somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কর্পোরেট সম্পর্ক! কর্পোরেট ভালবাসা!

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঠিক একমাস আগে যখন আমাদের প্রথম দেখা হয়েছিল, তাঁকে খুশি করার কি প্রাণান্তকর চেষ্টাটাই না ছিল আমার আচরণে। আমার বাচনভঙ্গী অথবা কথার ধরণে সে হয়ত কিছুটা খুশিও হয়েছিল, মুখে দেখা দিয়েছিল ইষৎ হাসির রেখা। সে হাসি আমাকে কতটা তৃপ্তি দিয়েছিল তা ভাষায় আবদ্ধ করে আপনাদের কাছে পৌছানো অসম্ভব। এটা স্রেফ উপলব্ধির বিষয়। আমার এ কথা বলার সাহস নেই যে এ ধরণের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন আপনারা কেউ হননি। তবে এ যাবৎ কেউ না হয়ে থাকলে বিষয়টা নিঃসন্দেহে আমাকে গর্বিত করত।

আর মাত্র ত্রিশদিনেরও কম সময়ের ব্যবধানে আমি তাঁকে কতো স্বাভাবিকভাবে হাসিমুখে বিদায় দিলাম! সম্পর্কের পাঠ চুকালাম। একথা বললে নেয়াহেতই গলাবজি করা হবে যে, সম্পর্কটার এই পরিনতিতে আমি কষ্ট পাইনি। তবে যতটা হলে অনুভুতিটাকে পাপবোধের পর্যায়ে ফেলা যাবে তা যে হইনি তা বলার জন্য কোন ধর্ম পুস্তককে সাক্ষী মানার প্রয়োজন নেই। বিদায়ের মুহুর্তে আমার আচরণ দেখলেই আপনি তা টের পেতেন।

সম্পর্কগুলো কেন এতো সহজে ভেঙ্গে যায়! কেন তারা এতো সহজে ভেঙ্গে পড়ে? আসলে পারস্পরিক সর্ম্পটা নির্ভর করে আপনি যাচিত ব্যক্তির প্রতি কতটা সহানুভুতিশীল কিংবা ব্যক্তি আপনার প্রতি কতটা সহানুভুতিশীল। এ সহানভুতি একক কোন বিষয় নয় কিংবা একক কোন আচরণেরও বিষয়ও নয়। সহানুভুতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে পরস্পরকে বুঝার ক্ষমতা, পরস্পরের অবস্থান ও দুর্বলতা মেনে নেয়ার মানসিকতা, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং সর্বোপরি পরস্পরের প্রতি বিশ্বস্ত থাকা।

পরস্পরের প্রতি এই 'সহানভুতির' একটি ব্যালেন্স অবশ্যই থাকা উচিত। এটা কখনোই এক তরফা আশা করা উচিত নয়। পারস্পরিক এই 'সহানুভুতি'র বিনিময়ে কিছুটা হেরফের হলেও সম্পর্কগুলো দোলায়মান অবস্থার মাঝেও হয়ত টিকে থাকবে। তবে হেরফেরের মাত্রাটা একটু বেশি হলে কিংবা একতরফা হলে সম্পর্কটা নিশ্চিতভাবেই আর বেশিদূর আগাবেনা। গন্তব্যের আগে ঠিকই ভেঙ্গে পড়বে।

আজকাল ইন্টারনেট, মেসেঞ্জার ও সেলফোনের যত্রতত্র ও বহুল প্রচলনের কারণে সম্পর্কগুলো খুবই সহজলভ্য হয়ে যাচ্ছে। সম্পর্ক গড়ে ওঠার যে স্বাভাবিক ধাপগুলো আছে অর্থাৎ পরস্পরকে জানা, বুঝা, শ্রদ্ধাবোধ গড়ে ওঠা, বিশ্বস্ত থাকা সর্বোপরি বিষয়টাকে সহানুভুতির পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার চর্চার সুযোগ এখানে নেই বললেই চলে। এই সম্পর্কের একমাত্র ভিত্তি হচ্ছে ক্ষণিকের আবেগ। এর সাথে হয়ত নিঃসঙ্গতা অথবা সময়কে পারচেজ করারও একটা প্রবণতা থাকতে পারে। তবে এ জাতীয় সম্পর্কগুলো উৎপন্ন হওয়ার পিছনে যে কারণই থাকুক না কেন কথিত সম্পর্কটার শুরুতে আবেগের কোন কমতি থাকে না। সত্যিকার অর্থে এ জাতীয় সম্পর্কের ভিত্তিতে আবেগের চাইতেও উচ্ছাসের সংমিশ্রণটা অনেক বেশি থাকে। পরস্পরের প্রতি 'সহানুভুতি' বিহীন এই উচ্ছাস নির্ভর সম্পর্ক বেশিদিন টিকে না। অনিবার্য পরিনতিই অল্পদিনের ব্যবধানে শুনা যায়,' সরি, খোদা হাফেজ' ইত্যাদি, ইত্যাদি।

পৃথিবী অতিমাত্রায় বাণিজ্যিক হয়ে গেছে। সে সূত্র ধরে সম্পর্কগুলোও আরো বাণিজ্যিক। বাণিজ্যের সোজা মানে হচ্ছে স্বার্থের সন্ধানে প্রতিনিয়ত এদিক ওদিক ছুটে চলা। সুবিধার ব্যাঘাত ঘটলে পুরনো বন্দর পরিত্যাগ করে নতুন বন্দরে নোঙ্গর ফেলা। প্রিয়ার নীলখামের চিঠির আশায় কেউ আর প্রহরের পর প্রহর, দিনের পর দিন, মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে রাজি নয়। এই 'অপেক্ষা'র বাণিজ্যিক সঃজ্ঞা হচ্ছে 'সময় নষ্ট করা'। এই তথাকথিত বানিজ্যিক 'সময় নষ্ট করার' মারপ্যাচে মানুষ ভুলেই গেছে যে, অপেক্ষার মাঝেও আনন্দ ছিল, তৃপ্তি ছিল, পবিত্রতা ছিল, ছিল বিশুদ্ধতা। সর্বোপরি ছিল পরস্পরের প্রতি 'সহানুভুতি'।

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:১৬
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×