিঃসন্দেহে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ বাংলাদেশে থাকে। নিজেরা কাল্পনিক ভাবনার উপরে ভিত্তি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব সৃষ্টি করে মহানন্দে বিরাজমান। সেটা আনন্দ উদযাপন নাকি সান্ত্বনা সেটা বোঝা বড় দায়। কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোরবানির শুভ ঈদ ও জনতার কবিতা

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৮ শে মে, ২০২৬ সকাল ৯:০৯

কোরবানির শুভ ঈদ ও জনতার কবিতা
(ঈদের সকালে সবার জন্য আনন্দ সংবাদ )
Donald Trump news
( এই লিংকটি দেখে আসতে পারেন )

সোনালি চুলে বাহারি রূপ,
গায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×