ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে আরবে জাতি বা রাষ্ট্র সম্পর্কে কোন ধারণা ছিল না। জাতি, রাষ্টবিহীন তখনকার আরবদেরকে দু'টো শ্রেণীতে বিভক্ত করা যেতে পারে। যথাঃ বেদুইন তথা যাযাবর ও সমতলভূমির আরব। বেদুইন আরবদের কোন নির্দিষ্ট বাসস্থান ছিল না। তাঁরা যাযাবরের মত একস্থান হতে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়াত এবং তাবুতে বাস করত। পশুপালন ও দস্যুভিত্তি ছিল তাঁদের প্রধান পেশা। সমতল আরবরা সমতলভূমিতে স্থায়ীভাবে বসবাস করত। তাঁদের প্রধান পেশা ছিল পশুপালন ও ব্যবসা। সমতল বা বেদুইন আরব শ্রেণী উভয়েই অনেক গোত্রে বিভক্ত ছিল। গোত্রপতীরা ছিলেন গোত্রে প্রধান। তারাই গোত্রের বিভিন্ন ঝগড়া, বিবাদ ও অন্যান্য সামাজিক সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতেন। কোন কেন্দ্রিয় সরকার ছিল না বা বলা যেতে পারে সরকার সম্পর্কে তাঁদের কোন ধারণা ছিল না।
মদীনায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামের নবীই সর্বপ্রথম আরবে একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন। সাথে সাথে সেই রাষ্ট্রকে পরিচালনা করার জন্য একটি সরকারেরও প্রবর্তন করেন। নিজ যোগ্যতা এবং অবশ্যই জনসমর্থনের বলে তিনি নবসৃষ্ট এই রাষ্ট্রের প্রধান হলেন। যদিও আধুনীক রাষ্ট্র বা সরকারের সাথে তুলনা করলে প্রবর্তিত এ রাষ্ট্রের বা সরকারের অনেক সীমাবদ্ধতা থেকে যায় তথাপি সে সময়ে এ রাষ্ট্র ব্যবস্থা শুধুমাত্র আরব ভূমিতেই নয়, পৃথিবীর অন্যান্য অংশেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে। এটা সম্ভব হয়েছিল ইসলামের নবীর রাষ্ট্রজ্ঞানের প্রগারতা, বিচক্ষণতা ও যুগের প্রয়োজনকে অনুধাবন করার কারণেই। এক্ষেত্রে বোধ করি, তাঁর ঐশী ক্ষমতাকে প্রাধান্য না দিয়ে তাঁর রাষ্টনায়কোচিত ভূমিকাকে গুরুত্ব দিলে তার অর্জনকে সত্যিকারের মূল্যায়ন করা হবে।
মক্কার কুরায়শ ও মদীনার ইহুদীদের সাথে সম্পর্ক বিবেচনা করে নবসৃষ্ট মদীনা রাষ্ট্রের প্রথমত প্রয়োজন ছিল একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনীর। শুধু সেনাবাহিনী পরিচালনাই নয়, রাষ্ট্রীয় অন্যান্য কর্ম পরিচালনার জন্য প্রয়োজন ছিল অর্থের। এ অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যেই লক্ষ্যেই যাকাত ব্যবস্থার প্রয়োজন করা হয়। ব্যয় ব্যতিরেকে সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা বা সমপরিমান সম্পদের অধিকারী ব্যক্তির উপর শতকরা আড়াই টাকা হারে এ যাকাত ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়। লক্ষণীয় বিষয় যে, সামগ্রিকভাবে সমস্ত ভূমির উপর কোন করারোপ করা হয়নি। এর একমাত্র কারণ আরবভূমি ছিল অনুর্বর এবং কৃষিকাজের অনুপযোগী। সে কারণে কৃষিকে কেন্দ্র কোন প্রকার অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালিত হত না বলা যায়। যাহোক, ধার্যকৃত যাকাত সংগ্রহ এবং সংগ্রহীত যাকাতের সুষ্ঠু বন্টন ও বিলির জন্য প্রয়োজন হল একটি সুষ্টূ ব্যবস্থাপনা। এই ব্যবস্থাপনার মানসেই প্রতিষ্ঠিত করা হয় রাষ্ট্রীয় কোষাগার যা ইসলামের পরিভাষায় বায়তুল মাল নামে পরিচিত। এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে যুগের প্রেক্ষিত বিবেচনায় যাকাত এবং বায়তুল মাল প্রতিষ্ঠা ছিল একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এ পদক্ষেপের ফলে সুষ্ঠু অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক সাম্য গড়ে ওঠে। সুষ্ঠু অর্থনৈতক ব্যবস্থা গড়ে ওঠার কারণে শক্তিশালী সেনাবাহিনীর ভরণ-পোষণের পাশাপাশি জনগণের অর্থনৈতিক দুরবস্থা লাগবও সম্ভব হয়।
