somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শেয়ার বাজার : পতনের শেষ কোথায় ?

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৫:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঠিক করে ছিলাম শেয়ার বাজার নিয়ে আর লিখব না। নভেম্বরের শুরুতে বাজার এমন একটা পর্যায়ে চলে গিয়েছিল যে তা নিশ্চিত ভাবেই জানান দিচ্ছিল যে পতন অত্যাসন্য। তাই ব্লগে এ নিয়ে আলাপ-আলোচনা করে নতুনদের উৎসাহ দিয়ে তপ্ত কড়াই -এ ডেকে আনার কোন মানে ছিল না।


কিন্তু আবার লিখতে বসতে হল, কারন যারা ইতিমধ্যেই বাজারে প্রবেশ করে ফেলেছে তাদের দূর্দিন শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই। অনেকে হয়ত বলবেন ' শুধু দূর্দিন নয়, প্রায় নিশ্ব হয়ে যাবার যোগার হয়েছে'। যারা আমার আগের লেখাগুল পড়েছেন তারা নিশ্বই লক্ষ করেছেন যে আমি সব সময়ই ফান্ডামেন্টালি স্ট্রং শেরারগুলতে বিনিয়োগ করার কথা বলি। আর এই দূর্যোগপূর্ণ বাজারে ফান্ডামেন্টালি স্ট্রং শেরারগুলর কদর নিশ্বই আপনারা বুঝতে পারছেন (অবশ্য ইতিমধ্যেই যদি তা লস দিয়ে বিক্রি করে না থাকেন)।

শেয়ার বাজারে শুধু লাভই হবে -এমনটা শুধু নির্বোধ লোকেরাই ভাবতে পারে। লসের সম্ভবনা না থাকলে দুনিয়ার সব লোক শুধু শেয়ারেই বিনিয়োগ করত অন্য কিছুতে নয়। অবশ্য আমাদের বাজারের ক্ষুদ্রবিনিয়োগকারীদের সর্ববৃহত অংশটি অনেক আগেই বিনিয়োগকারী থেকে ব্যাবসায়ীতে পরিনত হয়েছে। ফলে সূচকের মাঝারি বা বড় পতন হলেই তারা যুদ্ধংদেহী হয়ে রাস্তায় নামছে। যা কোন ভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়।


অনেকেই এর জন্য সরকার-ব্যাংক-যুয়াড়িচক্র ইত্যাদির কারোসাজিকে দায়ী করছেন। কিন্তু এর জন্য নিজের দায়টুকু স্বীকার করছেন না। গত জানুয়ারী'১০ থেকে অক্টোবর'১০ পর্যন্ত গড়পরতা ৮০ ভাগ বিনিয়োগকারী ৩০-৮০ শতাংশ বা তার চেয়ে বেশি মুনাফা করেছে। যা সাধারন বিচারে সম্ভব নয় এবং হওয়া উচিত ও হয়নি। কিন্তু আমরা তখন তা আমলে নেইনি বরং চোখ বন্ধ করে লভ্যাংশ পকেটে পুরেছি। অন্যের কথা কি আর বলব, আমি নিজেই ১০০ শতাংশ লাভ করেছি। তাই প্রস্তুত হয়েই ছিলাম পতনকে স্বাগত জানাবার জন্য।

পার্থক্য এটুকুই বড়-বড় রুই কাতলারা ঐ লাভ নিয়েই সটকে পড়েছে আর আমি বা আমরা যাই নি। তাই পতনের ধাক্কা আমাদের গায়েও লেগেছে। কিন্তু যারা ভাল শেয়ারে ছিলেন বা আছেন তাদের এই ধাক্কা লাভের উপর দিয়েই গিয়েছে। তাই সর্বোশ্ব হারিয়ে ফেলার কথা যারা বলছেরন তাদের জন্য শুধুই সমবেদনা। কারন এর জন্য তাদের অগ্যতা ও অতি মূনাফা করার মানসিকতাই দায়ী। উর্ধগতির সময় বাজার যেমন কোন নিয়ম মানে না ঠিক তেমনি ভাবে পতনের ধাক্কাও বাছ-বিচার করে আসে না। ফলে জাঙ্ক ও কমশক্তিশালী শেয়ারগুলর পাশাপাশি ভাল শেয়ার ও মূল্য হারায়।

