somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কেন আপনি ভেলেন্টাইন্স ডে কে ঘৃনা করবেন? কয়েকটি চ্যালেঞ্জ!!!

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রথমেই “ভ্যালেন্টাইন’স ডের” একটি বাস্তব বিশ্লেষন করি, “বলুন তো, পশ্চিমারা বিবাহ করার পরও অন্য পুরুষ এবং মহিলাদের সাথে সম্পর্ক করে কিনা?(যদিও আমাদের সমাজে এমন কিছু লোক আছে) আপনি হয়ত উত্তর দিবেন প্রথমেই “ভ্যালেন্টাইন’স ডের” একটি বাস্তব বিশ্লেষন করি, “বলুন তো, পশ্চিমারা বিবাহ করার পরও অন্য পুরুষ এবং মহিলাদের সাথে সম্পর্ক করে কিনা?(যদিও আমাদের সমাজে এমন কিছু লোক আছে) আপনি হয়ত উত্তর দিবেন "এটাতো তাদের কাছে মামুলি একটা ব্যাপার"!!! তাদের কাছে এটাই কালচার। তাই নয় কি?

এখন তারা যদি চিন্তা করে যে, সারা বছর তো অন্য মেয়ে বা পুরুষকেই দিয়েছি আজকের এই একটা দিন আমার স্ত্রী বা স্বামী কে দেই। এটা শুনলে কি আপনি অবাক হবে?? হ্যা এই গুলোই তারা করছে। আমাদের সমাজ ও সেদিকেই পা দিচ্ছে। (যে ভাবে আজকে মেয়েরা জিন্স আর ছেলেরা কানের দুল পড়ছে, যা একসময় ছিলনা) সেদিন বেশি দূরে নয়।

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস না, বিশ্ব বেহায়া দিবস।

বাংলাদেশের মুসলমান কোটি মানুষের প্রতি আকুল আবেদন জানাই ।

এ দিবস আমাদের জন্য নয় >এ দিবস কাফের ,মুশরিকদের দিবস ।
আমাদের ঈমানে প্যারালাইসেস হয়েছে তাই এমন নিজ জঘন্য দিবস পালনেও আমাদের বিবেক বাধে না ।

এক নোংরা ও জঘন্য ইতিহাসের স্মৃতিচারণের নাম বিশ্ব ভালবাসা দিবস। এ ইতিহাসটির বয়স সতের শত সাঁইত্রিশ বছর হলেও ‘বিশ্ব ভালবাসা দিবস’ নামে এর চর্চা শুরু হয় সাম্প্রতিক কালেই। দুই শত সত্তর সালের চৌদ্দই ফেব্রুয়ারির কথা। তখন রোমের সম্রাট ছিলেন ক্লডিয়াস। সে সময় ভ্যালেন্টাইন নামে একজন সাধু, তরুণ প্রেমিকদেরকে গোপন পরিণয়-মন্ত্রে দীক্ষা দিত। এ অপরাধে সম্রাট ক্লডিয়াস সাধু ভ্যালেন্টাইনের শিরশ্ছেদ করেন। তার এ ভ্যালেন্টাইন নাম থেকেই এ দিনটির নাম করণ করা হয় ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ যা আজকের ‘বিশ্ব ভালবাসা দিবস’। বাংলাদেশে এ দিবসটি পালন করা শুরু হয় ১৯৯৩ইং সালে। কিছু ব্যবসায়ীর মদদে এটি প্রথম চালু হয়।




দেশে দেশে নিষিদ্ধ ভ্যলেন্টাইন ডে-সুত্র: ভালবাসাদিবস উইকিপিডিয়া

এই দিবসটি ছিল নিছক খৃষ্টানদের একটি ধর্মীয় দিবস অন্য কথায় ধর্মের জন্য সেন্ট ভ্যরেন্টাইনের আত্মত্যগের দিবস। (উইকিপিডিয়া) যদিও এর ভিন্ন ইতিহাসও আছে।

