somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শেয়ার বাজার-৯ : প্রয়োজন ধৈর্য ও বিবেচনাবোধ

০৭ ই জুন, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অবশেষে শেয়ার বাজারে শুরু হয়েছে কাঙ্খিত কারেকশন বা রি-এডজাস্টমেন্ট। অবশ্য সংখ্যাগরিষ্ট বিনিয়োগকারীর কাছে এই পরতি বাজার অনাকাঙ্খিত হলেও যারা প্রকৃত বিনিয়োগকারী তাদের কাছে এই অবস্থা সাদরেই গৃহিত হচ্ছে, কারন গত মাস তিনেকের উর্ধগতির ফলে বাজার হয়ে পড়েছিল অতিমূল্যায়িত। ফলস্বরুপ বিনিয়োগ ঝুকি বেড়ে গিয়েছিল বহু গুনে। তাই সচেতন বিনিয়োগকারীরা হাত গুটিয়ে নিতে শুরু করেছিলেন। ব্যক্তিগত ভাবে গত ২ মাসে আমি শুধু বিক্রিই করেছি; ২-১ টা ব্যতিক্রম ছাড়া কেনার চেষ্টা করিনি। পরিচিত অনেককেই ঠিক একই কাজ করতে শুনেছি এবং করতে বলেছি। আশা করি তারা এখন বুঝতে পারছেন কেন নতুন কিছু কিনতে নিরুৎসাহিত করেছিলাম।

মোটা দাগে আমাদের বাজারে ২ শ্রেনীর শেয়ার ক্রেতা রয়েছে - এখ দল শেয়ার বিনিয়োগকারী আর আরেক দল শেয়ার ব্যবসায়ি। বিনিয়োগ আর ব্যবসার মধ্যে যে বিস্তর ফারাক তা অনেকেই বুঝতে অক্ষম।

বিনিয়োগকারী: বিনিয়োগকারী তারাই যারা কম্পানির আয়-ব্যায় অর্থাৎ লাভ-লোকসানের উপর ভিত্তি করে শেয়ার কেনে এবং বিক্রির জন্য আদর্শ সময়ের জন্য অপেক্ষা করে। তাই পড়তি বাজার তাদের জন্য কেনার সময় আর উর্ধমূখী বাজার হল বিক্রির সময়। আর আমাদের শেয়ার বাজারের বেশির ভাগ কম্পানির বৎসর সমাপনী মাস যেহেতু ডিসেম্বর সেহে্যতু মার্চ-মে হল বিক্রির সময়। আবার অক্টবর-নভেম্বর মাসের মধ্যে যেহেতু কম্পানিগুল তাদের অর্ধবার্ষিক আয়ের হিসাব দিয়ে দেয় তাই এই সময়টা হল কেনার মৌসুম।

ব্যবসায়ি: এরা মূলত বাজারে বিভিন্ন গুজব ও হাইপ সৃষ্টি করে বিশেষ কোন শেয়ারের ভার্চুয়াল প্রাইস গেইন ঘটায় এবং এটা নিয়ে ব্যবসা করে। যেহেতু এই দাম বৃদ্ধির সাথে মূল কম্পানির আয় রোজগারের কোন সম্পর্ক নাই তাই এটা অনেকটা গ্যাস ভরা বেলুনের মত ফুলতেই থাকে কারন অজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা তখন এই কাতারে সামিল হয়ে দাম বারায়। আর পরিনতি স্বরুপ লাইনের শেষ প্রান্তে দাড়ান মানুষগুলর পকেট খালি হয়। এমনই একটা হাইপ (১০ টাকা ফেস ভ্যালু) গত ১ মাস শেয়ার বাজার চাঙ্গা রেখেছে। রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে বাজার হয়ে পড়েছে সেচুরেটেড যার ভবিস্যাৎ একটাই পতল। বাতাস ছেড়ে দেয়া বেলুনের মত আরকি :)

