ঢাকার তথাকথিত মূর্খ ও প্রতারক টাইপের ইমারত ও জ্যিও বিশেষজ্ঞরা বলছে ঢাকায় সাত মাত্রার ভূমিকম্প হলে ৭০ হাজার ভবন সম্পূর্ন ভেঙ্গে পরবে এবং প্রতি বিল্ডিংয়ে একজন করে প্রায় এক লাখ মানুষ মারা যাবে।
কি আশ্চর্য হিসাব ? ৭০ হাজার বিল্ডিং ভাংগলে তো দায়োয়াই মারা পরবে এক লাখ।
এই যে কাল থেকে বাসের ছাদ ভরে ভরে যে মানুষগুলো ঢাকায় ঢুকছে তাদের কি হবে ? প্রায় দুই কোটি লোক আমরা ঢাকায় ডেকে এনেছি প্রতিদিন দূর্বিষহ জীবনযাপন শেষে একদিন বিল্ডিংয়ের চাপায় মরার জন্য।
কারন দেশে এখন এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থা বলবৎ রয়েছে। ফলে প্রশাসনিক সকল কর্মকাণ্ডই রাজধানী ঢাকা থেকে পরিচালিত হয়। যে কোনো একটি সাধারণ কাজের জন্যেও ঢাকা আসতে হয়। একটা সামান্য চিঠিও সচিবালয়ে পাঠাতে হয়। অথচ এই কথাটি কেউ বলছে না।
এবার আমি বলি ঢাকা শহরে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে সারা ঢাকা জুড়ে ম্যাসাকার হয়ে যাবে। পঞ্চাশ কিলোমিটার ব্যাসের বিশাল এক ধ্বংস স্তুপ তৈরী হবে। বিশ থেকে ত্রিরিশ লাখ মানুষ তৎক্ষনাৎ চাপা পরে মারা যাবে।
দেশি বিদেশী সমস্ত উদ্ধার তৎপরতা ১০ কার্য দিবসেই বাধ্য হয়ে শেষ করা হবে। উদ্ধার কর্ম দূরে থাক ধ্বংস স্তুপের আসে পাশেই মানুষ পঁচা গন্ধে থাকা যাবে না। পরিত্যাক্ত ঘোষনা করা হবে উদ্ধার তৎপরতা।
তখন সিদ্ধান্ত থাকবে পরবর্তী কয়েক মাস দেশি বিদেশি হেলিকপ্টার ও ছোট ছোট বিমানে করে উপর থেকে দিনে তিন বার সারা ঢাকায় শুধু ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হবে বেঁচ থাকা বাকি দেড় কোটি মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য। সুতরাং সরকারী সাপ্লাইয়াররা জাহাজ ভরে ভরে ব্লিচিং পাউডার এনে রাখেন ভালো ব্যাবসা হবেঃ বানিজ্য মন্ত্রনালয় প্রেস রিলিজ।
গত বিশ বছরে ও বর্তমানের লোভী ও মূর্খ সরকারগুলি ঢাকা শহর কে ধ্বংস করার সকল আয়োজন সম্পন্ন করে রেখেছে।
সমাধানঃ প্রসাশনিক বিকেন্দ্রিকরন ছারা ঢাকার অন্য কোন সমাধান নাই।
কারন, >রাজধানী ঢাকার লোকসংখ্যা ১ কোটি ৩০ লাখ। অথচ ঢাকা শহরের যে আয়তন- এই আয়তনের বিশ্বের অন্যান্য দেশের বা আদর্শ শহরের হিসাবে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ লোক বাস করতে পারে। এখানে অতিরিক্ত এক কোটি মানুষের বোঝা ঢাকা শহরকে বহন করতে হচ্ছে।
> দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৪০ হলেও ঢাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ৬ শতাংশ। অর্থাৎ ১২ বছর পর ঢাকার জনসংখ্যা হবে প্রায় আড়াই কোটি।
> ঢাকা শহরে বর্তমানে যত বাস, গাড়ি, অটোরিকশা এবং রিকশা-ভ্যান রয়েছে, তার ৫০ ভাগও যদি এক সময় রাস্তায় নামানো হয়, তাহলে কোন গাড়ির সামান্য নড়াও সম্ভব হবে না। তারপরও প্রতিদিন গড়ে ১৮০টি গাড়ি নতুনভাবে রাস্তায় নামছে। আজ যে কোন পাঁচ মিনিটের রাস্তা পাড়ি দিতেও লেগে যাচ্ছে ঘন্টার পর ঘন্টা। রাজ পথ থেকে প্রতিটি মহল্লায় লেগে থাকছে অসহনীয় জ্যাম।
>শুধু সচিবালয়েই সারাদেশ থেকে প্রতিদিন এক লক্ষ দশ হাজার মানুষ ডেকে আনা হয় দর্শনার্থী হিসাবে।
> প্রতিদিন ঢাকার সব কয়টি প্রবেশ মুখদিয়ে ঢাকায় ঢুকছে দশ লক্ষেরও বেশি মানুষ যার ঐ দিন বা দু একদিন পর ফিরে যাচ্ছে কারন দেশের যে কোন কাজেই মানুষকে ঢাকায় ছুটতে হয়। সরকারী অফিস আদালত সব কিছুর চুড়ান্ত ও অবশ্য গন্তব্য ঢাকা। সামান্য কাজেও দেশের প্রত্যান্ত এলাকা থেকেও মানুষকে বাধ্য হয়েই ঢাকায় আসতে হয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ বিকাল ৩:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



