অর্থমন্ত্রী বলেন একটি প্রাইভেটকারে ৪/৫ জনের কম যাত্রী হলে তা রাস্তায় চলতে দেয়া হবে না। গত ২২ ডিসেম্বর সংবাদে (sangbad.com.bd) খবরটি ছিল। অনলাইন আর্কাইভ দ্রষ্টব্য।
ঢাকায় ট্রাফিক জ্যাম কমাতে নতুন আইন করা হচ্ছে, খবরটা দেখে ভালো লাগলো। ভালো আইন অবশ্যই করা উচিত। সেই সাথে আমাদের সাজেশন থাকবে প্রাইভেটকারের ডেফিনেশন হওয়া উচিত "প্রাইভেট কার বলতে সরকারী বেসরকারী সেসব গাড়িগুলো কে বুঝায় যেগুলো যেকেউ বা পাবলিক ব্যবহার করতে পারে না। সাধারনত এসমস্ত গাড়িগুলোর জন্য নির্দিষ্ট ব্যবহারকারী থাকে। এই গাড়িগুলো সাধারনত আকারে ছোট হয়। এই গাড়িগুলোর মধ্যে সিডান, জিপ, ওয়াগন, পিকআপ উল্লেখযোগ্য।
তবে সর্বোচ্চ ৫ জনের জায়গায় ৪ জন করা যেতে পারে। রাস্তায় জনগন জ্যামে কুরুক্ষেত্র আর এর মাঝে একা একজন বিশাল পাজেরোতে বসে এসি ছেড়ে খবরের কাগজ পড়ছে এই দৃশ্যটা পিড়াদায়ক । খবরের কাগজ যদি পড়তেই হয় তবে একএকা কেন মাঝখানে একজন ধরবে আর তিন জনে এক পেপার পড়বে, কৃচ্ছতা সাধন!
যাক এতদিনে গরীব সাধারনের গাড়ি চড়ার ইচ্ছেটা পূরন হতে যাচ্ছে।
ঢাকার প্রাইভেট কারের উপর জরীপ
১. সাধারনতঃ রাস্তায় যেকোন সময় যেকোন লোকেশনে তাকালে দেখাযাবে রাস্তার পাঁচ ভাগের কমপক্ষে তিন ভাগ রাস্তা প্রাইভেটকার দখল করে রেখেছে।
২. একটি প্রাইভেট কার ১০০ থেকে ২৫০ বর্গফুট জায়গা দখল করে যা মাঝারি সাইজের একটি বাসের সমান।
৩. একই পরিমান জায়গা ব্যাবহার করে একটি বাস ২৫ থেকে ৩০ জন মানুষ বহন করে। সুতরাং একটি বাসের পরিবর্তে ১৫ টি প্রাইভেট কার। যে কোন জায়গায় এরকম ১৫ টি প্রাইভেটকার সরিয়ে সেখানে একটি বাস বসিয়ে দেখুন একটা ফুটবল খেলার মাঠ খালি পরে থাকবে।
এত প্রাইভেট কার কি ভাবে এলো ?
আজকাল এমনও কিছু রিপোর্ট দেখা যাচ্ছে "ঢাকা শহরে যে পরিমাণ প্রাইভেটকার আছে, অন্য সব গাড়ি রিক্সা তুলে দিয়েও যদি শুধু সবগুলি প্রাইভেটকার এক সাথে ঢাকার রাস্তায় নামানো হয় তাহলে প্রতিটি গাড়ি একটির সাথে অন্যটি লেগে থাকবে এবং সামান্য নড়াচরাও করতে পারবে না।"
১. এই গাড়ীগুলির বড় একটা অংশ গত সাত আট বছরে যোগ হয়েছে। এবং এরও বড় একটি অংশ কেনা হয়েছে ২০০৭ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে।
৩. ঢাকার রাস্তার প্রাইভেটকার এর মধ্যে ১৫ ভাগ গাড়ি সরকরী যার তেল ও ড্রাইভারের খরচ সরকার বহন করে।
৪. এই গাড়িগুলির ৩০ ভাগের মালিক সামরিক বেসামরিক আমলাগণ।
৫. প্রইভেটকারের মালিকগনের বড় অংশটিই নানা ভাবে দুর্নিতীর সাথে জড়িত।
৬. সরকারী গাড়িগুলো তাদের মোবিলাইজেশনের উল্লেখযোগ্য সময় বেসরকারী কাজে রাস্তায় চলাচল করে।
ঢাকার রা্স্তার প্রাইভেটকার সম্পর্কে সহব্লগারদের কিছু মন্তব্য নিম্নরুপ
