somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নেড়ার পুনরায় বেলতলা গমন: প্রসংগ শেয়ার বাজারে আবার কালো টাকা

২৯ শে জুন, ২০১১ সকাল ১০:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

" প্রধানমন্ত্রী পুঁজিবাজারে ১০ শতাংশ হারে কর দিয়ে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগ ও ১০ শতাংশ হারে কর রেয়াত দিয়ে প্রদর্শিত আয় বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করেন ।"

শেয়ার মার্কেটে নভেম্বর ২০১০ এর মহা পতনের সূনচা হয় মূলত আর্থিক খাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূদ্রা সংকোচন নীতি গ্রহনের ফলে। ২-৩ মাস আগেও যেখানে ব্যাংক ব্যবস্থায় আড়াই হাজার কোটি টাকা অলস পড়েছিল সেখানে ব্যাংকগুল অনেকটা বাদ্ধ হয়েই তাদের অলস অর্থ পুজিবাজারে নিয়ে আসে। কারন অবকাঠামো ও জ্বালানী সংকটের জন্য আবাসন ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টরের লোন নেয়ার হার অনেক কমে গিয়েছিল। ফলে ব্যাংকের আমানতের বিপরীতে প্রদেয় সুদ হার ১০-১২ ও সরকারী বন্ডে সুদ হার ১০ (সাথে ১০% উৎসে টেস্কস কর্তন) মিলিয়ে বড়-মাঝারি-ছোটা সবারই শেষ আশ্রয় স্থলে পরিনত হয় শেয়ার বাজার।

আর একারনেই নিয়ম ভংগে নামী-দামি ব্যাংক থেকে শুরু করে চাকরীজীবি করিম-রহিম, রিটায়ার্ট বাবা-চাচারা পর্যন্ত পুজিবাজারে হাজির হন। বাংলাদেশের পুজিবাজার ২০০৭-২০০৮ সাল থেকেই অপ্রতুল সংখ্যক শেয়ারের জন্য টাল-মাটাল অবস্থায় ছিল কিন্তু ২০০৯-১০ এ হঠাৎ করে সম্পূর্ন নতুন ১০-১৫ লক্ষ লোক হামলে পড়ায় শেয়ার সংকট চরম আকার ধারন করে।

যার অবধারিত ফল সরুপ ২-৩ বছর বন্ধ হয়ে থাকা কম্পানির ''জেড' ক্যাটাগরি শেয়ারের মূল্যও ভাল শেয়ারের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে। এর উপর প্লেসমেন্ট, প্রেফারেন্স শেয়ার, ১০ টাকায় স্প্লিটিং, সম্পদ পূর্নমূল্যায়ন ইত্যাদি হরেক রকমের চটকদার আইডিয়ার ইম্লিমেনটেশন শুধু দামের আগুনে ঘী-ই যুগিয়েছে।

অপর দিকে বিনিয়োগ শুন্য পরিস্থিতি ও বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফ লাইন প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের ছন্দপতনে ইনফ্লুয়েশন রেট হুহু করে বাড়তে বাড়তে ১০ অতিক্রম করার শেষ প্রতিশেধক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক মূদ্রা প্রবাহের রাশ টানতে বাদ্ধ হয়। কুইনাইন প্রয়োগে ব্যাংক ব্যাবস্থা ও অর্থনীতির প্রাণ বাচলেও, এর তেতো স্বাদ ভোগ করতে হয় পুজিবাজারকে। ব্যাংকগুল যখন একে একে মূলধন গুটিয়র বাজার থেকে বিদাই নিতে শুরু করে তখন ক্ষদ্র বিনিয়োগকারীদের পক্ষে অস্ভব হয়ে পড়ে টাকার প্রবাহ ঠিক রাখা। ফল স্বরুপ শুরু হয় মহা পতন। যে বাজারের দৈনিক টার্নোভার ছিল ২'৫-৩ হাজার কোটি টাকা তা দেখতে দেখতেই ৭-৮ শ কোটি টাকায় নেমে এল।

মৃতপ্রায় এখনকার পুজিবাজারে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন বড় অংকের ফ্রেশ বিনিয়োগ। এর সাথে আমিও একমত কিন্তু চোরের হাত থেকে বাচতে যেমন ডাকাতের স্বাহায্য প্রার্থনা আত্নঘাতি ঠিক তেমনি ভাবে অর্থ সংকট কাটাতে সাময়িক সময়ের জন্য কালো টাকার প্রবেশ শেয়ার বাজারে ঘটা চিন্তার কারন। অনেকেই ভাবছেন কী ভাবে ?

