গত ১০ আগস্ট “আসুন বাংলাদেশের ভাল গুন গুলো খুঁজে বের করি” শিরোনামে একটি পোষ্ট দিয়েছিলাম। আমাদের দেশের ভাল দিক গুলি নিয়ে আ্লোচনার জন্য সবাইকে আহব্বান জানিয়েছিলাম, আনুরোধ ছিল অন্তত একটি করে পয়েন্ট লেখার। অনেকে উদ্দ্যগের প্রসংশা করলেও ভালো গুনের উল্লেখ দু-এক জন বাদে অন্য কেও করেননি। তারপরও উদাসী স্বপ্ন , মো. লুৎফর রহমান, নিরাভরন , 'লেনিন', একজন সৈকত রামন কে আপনাদের মন্তব্যের জন্য এবং অন্যদেরকে কষ্ট করে পোষ্টটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ জানাছি।
Click This Link
আমাদের দেশের ভাল দিকের কি এতই অভাব? নাকি আমরা খারাপ জিনিষ নিয়ে আলোচনা করতে করতে নেতিবাচক মনা হয়ে গেছি? প্রশংগক্রমে, ২/৩ দিন আগে সাহোশই৬ এর ‘জাতি হিসাবে আমাদের দোষ সমূহ’ পোষ্টের কথা না উল্লেখ করে পারছি না। উক্ত পোষ্টে লেখক সহ সবাই মিলে বাংলাদেশের প্রায় ৩০টিরও বেশি দোষ খুজে বের করেছেন। আত্মসমালোচনা করার এই সাহস কে আমি মোটেও খারাপ চোখে দেখছি না।সবচেয়ে আশার দিক হচ্ছে সবাই এর থেকে বের হয়ে আসার উপায় খুজেছেন।
ভাল কিছু করতে হলে আত্ম-শক্তি প্রয়োজন, আর সেই শক্তি আসে আত্ম-গরব থেকে (আত্ম-অহংকার নয়), হীনমন্যতায় ভোগা জাতি কখনও উন্নতি করতে পারে না। বিেশ্বর মানূষের কাছে বাংলাদেশকে “নেগেটিভ কানট্রি” বানাতে আমাদের অবদানও কম নয়। আমরা অনেকেই করুনা পাওয়ার জন্য অথবা শুধুই অভ্যাসের বশে বিদেশীদের কাছে আমাদের দেশের করূন চিত্র তুলে ধরি। এটা করে লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশী।
তাই আবারও আহব্বান জানাছি আসুন আমাদের দেশের ভাল দিক গুলি নিয়ে একটু আলোচনা করি এবং সেগুলো আমাদের বিদেশী বন্ধুদের কাছে তুলে ধরি। আপনি কি আমার সাথে একমত নন যে নীচের ৫ টি পয়েন্ট বাংলাদেশের অনেকগুলো ভালো দিকের মধ্যে সামান্য কয়েকটির উল্লেখ মাত্র?
অর্জনঃ আমাদের দেশের ক্রিকেট টিম বিশ্বের অন্যতম ভাল ক্রিকেট টিম, যারা অন্তত ক্রিকেট খেলার নামটি জানে তারা বাংলাদেশের নাম সম্মানের সাথে সরণ করে।
সমাজঃ আমাদের দেশের মানুষ পরস্পর পরস্পরের প্রতি প্রচন্ড আন্তরিক। আমরা আমাদের বৃদ্ধ বাবা-মা, গুরুজন দেরকে আমাদের অবিছেদ্দ অংশ মনে করি। কোন উৎসবে-আয়োজনে নিজের সামর্থের বাইরে যেয়ে হলেও সর্বাধিক আত্মীয়-স্বজনের সাথে তা শেয়ার করতে চেষ্টা করি। অন্যের বিপদে কিছু উপোকার করতে পারলে নিজেদেরকে আমরা ধন্য মনে করি। বাংগালীর এই গুনটা যে আমদের কতটা মানসিক শান্তি দেয় তা উন্নত বিেশ্বর নিসংগ (শুধু কুত্তা নিয়ে বাস করা) মানুষ গুলো অথবা বৃদ্ধাশ্রমে থাকা বৃদ্ধ-বৃদ্ধা দের দেখলে বোঝা যায়।