মজার ব্যপার হলো, যেটাকে বিশ্ব বাদ দিয়েছে, সেটাকে আমরা আরম্ভ করেছি। ভ্যালেন্টাইন দিবসের চেতনা বিনষ্ট হওয়ায় ১৭৭৬ সালে ফ্রান্স সরকার কর্তৃক ভ্যালেইটাইন উৎসব নিষিদ্ধ হয়। ইংল্যান্ডে ক্ষমতাসীন উৎসব পিউরিটানরাও একসময় প্রশাসনিকভাবে এ দিবস উৎযাপন করা নিষিদ্ধ দেয়। এছাড়া অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি ও জার্মানীতে বিভিন্ন সময়ে এ দিবস প্রত্যাখ্যাত হয়।"

ইসলামের আলোকেঃ

একজন মুসলিম মূলত তিনটি কারণে ভ্যালেন্টাইনের দিবস পালন করবেনা -

প্রথমত, ইসলামে নবআবিষ্কৃত যে কোন উৎসবই প্রত্যাখ্যাত। আয়িশাহ (রাঃ) বলেন যে রসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন যে, “যে দ্বীন ইসলামে নতুন কিছু প্রবর্তন করবে, তা প্রত্যাখান করা হবে।” [বুখারি ও মুসলিম] মুসলিমদের আলাহর প্রদত্ত উৎসব নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হবে, এটা আল্লাহ ও তার রসুলকে ভালোবাসার নিদর্শন। আর আমাদের উৎসব হল ঈদ। আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে যখন রসুলুল্লাহ (সাঃ) মাদিনায় আসলেন তখন তিনি তাদের জাহিলিয়াতের দু’টি দিন উৎসব হিসেবে পালন করতে দেখেন। তিনি তখন বলেন যে, “আল্লাহ এই দু’টি দিনের পরিবর্তে তোমাদের আরো উত্তম দু’টি দিন দিয়েছেন, আর তা হলো - ঈদুল আযহা এবং ঈদুল ফিতর” [আহমাদ, নাসাঈ, আবু-দাউদ]

দ্বিতীয়ত, একজন মুসলিম বিবাহ বহির্ভুত কোন প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্ক রাখতে পারেনা। আর বিবাহিতদের ক্ষেত্রে একজন স্বামী স্ত্রীকে এবং স্ত্রী স্বামীকে বছরের একদিন ঘটা করে ভালোবাসবে, অন্যান্য দিন উদাসীন থাকবে এমনটি হতে পারেনা। রসুলুল্লাহ (সাঃ) বিভিন্ন হাদিসে উপহার, সুন্দর কথা এবং ভাল ব্যবহার দিয়ে পরষ্পরের মন জয় করতে বলেছেন এবং তা সবসময়, হঠাৎ একদিন নয়।

তৃতীয়ত, আমরা ইসলামের এই মূলনীতি সবসময় মনে রাখব যে “যে যেই সম্প্রদায়ের অনুকরণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত” [ আহমদ , আবু দাউদ]

আমরা ইহুদি-খ্রিষ্টানদের বর্তমান সংষ্কৃতিকে করুণার চোখে দেখব, মুগ্ধবোধ নিয়ে নয়। আমাদের মায়া হবে কারণ তাদের প্রতিটি কার্যকলাপ তাদের সত্য থেকে দূরে নিয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর মোহ তাদের এমনভাবে গ্রাস করে ফেলছে যে তারা নিজেদের অস্তিত্ব ও উদ্দেশ্য নিয়ে চিন্তার অবকাশও পাচ্ছে না। কি হতভাগা এই মানুষেরা। আমরা তাদের এ অবস্থা দেখে আল্লাহর কাছে ধন্যবাদ দেব বারবার, আর বলব - “রদীতুবিল্লাহি রব্বাও ওয়া বিল ইসলামি দীনাও ওয়া বি মুহাম্মাদিন নাবিইয়া”।

আমরা আল্লাহকে প্রতিপালক হিসেবে সন্তুষ্ট, ইসলাম কে দ্বীন হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট আর মুহাম্মাদ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে নাবি হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।

আল্লাহ আমাদের ঘুমিয়ে থাকা বিবেকগুলো কে জাগিয়ে দিন।
পূর্ব প্রকাশীতঃ এইখানে ক্লিক করুন
(এই লেখাটায় ৩ জন ভাই এর অবদান আছে। আল্লাহ্‌ তাদের জাজাখায়ের দান করুন।)
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:০২
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×