somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোলা'র জন্য একখান বই বানালাম, দেখেন তো কেমন হলো?B-) (রিপোষ্ট,ফাইনাল সংস্করণ )

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ১১:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(আমার গাড়ি-পাগল পোলা’কে Alphabet শেখানোর কৌশল নিয়ে এই পোষ্টটি দিয়েছিলাম। অনেক ব্লগার তাদের পিচ্চি’দের জন্য মেইলে বইটার মূলকপি নিয়েছিলেন। আমার বাচ্চার জন্য বানানো বই অন্য শিশুদেরও কাজে লেগেছে জেনে খুব ভাল লাগল। তাই শেষ বারের মত আবার শেয়ার করলাম। যারা একবার দেখেছেন তাদের ইগ্নোর করার অনুরোধ করছি।)
আমার ৩ বছরের ছেলে রাদিল, গাড়ি পছন্দ অসম্ভব রকমের। অধিকংশ ছেলে বাচ্চা’ই সম্ভবত গাড়ি পছন্দ করে, কিন্তু আমারটার অতিরিক্ত রকমের। তার গাড়ির যন্ত্রনায় আমরা মুটামুটি অতিষ্ট,X(( দোকানে যেয়ে শান্তি নেই প্রতিবারই তাকে কোন না কোন গাড়ি কিনে দিতে হবে, বাসায় তার গাড়ির যন্ত্রনায় পা ফেলার উপায় নেই, বিছানায় শুতে গেলে পিঠের নিচে তার গাড়ি:((; আর হাতে সব সময় কোন না কোন গাড়ি তো আছেই। প্রতিরাতে তাকে গাড়ির গল্প না বললে ঘুমাবে না; সে কোন গল্প বলতে গেলে দুই-তিন কথার পরে গাড়িকে টেনে আনবেই।
তখন ওর বয়স ২ বছর, একটা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে, সবার সাথে ও মোনাজাত ধরেছে। হুজুর ইহলোক-পরলোক এর শান্তির জন্য আল্লাহুর কাছে বিভিন্ন জিনিস চাচ্ছেন, সবাই আমরা আমিন্ আমিন্ বলছি। হঠাৎ ও জোরে বলে ঊঠেছে "আল্লাহ গাড়ি দাও"। সবার তো হাসিতে দম ফাটা অবস্থা, তাড়াতাড়ি হুজুর মোনাজাত শেষ করে সম্মান বাচালেন।:P:P:P
গাড়ির প্রতি তার বিশাল মমতা, কখনও গাড়ি ভাঙ্গে না, এমন কি টিভিতে গাড়ি এক্সিডেন্টের কোন ভিডিও দেখলে সে চিৎকার দিয়ে কান্না শুরু করে। আমরাও তাকে এটা নিয়ে বাধা দিইনা, বরং সাধ্যমত তাল দিয়ে যাই; দেখি কত দিন এ মোহ থাকে! কিন্তু কমার কোন লক্ষন দেখছি না, বরং ইদানিং আর এক ধাপ উন্নতি হয়েছে, বাইরের গাড়িতে তার আর মন ভরছে না, সে নিজেকেই এখন গাড়ি ভাবতে শুরু করেছে;)। কখনও এম্বুলেন্স হয়ে প্যাঁ-পুঁ করে অসুস্থ মানুষ নিয়ে যাচ্ছে, কখনও ট্রাক হয়ে মালপত্র টানছে, আবার কখনও পুলিশ-কার হয়ে আমাদের ধরে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে। কিছুক্ষন পর পর এসে বলবে, “বাবা একটু তেল দাওতো, গাড়ির তেল শেষ হয়ে গেছে”, আমি পেটে একটু ভুসভুস করে তেল দিয়ে দেয়, আবার চলতে শুরু করে। পানির পিপাসা লাগলে এখন সে বলে গাড়িটা তেল খাবে, তেল (পানি) দাও।;), ভাত খাওয়ানো নিয়ে বাহানা করলে যদি বলা হয়, গোমী (garbage) ট্রাক এই গোমিটা খেয়ে ফেলো তো, সাথে সাথে মুখ হা করে গোমী (খাবার) খাবে।
তার একখানা যন্ত্র আছে... সেটা যখন স্বাভাবিক থাকে তখন সেটা ‘রকেট’, যখন বের হয় তখন সেটা ‘সিংকাঞ্ছেন’ আর যখন সেটা থেকে পানি বের হয় তখন সেটা ‘ফায়ার ট্রাক’ :P:P(সরি, কিঞ্চিত ১৮+)
সেদিন আমি তাকে গোছল করানোর জন্য মাথায় পানি ঢালতে গেছি, সে আমাকে বল্ল একটু থাম, তারপর মাথা থেকে কি যেন খোলার অভিনয় করে পাশে রাখল। আমি বললাম কি রাখলে? বল্ল, পুলিশের গাড়ির সিগনালটা খুলে রাখলাম, ভিজে যাবে তো তাই! এমন অনেক অনেক কাহিনী...

যাহোক আসল কথায় আসি, ইদানিং তার মা তাকে দু-একটা অক্ষর চেনানোর চেষ্টা করছে। এমনিতেই ডে-কেয়ারে জাপানীজদের সাথে থেকে থেকে জাপানীজ শিখছে! তাই ঘরে কিছু বাংলা-ইংরেজী তামিল দেওয়ার চেষ্টা। কিন্তু কে শোনে কার কথা! ওর মা বিভিন্ন ছবি দেখিয়ে, নেচে, গেয়ে বলে, বল বাবাঃ অ, আ, ক, খ... A, B, C, D… আর ছেলে বলতে থাকে প্যাঁ পুঁ... ভুঁ ভুঁ...পিঁক পিঁক...;)। ছেলের ভবিষৎ নিয়ে ছেলের মা খুবই টেনশিত! হায় হায় আমার ছেলেটা কি অশিক্ষিতই থেকে যাবে?? সেদিন আমাকে বলল, এক কাজ কর, ওকে গাড়ি দিয়ে একটা alphabet শেখার বই বানিয়ে দাও। কি আর করা, গুগল মামার করুনায় আর ল্যাবের প্রিণ্টারের সহায়তায় দুজন মিলে একটা বই বানিয়ে ফেললাম।
হ্যাঁ, কাজে দিয়েছে... বই পড়ানোর জন্য এখন আর তাকে ডাকতে হয় না, সারাক্ষন সেটা বোগলে নিয়ে ঘুরে, রাতে মাথার কাছে নিয়ে শোয়, এই ক’দিনের মধ্যেই সে সব গুলো অক্ষর শিখে গেছে। কোথাও কিছু লেখা দেখলে সেটা পড়তে চেষ্টা করে...
সবাই কে THANKS !! ‘T’ for Train, ‘H’ for helicopter, ‘A’ for ambulance…

[img|http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/radil_1285613155_1-1.jpg























































৩৭টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×