অর্থনীতিঃ জনবহুল একটি গরীব একটি দেশ আমাদের, কিন্তু এর অর্থনৈতিক অবস্থা মোটেও ভংগুর নয় বরং দিন দিন উন্নতি করছে। সাম্প্রতিক মহামন্দার কথায় ধরুন না, বিশের অধিকাংশ ধনী দেশ এটা সামাল দিতে যেখানে টালমাটাল সেখানে রেমিটেন্সের প্রবাহে বাংলাদেশের উপর এর তেমন প্রভাব পড়েনি। আমাদের বাজেটের নগন্য অংশ এখন বিদেশের উপর নিরভরশীল। কৃষিকে প্রযুক্তি- নির্ভর আর কর্মঠ মানুষ গুলোকে দেশে বা বিদেশে কাজে লাগাতে পারলে মধ্য আয়ের দেশে পৌঁছাতে আমদের বেশী সময় লাগবে না।
দূর্নীতিঃ আমদের দেশের মানূষ দূর্নীতি পরায়ন নয় বরং দূর্নীতি কে আমরা ঘৃনা করি। ভ্রু কুচকাবেন না, আমার যুক্তিটা আগে দেখুন; আমার কাছে দূর্নীতির সংগা হলোঃ বৈধ আয়ে সংসারের মৌলিক চাহিদা মেটার পরও যদি কেও অধিকতর বিলাসী জীবন যাপনের জন্য অসৎ পথে অর্থ আয় করে অথবা যদি কেও তার রাষ্ট্রিয় অধিকার/সেবা সমুহ যথানিয়মে পাওয়ার পরও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য অনৈতিক উপায়ের আশ্রয় নেয় তাহলে তাকে দুর্নীতি বলা হবে। অর্থাত্ কেও যদি শুধু তার সংসারের ভরণ পোষন চালানোর জন্য কিছু ঘূষ খায় বা কেও যদি কোন অফিসে যেয়ে তার প্রাপ্প সেবা না পেয়ে ঘুষ দিয়ে কাজ সম্পন্ন করে তাকে আমি দূর্নীতির পর্যায়ে ফেলি না। তাহলে এবার আসুন ক্যালকুলেসনে, প্রাপ্য অধিকার পেলে ২য় প্রকৃতির দুর্নীতির সংখা শুন্যের কাছাকাছি চলে আসবে। আর বাংলাদেশের শতকরা ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ লোকের দুর্নীতি করে টাকা কামানোর মত সামর্থ নেই। বাকি ৫ থেকে ১০ ভাগ লোকের সবাই সামর্থ থাকার পরও দুর্নীতি করে না। যারা দুর্নীতি করে তারা অনেকেই সিস্টেমের কারনে তা করে। আমি কখনো কোন ছাত্র-ছাত্রীর মুখে শুনিনি যে সে চাকুরী করার সময় ঘূষ খাবে। তাহলে আমার সংগানুসারে বাংলাদেশের ২ থেকে ৩ পারশেন্টেরও কম লোক দূর্নীতির সাথে জড়িত। একটা দেশের ২/৩ ভাগ লোকের পাপে কি পুরা দেশকে পাপী বলা যায়? যারা আমদের দুর্নীতিবাজ বলে তাদের দেশে ফেরেশতারা বাস করে না। আমার ভরসা এখানেই যে এদেশের সব মানুষ দুর্নীতিকে ঘৃনা করে, ঘুষখোর বাবাও চান না যে তার সন্তান অসত্ হোক।
রাজনীতিঃ আমাদের দেশের বেশীর ভাগ মানুষ অশিক্ষিত হলেও রাজনৈতিক ভাবে বেশ সচেতন। রাজনৈতিক নেতারা এটা অন্তত বুঝে গেছে ৫ বছর পরে হলেও জনগনের কাছে তাদের কাজের মুল্যায়ন হবে। মুসলিম প্রধান দেশ হলেও অধিকংশ মুসলিম দেশের মত জংগিবাজরা এখানে ঠাই পায় না। আমরা দেশের প্রয়োজনে সবাই এক হয়ে মরতেও ভয় পায় না, ১৯৫২, ১৯৭১ তার প্রমান।
এদেশের দিয়ে কিছু হবে না- বলে যারা হতাশায় ভুগছেন, তারা হয়তো দেশটাকে বেশী ভাল বাসেন তাই ক্ষোভের বসে তা বলে থাকেন। হতাশ হবেন না, বিশে্বর দৃিষ্টতে এখনো বাংলাদেশের অবস্থান অনেক উপরে অন্তত তাদের চেয়ে যাদের কাছ থেকে আমরা স্বাধীন হয়েছি। বরং আফসোস করুণ এই ভেবে, দেশ আমাকে এত কিছু দিল অথচ আমি দেশটাকে কিছু দিতে পারলাম না!
(উপরোক্ত মতামত নিতান্তই আমার নিজের ধারনা, পরিশংখানের কোন সূত্র নেই। দুঃখিত! লেখাটি বড় হয়ে গেল)
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



