চাঁদপুর, অক্টোবর ১১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- লোমহর্ষকভাবে নির্যাতনের পর ১১ নারীকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে রসু খাঁ (৪০) নামের চাঁদপুরের এক ব্যক্তি।
শনিবার রাতে জেলার ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রসু খাঁ এ কথা স্বীকার করে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনজিত চন্দ্র পালিত।
তিনি বলেন, "রসু খাঁ পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ১১ নারীকে নির্যাতনের পর হত্যার কথা স্বীকার করেছে। হত্যার পর প্রত্যেকের লাশ নদীসহ বিভিন্ন জলাশয়ে ফেলে দিয়েছে বলেও জানিয়েছে রসু। তবে তাকে মানসিক বিকারগ্রস্ত বলেও মনে হয় নি।"
স¤প্রতি একটি হত্যা মামলায় তিনদিনের পুলিশ হেফাজতে (রিমান্ড) জিজ্ঞাসাবাদকালে সে এসব কথা স্বীকার করে বলে জানান ওসি।
রোববার আদালতে পাঠিয়ে ১৬৪ ধারায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হবে।
ফরিদগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মীর কাশেম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ফরিদগঞ্জের একটি মসজিদের ফ্যান চুরির মামলায় পুর্লিশ আড়াই মাস আগে রসুকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররে পর থেকে সে ওই মামলায় কারাভোগ করে আসছিলো।
থানার ওসি জানান, চাঁদপুরের হাসুয়া গ্রামের এক নারী হত্যা মামলায় পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে মোবাইল ফোনের একটি সিম ব্যবহার করা হয়। ওই সিম থেকে ফোন করে পুলিশকে হত্যার খবরটি জানানো হয়েছিলো। পরে সিমটি আর খোলা পাওয়া যায় নি। ওই সিমের আসল মালিক রসু । সেটি বিক্রির মাধ্যমে হাত বদল হয়ে যায়। স¤প্রতি সিমটি খোলা পেলে এর ব্যবহারকারীকে গ্রেপ্তার করে তার জবানিতে রসু'র সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।
পরে রসুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে খুনের সব লোমহর্ষক বর্ণনা দেয় বলে জানান ওসি। ঃ
তিনি বলেন, "নারীকে হত্যার পরও তার ওপর নির্যাতন চালিয়েছে সে।"
ওসি আরও বলেন, "পুলিশের জিজ্ঞাসবাদে রসু খাঁ জানিয়েছে, জীবনের প্রথম প্রেমে ব্যর্থ হয়ে সে প্রতিজ্ঞা করেছে, একশ' একজন নারীকে নির্যাতন করে হত্যা করবে। এ পর্যন্ত সে ১১ নারীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে হত্যা করেছে।
"এর মধ্যে ফরিদগঞ্জে ছয়, চাঁদপুর সদরে চার ও জেলার হাইমচরে এক নারীকে মেরে ফেলে লাশ ভাসিয়ে দেয়।"
উপ-পরিদর্শক মীর কাশেম বলেন, "রসু স্বীকার করেছে, মোবাইল ফোনে বিভিন্ন মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তাকে নিয়ে অভিসারে যাওয়ার কথা বলে নির্যাতন করে হত্যা করা তার অনেকটা নেশায় পরিণত হয়েছে।"
এ কাজে সে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নজনের সহযোগিতা নিয়েছে বলেও স্বীকার করেছে।
পুলিশ স¤প্রতি টঙ্গী থেকে তার ভাগিনা জহিরুল ইসলামকেও গ্রেপ্তার করে। সেও তাকে সহযোগিতার কথা স্বীকার করেছে, জানান পুলিশ কর্মকর্তা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


