''আমার আত্মহত্যা করার চার চেষ্টা ও ফলাফল''
মিশন এক!
অবশ্যই আমি লেখক বা বক্তা নই, আমি পাঠক এবং শ্রোতা সবসময়ের জন্য! কিন্তু কিছু সময় আসে জখন কোনো সুযোগ থাকে না ভাববার।
চাঁদের আলো যখন আমার দেহ ছুয়ে
মনটা তবে কেনো আজো অন্ধকারে পড়ে,
মানুষ তবে মহা তো নই, নিরব এই রাতে
ঘাসগুলো নয় অবসন্ন আমার মনের ভারে।
কেমন কাব্যরস পেলাম, নিঃসন্দেহে মুল্যবান বস্তু!তবে হে ডায়রী, আমি বসিনি কাব্যের জাল বুনতে, বসিনি প্রজাপ্রতির ডানায় রং ছোয়াতে।আমার সাধের শৈশব কেটেছে কবির সাথে।কবির কবিতার ছন্দ নিতান্তই দুর্লভ বস্তু, আর তার চেয়ে বেশি দুর্লভ কবি নিজে।আর কবিকে হারিয়েই হয়েছিল আমার প্রথম ছন্দ পতন।
বাবা মার ডিভোর্স এর পরপরই আমার আমাদের জন্য নতুন বাসস্থানের প্রয়োজন ছিল।আমার জীবনের দেখা প্রথম কবি ছিল আমার ভাই।এই এক ধরনের মানুষ দেখলাম, বিরল প্রজাতির আচরন।একটা মানুষ সারাদিন কাজ করে কিভাবে ভাবুক মন নিয়ে কবিতা লিখত বলা মুশকিল।আমার ভাইয়ের তখন ষোল সতেরো বছর বয়স, আমার নয় হবে।বাবা মার ডিভোর্স এর পর তাদের সান্নিধ্য থেকে আমাকে উদ্ধার করে ভাই।ভাইয়ের মনে ভয় ছিল যদি আমি অবহেলা সহ্য করতে না পারি, ছোট বোনকে বড় আদরে লালন করতে চেয়েছিলো, যা কখনো পুরন হয়নি, হবেও না।ভাই ছিল স্বাধীনতাপ্রিয়, সে আমাকেও তেমন করে গড়তে চেয়েছিলো।ভাই সবসময় আমাকে ঘিরে রাখতে চায়নি, দিয়েছে আমার প্রাপ্য স্বাধীনতা।ভাই এর খুব কষ্ট দেখেছি, অনেক কষ্ট পেতাম, বোঝা অসম্ভব ছিল।ভাই আমার শিক্ষক, বন্ধু, আমার পথপর্দশক, বলতে গেলে আমার ভাবনায় শুধু ভাই ছিল।আমার ভাই আমাকে স্বাধীনতা দিয়েছিলো আরেকটি বিষয়ে, সেটা হল ধর্ম।তবে একটা বিষয় ভাই আমার সাথে কখনই কথা বলত না, সেটা হল মৃত্যু।এই একটা বিষয়ই আমার জীবনে ভাইয়ের মৃত্যুর পর বড় ধাক্কা পেয়ছি।
আমার জীবনের প্রথমবারের মত আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলাম ভাই এর মৃত্যুর পর।আমি ছোট বেলায় ডাক্তার হওয়ার বাসনায় স্বপ্ন দেখতাম।আমার একটা বাক্য বলার প্রবনতা ছিল অনেক, ''সেটা হল আমি বড় হয়ে সবার অসুখ তাড়িয়ে দেব।'' ভাই হাসতো আমার কথা শুনে, আর বলত বুদ্ধি নাকি আমার একটু বেশিই।ভাই মারা যায় এক্সিডেন্টে এর পর চিকিতসায় দেরী হবার ফলে।ভাইকে ওরা বাচানোর কোনো চেষ্টা করেনি, ভাইএর বন্ধুরা টাকা এনে দেখে ভাই এর নিথর দেহ।আমার সহচর, শেষ অবল্বন, আমার জীবনটাই বদলে গেলো একটা দেহ থেকে প্রান বেরিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে।
আমি ভাইয়ের মৃত্যুর পর প্রথম ভাবিনি আমার কি করা উচিৎ, ভেবেছিলাম ভাইয়ের কাছে কিভাবে যাব। আগেই লিখেছি আমার মৃত্যুর পরের সম্পর্কে তখন ধারনা ছিল না, ভাই এ বিষয়টা নিয়ে কখনই কথা বলতে চাইতো না।
আমি দেখলাম পাড়ার দুষ্ট ছেলেগুলোও কথা বলছে ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনেকথা বলছে, আমিও গেলাম ওদের কাছে।ওদের বললাম মৃত্যুর পর মানুষ কোথায় যায়? ওরা বলতে লাগল কত কিছু, আমার বোঝার সাধ্য ছিল না।তাই জানতে চাইলাম কি করলে মরতে পারব।তখন ওদের মধ্যে একজন বলল ঔষধ খেয়ে আত্মহত্যা করার কথা, আমার মনে পড়ল বাসায় কিছু ঔষধ ছিল। বাসায় গিয়ে খেয়ে ফেললাম অনেক গুলো, আমার ঐযে ওরা বলেছিল অনেকগুলো খেলে মরে যায়, তা ঠিকই মনে ছিল।
ডাক্তারদের জীবনে প্রথমে ঘৃনা করেছি আমার ভাই মারা যাবার পর, আরেকবার করলাম আমাকে আত্মহত্যায় বিঘ্ন ঘটাবার জন্য।
না পারল ভাইকে বাচাতে, না দিলো আমাকে মরতে!
আর এর পর আরও তিনবার আমি আত্মহত্যা করতে করতে করতে পারিনি। এই লেখা আমার পোস্টমর্টেম এর কাজে লাগলেও লাগতে পারে, অথবা কেউ অনুসন্ধানী আমার জীবনী দেখতে চাইলে এটা দেখানো যাবে!
চলবে
''ভালো থাকুন''
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০১১ সকাল ১০:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