যারা এই কালো টাকার মালিক তাদের সিংহভাগই বিনিয়োগকারী নয় ফলে আগামী অর্থ-বৎসরের শেষেই তারা তাদের বিনিয়োগকৃত কাল টাকা সাদা করে নিজ নিজ ব্যাবসায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। চিন্তাকরুন কাল টাকার বিপুল প্রবাহ যদি মৃতপ্রায় বাজারকে জাগাতে পারে তবে ১ বছর পর এই টাকার ৫০-৬০% ভাগোও যদি তুলে নেয়া হয় তবে আরেকটি পতন ঘটা শুধু সময়ের ব্যাপার হবে। হয়ত এবারের মত বড় পতন না হয়ে ছোট বা মাঝারি আকারের হবে, তবে পতনের সম্ভবনা প্রায় শত ভাগ। তাহলে জেনে-শুনে এমন টাইম বোমা পুজিবাজারে কেন ডেকে আনা হচ্ছে ?

শুধু কাল টাকাই নয় :) সাদা টাকার ক্ষেত্রেও ১০% কর রেয়াত পাবেন বিনিয়োগকারীরা ২০১১-১২ অর্থবছরে। সুতরাং আশা করা যায় পুজিবাজারে মোটা অংকের অর্থাগমন অনেকটা নিশ্চিত। সরকারী ২৫ কম্পানির একটিও এখন পর্যন্ত বাজারে আসে নি। হাতে-গোনা ২-৪ টি যাও এসেছে যেগুল শুরুতেই অতিমূল্যায়িত। অনেক নাটকের পর কিছিদইন হল এমজেএল বাজারে আসল ১১৫ টাকা আইপিও মূল্যে যার ইপিএন ১'৫৭ টাকা মানে পিই ৭৫ ! শুধু তাই নয় ২ দিনেই দাম বেড়ে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বাজারে ! ২ টাকার নিচে আয় করা শেয়ারের দাম কি ভাবে ১৫০ টাকা হয় তা শুধু আল্লাই জানে ? আগামী বছর ঐ কম্পানি যখন ১০-১৫% বা পুরটাই (২০%) মানে ২ টাকা ক্যাশ ডিক্লায়ার করবে তখন এই ১৫০ মূল্যের শেয়ারের দাম কত হবে তা কি এখনকার ক্রেতারা ভেবে দেখেছেন ? কেনার সময় এরকম আহাম্মকি কান্ড করে পড়ে রাস্তায় গাড়ি ভঙ্গে- অনশন করে হিমপেথি পাওয়া গেলেও টাকা ফেরত যে পাওয়া যাবে না তা নিশ্চিত।

সুতরাং ঘটনা কি দাড়াল ? শেয়ারের সংখ্যা না বাড়িয়ে আবার অর্থ প্রবাহ বাড়ানোর দিকে ঝুকেছে সরকার। ধিরে ধিরে আবার দাম বেড়ে একই নাটকের পুনঃদৃশ্বায়ন ঘটতে যাচ্ছে আবার .....১৯৯৬, ২০১০ এর পড় হয়ত ২০১৫-১৬ তেই ফাটবে টাইমবোম।

শেয়ার বাজারে উত্থানের সাথে সাথে পতন ও ঘটবে, এটাই নিয়ম কিন্তু জেনে শুনে পতনের অনুঘটক যোগানোর কোন মানে নেই। সরকারের উচিত বাজের পর্যপ্ত সংখ্যক শেয়ারের উপস্থিতি নিশ্বিত করা। পাশা-পাশি কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ রাখতে হলে তা যেন ধীর্ঘ মেয়াদে বাজারে থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ২-৩ বছরের লকইন প্রয়োগ করা যেতে পারে। বাজারের সুস্থতার জন্য সরকার ও বিনিয়োগকারী উনহয়েরই সু-বুদ্ধির উদয় ঘটুক, একজন সাধারন বিনিয়োগকারী হিসেবে এটুকু চাওয়া।


শেয়ার-বাজার বিষয়ক সব পোস্ট একত্রে পেতে ক্লিক করুন
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০১১ দুপুর ১:১২
৯টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×