সুষ্ঠু অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলা সহ অন্যান্য রাষ্ট্রীয় আচার আচরণে অভ্যস্ত মদীনা খুব শীঘ্রই আরবে একটি পরাশক্তি হিসেবে উদিত হয়। রাষ্ট্রীয় আচার আচরণে অভ্যস্ত মদীনা খুব সহজেই আশেপাশের খন্ড-বিখন্ড, বিশৃংখল ইহুদী গোত্রের উপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়। এমনকি যে মক্কা হতে ইসলামের নবী একসময়ে একাকী ছিন্নমূলের মত প্রাণভয়ে পলায়ন করেছিলেন দশ বছরের মধ্যেই সে মক্কাকে তিনি একপ্রকার বিনাযুদ্ধেই জয়লাভ করেন। সুষ্ঠু অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় আচার আচরণে বলীয়ান একসময়ের দুর্বল মদীনার বিরুদ্ধে বিশৃংখল, বিভক্ত মক্কা কোন বাধারই সৃষ্টি করতে পারেনি।
প্রাচীনকাল হতেই আরবরা যুদ্ধবাজ ও সাহসী জাতি হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে বিভক্তি ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে এই শক্তি একমাত্র লুটপাট ব্যতিত অন্যকোন ক্ষেত্রে সফলতা দেখাতে পারেনি। ইসলামের নবীর দূরদর্শীতার ফলশ্রুতিতে মদীনা ও মক্কা একত্রীকরণের মাধ্যমে একটি আরব জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। শুধু তাই নয়, রাজস্ব (যাকাত) আদায়ের সুষ্ঠুতা ও এর সংরক্ষণের (বায়তুল মাল) কারণে অর্থনৈতিক সচ্ছলতার বিষয়টিও নিশ্চিত হয়। সুষ্ঠু রাজস্ব ব্যবস্থা এবং ইতোপূর্বে বিভিন্ন যুদ্ধে জয়লাভের ফলে অর্জিত সম্পদের ব্যবহারের কারণে সাহসী আরবীয় সেনাবাহিনী রাসুলের সময়েই এবং তাঁর মৃত্যুর পরে খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলে পৃথিবীতে একটি শক্তিশালী নিয়ামকে পরিনত হয়।
ইসলামী সেনাবাহিনীর শক্তিমত্তার এ ঢেউ এক সময়ে পৃথিবীর অন্যান্য অংশের মত এ ভারতেও আছড়ে পড়েছিল। বিভক্ত ভারতীয়দের কাছ থেকে শাসন ক্ষমতা কেড়ে নিতে যুদ্ধবাজ আরব ও পাঠানদের তেমন বেগ পেতে হয়নি। তবে শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলেও ভূ-প্রাকৃতিক ভিন্নতার কারণে ভারতের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার উপর তারা কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। ভারতের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল আরবদের চেয়ে অনেক উন্নত। কাজেই সমাজিক আচার অনুষ্ঠানের পাশাপাশি আরবরা অর্থিনৈতিক ব্যবস্থায়ও কোন পরিবর্তন আনতে পারেনি বা চেষ্টা করেনি। সত্যি কথা বলতে গেলে অবস্থা বিবেচনা করে শাসকরা ভারতীয় সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সাথে নিজেদের মিশিয়ে দিয়েছিল। ঠিক এ কারণেই রাজস্ব সংগ্রহের মাধ্যম হিসেবে যাকাত ব্যবস্থা কখনও জনপ্রিয়তা পায়নি। একমাত্র আওরঙ্গজেবের মতো গোঁড়া মুসলমান ব্যতিত অন্য কোন শাসককে এটাকে কার্যকর করার কোন পদক্ষেপ নিতেও দেখা যায়নি। বরং শাসকবর্গ বহুকাল হতে ভারতবর্ষে প্রচলিত