তবে এই পতন অবসম্ভাবি হলেও বেশ আগে ভাগেই চলে এসছে। যার অন্যতম প্রধান কারন এবারের বাজেট। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ না থাকা, কেপিটাল গেইনের উপর ১০% কর আরোপ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আয়ের উপর টেক্স না কমানো - এগুলকে আপাত কারন মনে হচ্ছে অর্থাৎ এবারের বাজেটে শেরাব বাজার তথা এতে লিসটেড কম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের জন্য কোন সুখবর নাই। আর যেহেতু বাজারের ডিভিডেন্ড দেয়ার মৌসুম শেষ তাই মন্দার এই আগাম আগমন।

তবে বাজেটে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের টেক্স ও টিআইএন এর বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তির ঘোষনা বাজারকে উর্ধমুখী করতে না পারলেও এর তড়িৎ পতন ঠেকিয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রীর পূর্ব ঘোষনা অনুযায়ি যাদি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আয়ের উপর টেক্স (৪০%) কমান না ই হয় তবে এই পতনে সাময়িক বিরোতি টানা সম্ভব নয়।

আবার ঐতিহ্য গত ভাবেই জুলাই-অক্টোবর হল ডিএসই'র ডাল পিরিয়ড। এর সাথে যুক্ত হয়েছে জিপির লকইন উঠে যাওয়ার সময় সূচি। আগস্টের ৩য় সপ্তাহেই জিপির ৫% শেয়ারের লকইন উঠে যাবে মানে তখন বাজারে আসবে এখনকার সমপরিমান নতুন শেয়ার। যদি প্রিআইপিও পাওয়া কম্পানিগুল এই শেয়ার বিক্রির জন্য ছেড়ে দেয় তবে ঠিক কি ঘটবে আল্লাই জানে। আমি প্রেডিকশন করছি নিম্নের ২ টা ঘটনার যে কোন একটা ঘটবে-

১। জিপির দাম মেনুপুলেট করে বাড়ান হবে এবং এর পর নতুন শেয়ারগুল বেশি দামে বিক্রি করা হবে। ফল স্বরুপ আবার মার্কেট আপ হয়ে ১-২ মাস কন্টিনিও করে পুনরায় পতন।অর্থাত শেষ বিচারে কিছু নির্বোধ বিনিয়োগকারীর পকেট খালি ।

২। ধীর গতিতে শেয়ারগুলর বিক্রি শুরু হবে ফলে প্রি-আইপিও পাওয়া রাঘব বোয়ালরা কাঙ্খিত মুনাফা পাবে না। তবে এমনটা ঘটার সম্ভাবনা খুব কম :(

আর আগের পোস্টে পতন থেকে বাচার উপায় নিয়ে কথা বলেছিলাম। আসা করি ইতিমধ্যেই সবাই পতল মোকাবেলার পূর্বপ্রস্তুতি সেরে ফেলেছেন :)। আমি কিন্তু বেশ আগেই প্রস্তুত, ইতি মধ্যেই ৬০% শেয়ার কেশ করে ফেলেছি এখন শুধু কম দামে নতুন শেয়ার পকেটস্থ করার অপেক্ষা। উপভোগ্য হোক আপনাদের সকলের পড়তি বাজারে কেনা-কাটা।

শেয়ার বাজার বিষয়ক সকল পোস্ট একত্রে পেতে ক্লিক করুন
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুলাই, ২০১১ সকাল ১০:০৮
১৪টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Victims of enforced disappearances পার্সন হিসেবে আমার বক্তব্য.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:২১

গত ২৫ এবং ২৬ এপ্রিল ২০২৬ এ মানবাধিকার সংগঠন 'অধিকার' এবং World Organization Against Torture (OMCT) এর যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় “The Prevention of Torture and the Implementation of UNCAT and... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:২৯

পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয় এবং এর ফলে উদ্ভূত আদর্শিক পরিবর্তন কেবল ভারতের একটি প্রাদেশিক বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪




আমার মাথা যেন আর কাজ করছিল না। বাইরে থেকে আমি স্বাভাবিক হাঁটছি, চলছি, পড়ছি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম মায়ের কথা ছোট বোনটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×