" প্রধানমন্ত্রী পুঁজিবাজারে ১০ শতাংশ হারে কর দিয়ে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগ ও ১০ শতাংশ হারে কর রেয়াত দিয়ে প্রদর্শিত আয় বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করেন ।"
শেয়ার মার্কেটে নভেম্বর ২০১০ এর মহা পতনের সূনচা হয় মূলত আর্থিক খাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূদ্রা সংকোচন নীতি গ্রহনের ফলে। ২-৩ মাস আগেও যেখানে ব্যাংক ব্যবস্থায় আড়াই হাজার কোটি টাকা অলস পড়েছিল সেখানে ব্যাংকগুল অনেকটা বাদ্ধ হয়েই তাদের অলস অর্থ পুজিবাজারে নিয়ে আসে। কারন অবকাঠামো ও জ্বালানী সংকটের জন্য আবাসন ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টরের লোন নেয়ার হার অনেক কমে গিয়েছিল। ফলে ব্যাংকের আমানতের বিপরীতে প্রদেয় সুদ হার ১০-১২ ও সরকারী বন্ডে সুদ হার ১০ (সাথে ১০% উৎসে টেস্কস কর্তন) মিলিয়ে বড়-মাঝারি-ছোটা সবারই শেষ আশ্রয় স্থলে পরিনত হয় শেয়ার বাজার।
আর একারনেই নিয়ম ভংগে নামী-দামি ব্যাংক থেকে শুরু করে চাকরীজীবি করিম-রহিম, রিটায়ার্ট বাবা-চাচারা পর্যন্ত পুজিবাজারে হাজির হন। বাংলাদেশের পুজিবাজার ২০০৭-২০০৮ সাল থেকেই অপ্রতুল সংখ্যক শেয়ারের জন্য টাল-মাটাল অবস্থায় ছিল কিন্তু ২০০৯-১০ এ হঠাৎ করে সম্পূর্ন নতুন ১০-১৫ লক্ষ লোক হামলে পড়ায় শেয়ার সংকট চরম আকার ধারন করে।
যার অবধারিত ফল সরুপ ২-৩ বছর বন্ধ হয়ে থাকা কম্পানির ''জেড' ক্যাটাগরি শেয়ারের মূল্যও ভাল শেয়ারের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে। এর উপর প্লেসমেন্ট, প্রেফারেন্স শেয়ার, ১০ টাকায় স্প্লিটিং, সম্পদ পূর্নমূল্যায়ন ইত্যাদি হরেক রকমের চটকদার আইডিয়ার ইম্লিমেনটেশন শুধু দামের আগুনে ঘী-ই যুগিয়েছে।
অপর দিকে বিনিয়োগ শুন্য পরিস্থিতি ও বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফ লাইন প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের ছন্দপতনে ইনফ্লুয়েশন রেট হুহু করে বাড়তে বাড়তে ১০ অতিক্রম করার শেষ প্রতিশেধক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক মূদ্রা প্রবাহের রাশ টানতে বাদ্ধ হয়। কুইনাইন প্রয়োগে ব্যাংক ব্যাবস্থা ও অর্থনীতির প্রাণ বাচলেও, এর তেতো স্বাদ ভোগ করতে হয় পুজিবাজারকে। ব্যাংকগুল যখন একে একে মূলধন গুটিয়র বাজার থেকে বিদাই নিতে শুরু করে তখন ক্ষদ্র বিনিয়োগকারীদের পক্ষে অস্ভব হয়ে পড়ে টাকার প্রবাহ ঠিক রাখা। ফল স্বরুপ শুরু হয় মহা পতন। যে বাজারের দৈনিক টার্নোভার ছিল ২'৫-৩ হাজার কোটি টাকা তা দেখতে দেখতেই ৭-৮ শ কোটি টাকায় নেমে এল।
মৃতপ্রায় এখনকার পুজিবাজারে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন বড় অংকের ফ্রেশ বিনিয়োগ। এর সাথে আমিও একমত কিন্তু চোরের হাত থেকে বাচতে যেমন ডাকাতের স্বাহায্য প্রার্থনা আত্নঘাতি ঠিক তেমনি ভাবে অর্থ সংকট কাটাতে সাময়িক সময়ের জন্য কালো টাকার প্রবেশ শেয়ার বাজারে ঘটা চিন্তার কারন। অনেকেই ভাবছেন কী ভাবে ?
যারা এই কালো টাকার মালিক তাদের সিংহভাগই বিনিয়োগকারী নয় ফলে আগামী অর্থ-বৎসরের শেষেই তারা তাদের বিনিয়োগকৃত কাল টাকা সাদা করে নিজ নিজ ব্যাবসায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। চিন্তাকরুন কাল টাকার বিপুল প্রবাহ যদি মৃতপ্রায় বাজারকে জাগাতে পারে তবে ১ বছর পর এই টাকার ৫০-৬০% ভাগোও যদি তুলে নেয়া হয় তবে আরেকটি পতন ঘটা শুধু সময়ের ব্যাপার হবে। হয়ত এবারের মত বড় পতন না হয়ে ছোট বা মাঝারি আকারের হবে, তবে পতনের সম্ভবনা প্রায় শত ভাগ। তাহলে জেনে-শুনে এমন টাইম বোমা পুজিবাজারে কেন ডেকে আনা হচ্ছে ?
শুধু কাল টাকাই নয়
সুতরাং ঘটনা কি দাড়াল ? শেয়ারের সংখ্যা না বাড়িয়ে আবার অর্থ প্রবাহ বাড়ানোর দিকে ঝুকেছে সরকার। ধিরে ধিরে আবার দাম বেড়ে একই নাটকের পুনঃদৃশ্বায়ন ঘটতে যাচ্ছে আবার .....১৯৯৬, ২০১০ এর পড় হয়ত ২০১৫-১৬ তেই ফাটবে টাইমবোম।
শেয়ার বাজারে উত্থানের সাথে সাথে পতন ও ঘটবে, এটাই নিয়ম কিন্তু জেনে শুনে পতনের অনুঘটক যোগানোর কোন মানে নেই। সরকারের উচিত বাজের পর্যপ্ত সংখ্যক শেয়ারের উপস্থিতি নিশ্বিত করা। পাশা-পাশি কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ রাখতে হলে তা যেন ধীর্ঘ মেয়াদে বাজারে থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ২-৩ বছরের লকইন প্রয়োগ করা যেতে পারে। বাজারের সুস্থতার জন্য সরকার ও বিনিয়োগকারী উনহয়েরই সু-বুদ্ধির উদয় ঘটুক, একজন সাধারন বিনিয়োগকারী হিসেবে এটুকু চাওয়া।
শেয়ার-বাজার বিষয়ক সব পোস্ট একত্রে পেতে ক্লিক করুন
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০১১ দুপুর ১:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