সর্বজনীনভাবে সকল ভূমির উপর ধার্য্যকৃত বাৎসরিক কর এবং উৎপাদিত ফসলের উপর সরকারের হিস্যা আদায়ে বেশি তৎপর ছিলেন। ভারতবর্ষের ভূমি ছিল উর্বর। সে কারণে এখানকার মূল অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালিত হত কৃষিকে কেন্দ্র করে। জমির উৎপাদন ক্ষমতা বেশি থাকার কারণে কৃষিভিত্তিক এ অর্থনীতি ছিল স্বয়ংসম্পূর্ণ। এ কারণেই দেখা যায় আলাউদ্দিন খলজী থেকে শুরু করে বাবর, শেরশাহ এবং আকবর এরা সবাই রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে সমৃদ্ধ করার উপায় হিসেবে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থাপনার উপরই গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে, ভূমি রাজস্ব আদায়ে শেরশাহের প্রবর্তিত পদ্ধতিটি ছিল যুগান্তকারী। তার প্রবর্তিত 'কাবুলিয়াত' ও 'পাট্টা' পদ্ধতি পরবর্তীতে আকবর এবং ইংরেজরাও অনুসরণ করেছিলেন। এমনকি বর্তমানের ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থাপনায়ও এর প্রভাব দেখা যায়।
রাষ্ট্রের কর্মকান্ডের বিস্তৃতির কারণে বাড়তি কর্মকান্ডের ব্যয় মেটানোর জন্য পরবর্তীতে ভূমি ছাড়াও অন্যান্য খাত হতেও কর সংগ্রহরে প্রচেষ্টা শুরু হয়। বর্তমানে এর ব্যপ্তি এতোটা ঘটেছে যে এটা মানুষের দৈনন্দিন কর্মকান্ডের সাথে ওতপ্রোতভাবে মিশে গেছে। আজ এক শিশু জন্মগ্রহণ করেই ট্যাক্স প্রদান শুরু করেন। তেমনি একজন মৃতকেও কবরে যাওয়ার শর্ত হিসেবে ট্যাক্স প্রদান করতে হয়। আজ আপনাকে জুতা কিনতে গেলে ট্যাক্স প্রদান করতে হয়, সেতু পার হতে গেলে ট্যাক্স প্রদান করতে হয়, শার্ট কিনতে গেলে ট্যাক্স প্রদান করতে হয়। চাকুরীর বেতন বা বাৎসরিক আয়ের উপর ট্যাক্সতো আছেই। এটা মোটেই বাড়িয়ে বলা হবে না যে করের ভারে আমাদের মেরুদন্ড ক্রমশ কুজোঁ হয়ে যাচ্ছে। সুতরাং, এই কঠিন অবস্থার মাঝে রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টার মাধ্যমে একজন নাগরিককে ধর্মীয় ও সামাজিক চাপে ফেলে ও মানসিকভাবে দুর্বল করে তাঁর কাছ থেকে যাকাত নামক বাড়তি ট্যাক্স আদায় করা বা তা প্রদানে উৎসাহিত করা ব্যক্তির নাগরিক অধিকার ক্ষুন্ন করারই শামিল। নাগরিক অধিকার ক্ষুন্ন করার প্রশ্ন এ কারণেই আসছে কারণ এক্ষেত্রে রাষ্ট্র দ্বৈত ভূমিকা পালন করছে। দ্বৈত ভূমিকার কথা এ কারণে ওঠছে কারণ রাষ্ট্র শুধু তাঁর কাছ থেকে রাষ্ট্র নির্ধারিত কর আদায়ে ভূমিকা রাখছেনা বরং ব্যক্তিকে সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে মানসিক চাপে ফেলে যাকাত নামক আরেকটি বাড়তি কর আদায়েও প্রণোদিত করছে। অথচ রাষ্ট্রের উচিত ছিল কিংবা উচিত হবে যে ব্যক্তি নিয়মিত রাষ্ট্রীয় কর প্রদান করছে তাঁকে যাকাত নামক বাড়তি কর হতে অব্যাহতি দেয়া এবং রাষ্ট্রীয় কর প্রদানের কারণে তাঁর যাকাতও প্রদান করা হয়েছে এ বিষয়টি সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করা।
