somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইজারাতন্ত্র না গনতন্ত্র ?

০৬ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইজারা কি ? ইজারাদার বলতে কি বুঝি ? ইজারাদার প্রথার উদ্ভব কোথায় ও কি ভাবে ? ইজারা হচ্ছে সম্পদ ব্যবস্থাপনার ও রাজস্ব আদায়ের সবচেয়ে সহজ সর্টকাট একটি প্রক্রিয়া। ইজারাদার হচ্ছে সেই ব্যাক্তি বা গোষ্ঠি যে সরকারী কোন সম্পদ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভোগ করার স্বত্তাধিকারী। ইজারার মাধ্যমে সরকার পছন্দের অথবা নির্দিষ্ট অথবা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্ধারীত ব্যক্তি বা গোষ্ঠিকে ইজারাদার নিয়োগ করে; তার কাছ থেকে রাজস্ব গ্রহন করে তাকে ঐ সম্পদ ভোগ/ব্যবস্থাপনার অনুমতি দেয়।

সাধারনত বালু মহাল, জল মহাল, বাঁশ মহাল, খেয়া ঘাট, হাট বাজার, ব্রীজের টোল আদায় ইত্যাদী অসংখ্য ক্ষেত্র থেকে রাজস্ব আদায়ের জন্য ইজারা দেয়া হয়।

ইজারা প্রথার জন্ম বৃটিশ আমলে। বৃটিশরা এ অঞ্চলে উপনিবেশ স্থাপনের পর এখানকার সম্পদ ভোগ করা ও রজস্ব আদায়ের জন্য ইজারা প্রথার সৃষ্টি করেছিল।দখল করা ভূক্ষন্ড থেকে সম্পদ লুট বা উপার্জনের জন্য এই পন্থাটিই ছিল বৃটিশদের জন্য সবচেয়ে যৌক্তিক ও সহজ উপায়। এমনকি জমিদারী প্রথাও ছিল এক প্রকারের ইজারা প্রথা। এর মাধ্যমে সমগ্র ভূক্ষন্ডটি ছোট ছোট অংশে ভাগ করে বিশ্বস্ত ও পছন্দের বা সর্বোচ্চ দরদাতাকে তারা সে জমিদারীগুলি বরাদ্দ দিত।

ইজারাদাররা কি করে ? ইজারাদাররা ইজারা পাওয়ার পর নির্দিষ্ট পরিমান রাজস্ব প্রদান করে সেটা ব্যবসার ইনভেস্টমেন্ট বিবেচনা করে ঐ সম্পদ থেকে সর্বোচ্চ লাভ/মুনাফা বের করার চেষ্টা করে। যেমন একটি জলমহাল/হাওয় ইজারা দেয়া হলে ইজারাদার প্রথমে নিশ্চিত করে চারপাশে বসবাসরত গ্রামের কেউ যেন এর ত্রিসীমানায়ও মাছ ধরতে আসতে না পারে। এর পর ইজারাদার জাল দিয়ে ঐ জলমহাল থেকে মাছ ধরা শুরু করে। শুকনা মৌসুম শুরু হলে পাম্প দারা পানি সেচের মাধ্যমে জলমহালটি শুকিয়ে ফেলে এবং বাকী মাছগুলি ধরে।

সমস্ত পানি সেচার পর বিলের তলার কাঁদায় কিছু মাছ লুকিয়ে থাকে । তখন ইজারাদারেরা ঐ পানি শূন্য জলমহালে রাতের বেলা বিভিন্ন জায়গায় হেজাক লাইট জ্বালিয়ে দেয়। রাতে ঐ হেজাকের আলোয় প্রচুর পোকামাকড় জমা হয় তখন কাঁদায় লুকিয়ে থাকা মাছগুলো সেই পোকামাকড় খাওয়ার জন্য বের হয়ে আসে। এবার ইজারাদারেরা ঐ মাছগুলি ধরে। এভাবে পানি শূন্য জলমহালটি শুকিয়ে প্রতিটি মাছ না ধরা পর্যন্ত ইজারাদার তার ভোগ করা অব্যহত রাখে। এটাই নিয়ম, সরকারকে টাকা দিয়ে ইজারা নিয়েছে তো সর্বোচ্চ পরিমাণ ভোগ করাই স্বাভাবিক ও যুক্তি সংগত। ইজারা নেয়ার পর মেয়াদের সময় জুড়ে ঐ সম্পদের মালিক ইজারাদার। ওখানে যা আছে সব কিছু তার । শত শত বছর ধরে এরকমই মনে করে এসেছে ইজারাদারেরা ।ইজারাদার হিসেবে আমাদের জাতীয় অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাও পরিপক্ক হয়েছে।

সে জলমহাল হোক আর বন হউক আর যাই হউক সেখান থেকে সর্বোচ্চ বাণিজ্য করাই ঐতিহাসীক ভাবে ইজারাদারের কাজ। অনেক ক্ষেত্রে হয়তো অনেক শর্ত থাকে আবার সেই শর্ত পালন না করারও অনেক রাস্তা থাকে। দূঃখের বিষয় বৃটিশরা চলে গেছে দেশও স্বাধীন হয়েছে কিন্তু ইজারা প্রথা এখনও আমাদের সম্পদ ব্যবস্থাপনার অন্যতম উপায়।

এবার আসা যাক আমাদের সরকার ব্যবস্থা গনতন্ত্র এর সাথে ইজারা প্রথার আদৌ কোন পার্থক্য আছে কিনা ? স্বাধীনতার পর থেকে গত ৪০ বছরে যে সমস্ত গোষ্ঠি বা দল রাষ্ট ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে তারা সবাই প্রকৃত পক্ষে দেশটা ইজারাই নিয়েছিল ও নিয়েছে। রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে সামরিক বাহিনী যখন যেই ক্ষমতায় এসেছে তারা সংঘবদ্ধ ভাবে দেশের সম্পদ লুটই করেছে এবং ইজরাদারের মানসিকতা নিয়েই দেশ পরিচালনা করছে।

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যে রাজনীতি চলছে তা আসলে ইজারাতন্ত্রেরই একটি সংস্করন। আমাদের গনতন্ত্রকে কোন ভাবেই গনতন্ত্র বলা যায় না। বাস্তবতা ও মানসিকতায় এটা ইজারাতন্ত্র এবং রাজনৈতিক দলগুলো এক একটি সংগবদ্ধ ইজারাদার।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:৫৮
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×