ডিএসইর সামনে হইচই করা মানুষগুল সমস্বরে বলছে সরকার কেন বাজার উঠাচ্ছে না ? সরকার যে চেষ্টা করেনি এমন ও নয়, প্রায় ৬ শ থেকে হাজার কোটি টাকার শেয়ার কিনে বাজার উঠাতে চেষ্টা করেছে। যার ফলে গত দুই মাসে প্রতিদিন গড়ে ১৫০-২০০ পয়েন্ট সূচক পতনের মধ্যেও হটাৎ করে ২০০-৪০০ পয়েন্ট সূচক উঠে যেতেও আমরা দেখেছি।

কিন্তু এই উত্তরন স্থায়ী হয় নি যার মূল কারন আমরা নিজেরাই । কি ভাবে ? কারন আমরা অনেকেই লস দিয়ে সব শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছি। খারাপগুলোর ব্যাপারে কিছু বলার নেই কিন্তু ভাল শেয়ারগুল কেন আমরা ছেড়ে দিচ্ছি ? আমরা বিনিয়োগকারী; ব্যাবসায়ী নই। রেখেদিন না আপনার হাতে থাকা ভাল শেয়ারগুল। প্রয়োজনে সামনে ঘোষিত হওয়া ডিভিডেন্ডগুল গ্রহন করুন। এতে লাভ দুই দিকে - ১) তাতে আপনি ফিজিকালী লস দিয়ে ভাল শেয়ার হাত ছাড়া করছেন না (দাম কমে লস যা হবার তা হল ভার্চুয়ার ফিজিকাল নয়) ২) ডিভিডেন্ড পাবার ফলে আপনার ভার্চুয়ার লসের পরিমান কমে আসবে

তাই আতংকিত না হয়ে ভাল শেয়ার হাতে রাখুন। অনেকে হয়ত ভাবছেন দাম কিছুটা বাড়লে অথবা আরো কমার চাইতে এখনই বিক্রি করে নগদ টাকা হাতে রাখি। কিন্তু আমার প্রশ্ন হল এই টাকা নিয়ে কি করবেন ? হয়ত আপনি আর শেয়ার বাজারে আসবেন না, যদি তাই হয় তবে তাদেরকে কিছুই বলার নেই। কিন্তু যদি ভাবেন দাম আরো পরলে তখন কিনব তাই এখন বিক্রি করে ফেলি। এমন যারা ভাবছেন তাদেরকে শুধু সেই গল্পটাই মনে করিয়ে দিতে চাই যেখানে প্রাণ প্রিয় রাজার পুকুরে দুধ রাখার কথা থকলেও সবাই পাত্রে করে পানি নিয়ে গিয়েছিল এই ভেবে যে, 'সবাইত দুধই আনবে তাতে আমার এক কলসি পানি কেউ টেরই পাবে না'। রাজার সেই পুকুরে শেষ পর্যন্তু শুধু পানিই জমা হয়েছিল দুধ নয়।

সার কথা এই যে বাজারে সংশ্লিষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ লোক না চাইলে, সরকার বা কোন সংস্থার পক্ষেই বাজারের পতনরোধ করা সম্ভব নয়। আর আমরা সকলে মিলে যদি চাই তবেই বাজারকে উর্ধমূখী করা সম্ভব। নতুন বিনিয়োগ করতে না পারি অন্তর্ত হাতে থাকা ভাল শেয়ারগুল ছেড়ে দিয়ে বাজারের পতনকে আরো তরান্বিত না করাই আমাদের এখনকার দায়িত্ব। রাস্তায় গাড়ি-ঘোড়া না ভেঙ্গে বরং হাতে থাকা শেয়ারগুল আগলে রাখুন। মনে রাখুন আপনি বিনিয়োগকারী, ব্যাবসায়ী নন। আর বিনিয়োগকারীদের সর্বোতম যোগ্যতা হল ধীর্ঘ সময়ের জন্য বিনিয়োগ করার মানসিকতা; আজ কিনে চতুর্থ দিনে ২-৩ টাকা লাভের জন্য বিক্রির চিন্তা করা মুদি ব্যবসায়ীদের কাজ আপনার নয়। তাই এই বিপদে ভীত না হয়ে ধীর্ঘ মেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে হাতে থাকা ভাল শেয়ারগুল সংরক্ষণ করুন।


শেয়ার বাজার নিয়ে আমার সব লেখা একত্রে পেতে ক্লিক করুন
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০১১ দুপুর ১:১১
১৫টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×