এক্ষেত্রে অনেকেই হয়ত বর্তমানের কর ব্যবস্থা এবং যাকাত ব্যবস্থার তত্ত্বগত ও উদ্দেশ্যগত পার্থক্য আছে বলে দাবী করতে পারেন। যাকাতের তত্ত্বগত একটি ফাক অবশ্য সময়ের বিবর্তনে ইতোমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। ব্যয় ব্যতিরেকে সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা অথবা সমপরিমাণ সম্পদের মালিকের উপর শতকরা ২,৫০ টাকা হারে যাকাত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যে সময়ে এটি প্রবর্তন করা হয়েছিল সে সময়ে হয়ত সোনা ও রূপার আনপাতিক মূল্যমান এমনটাই ছিল। বর্তমানে সোনার মূল্যের বৃদ্ধির অনুপাতে রূপার মূল্য ততোটা বাড়েনি। সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণের সাথে এখন আর সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার তুলনা চলেনা। কাজেই কোন ব্যক্তি যদি যে কোন একটি নির্দেশককে ব্যবহার করে নিজের সুবিধামতো যাকাত প্রদান করে তবে আপনি তাঁকে কোন আইনের বদৌলতে বিরত রাখবেন? কাজেই এটা পরিস্কার যে, যাকাতের তত্ত্বগত বিষয়টি এখন আর নিরেট নয়। সময়ের ব্যবধানের অন্যান্য অনেক তত্ত্বের মত এখানেও ফাক-ফোকরের সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরণের অনেক ত্রুটি বর্তমানের আধূনিক কর ব্যবস্থায়ও আছে।
এবার উভয় ব্যবস্থার উদ্দেশ্যগত দিকটি নিয়ে আলোচনা করা যাক। এটা সর্বজনস্বীকৃত যে যাকাত ব্যবস্থার প্রবর্তন আর্ত-মানবতার কল্যাণে, দরিদ্র মানুষের সুবিধার্থে। তেমনি আধুনীক কর ব্যবস্থাও অন্তত তত্ত্বগতভাবে মানুষের কল্যাণে পরিচালিত হচ্ছে দেশের আপামর জনগণের সুবিধার্থে। বরং ক্ষেত্র বিবেচনায় স্বাভাবিকভাবেই আধুনীক কর ব্যবস্থা আরো কল্যাণকর ও ব্যাপক। আধুনীক কর ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রাপ্ত রাজস্ব শুধু ব্যক্তিকে আর্থিকভাবে সাহায্য করেই ক্ষান্ত হয় না বরং তাকে স্বাবলম্বী করার প্রয়াসও নেয়। শুধু নয় আধুনীক কর সংগ্রহের মাধ্যমে গড়ে তুলা সরকারের সেবামূলক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমসমূহ ব্যক্তির সৃজনশীলতা বিকশিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করে এবং ব্যক্তির জীবনযাত্রাকে সহজ সরল করে। কাজেই বিষয়টা পরিস্কার যে আধুনীক কর ব্যবস্থা যাকাতের উদ্দেশ্য একই আর তা হচ্ছে আর্ত-মানবতার কল্যাণ করা।
উপরের বিশদ আলোচনার মাধ্যমে আমি এ বিষয়টিই প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছি যে যাকাত মূলত রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে সমৃদ্ধ করার প্রয়াসে একটি কর ব্যবস্থা। সময়ের বিবর্তনে ও প্রয়োজনে এ কর ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে, পেক্ষিত বদলেছে, সংগ্রহের নিয়ামক ও পদ্ধতি বদলেছে। বর্তমানে যারা নিয়মিতভাবে রাষ্ট্রীয় কর প্রদান করছেন তাঁরা মূলত এ কর প্রদানের মাধ্যমে যাকাতও প্রদান করছেন। কাজেই অবস্থার প্রেক্ষিতে তাঁর থেকে ধর্মীয় নিয়মের কথা বলে যাকাত নামক বাড়তি কর আদায় করা বা প্রদানে উৎসাহিত করা অমানবিক ও অবিবেচনা প্রসূত। এক্ষেত্রে যারা নিয়মিত রাষ্ট্রীয় কর প্রদান করছেন রাষ্ট্র স্ব-প্রণোদিত হয়ে তাঁদেরকে যাকাত নামক বাড়তি কর হতে অব্যাহতি দিতে পারেন এবং পাশাপাশি করদাতা কর প্রদানের মাধ্যমে যাকাত প্রদানের কাজটি সম্পন্ন করেছেন এমন একটি ধারণা ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের মাধ্যমে সমাজে প্রতিষ্টিত করতে পারেন। সময়ের বিবেচনায় এ বিষয়টি নিয়ে ভাববার যথেষ্ট অবকাশ আছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