দেশজ বলেছেন: চুরি-দূর্নীতি- ছিনতাই- রাহাজানি আর ছল-চাতুরীর পেশা ছাড়া, গরীব মানুষকে না ঠকিয়ে প্রাইভেট কার হাঁকানো সম্ভব না।
আর গাড়িওয়ালারা আরো কতভাবে শোষণের সঙ্গে জড়িত এর জন্য জরিপ লাগে না। মাতঝিলের মতো জায়গায় সারাদিন ২০ টাকা দিয়া প্রাইভেট গাড়ি পার্কিং করে রাখে। একটা গাড়ি পার্ক করতে ১৬০ বর্গফুট জায়গা লাগে। বিশ্বাস না হলে মেপে দেখেন। এদের জায়গা দেওয়ার জন্য হকারদের উচ্ছেদ করা হয়। যেখানে ১০ বর্গফুট জায়গা পেলে একজন হকার তার পরিবার নিয়ে চলতে পারে। এরকম আরো অসংখ্য উদাহরণ আছে খুঁজলে সবাই উত্তর পাবেন।
ক্লান্ত দুচোখ বলেছেন: কার কাছে যেনো শুনেছিলাম, সরকার প্রাইভেটকারের সিএনজি বন্ধ করে প্যাট্রলে চলতে বাধ্য করতেছে। শুধু সরকারী যানবাহনে সিএনজি ব্যাবহার চলবে। এ ব্যাপারে কিছু জানেন?
এটা হলে, ঢাকার যানজট ৫০%(আমার ধারনা) কমে যাবে। ৫০টাকার গ্যাস পুরায়া সারাদিন টইটই করে ঘুড়ে বেড়াবা? হেই দিন শ্যাষ!!!
মেহেদী_বিএনসিসি বলেছেন: আমারমতেও অন্তত প্রাইভেটকার আর হাইওয়ে বাসগুলার সিএনজি নিষিদ্ধ করা উচিৎ। সব হাইওয়ের বাস মালিকগুলাই চামে তাগো গাড়িগুলা সিএনজি কইরা ফালাইছে.......মাগার কেউতো ভাড়া ১টাকাও কমাইলোনা....। কি লাভ তাইলে অগো এ সুবিধা দেওয়া.......। আর গ্যাস বন্ধ করছে মানে পেট্রোলপাম্পের কর্মচারীগো টু পাইস কামানোর ব্যাবস্থা করা....। মনে হয়না এ আইন বেশিদিন চলবে.......।
এই হচ্ছে ঢাকার ট্রাফিক জ্যাম ও প্রাইভেটকারের অবদানের গল্প। অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্য এ্যাক্সটিম একটি সমাধান আইডেন্টিফাই করে সচেতন সমাজকে সংশ্লিষ্ট সকলকে স্থূল খোচা দিয়ে বলেদিয়েছেন যদি আমরা ঢাকামূখিতাকে ও নগর ব্যবস্থাপনাকে এখনও ঠিক পদক্ষেপ নিতে না পারি তবে শিঘ্রই একএকা গাড়িতে না চড়ে সামনে একজন পেছনে দুইজন হায়ার করে তারপর রাস্তায় গাড়ি বের করার আইন করতে হবে।
বসার বদলে মাঝখানে একজন ধরবে আর তিন জনে এক পেপার পড়বে গ
মোটরসাইকেলের গুনাগুন বলে শেষ করা যাবে না যদিও এটা আমরা কখনও বুঝিনি। উল্টো বাইক মানেই কিছু ঢুকিয়ে দেয়া প্রিজুডিসড অর্থ মাথায় চলে আসে। অথচ মানুষের মোবিলাইজেশনের জন্য বাইক সবচেয়ে ভালো বন্ধু হিসেবে গাড়িরও আগে থেকেই ছিল এবং আছে।
১.বাইক আজকাল গড়ে এক লিটার ফুয়েলে ৫০ কিলোমিটার মোবিলাইজ হয়, যা পরিবেশ বান্ধবও, যেখানে গাড়ি অর্থাৎ প্রাইভেট কার জীপ ১০ থেকে ২ কিলোমিটার। যেখানে ফুয়েল সবটুকুই ডলার দিয়ে কিনে ইমপোর্ট করতে হয়।
২.বাইকের দাম গড়ে গাড়ির দামের চেয়ে কম পক্ষে বিশ থেকে ত্রিশগুন কম তুলনা মুলক।
৩. বাইকে একজন/দুইজন আরহীর জন্য সর্বোনিম্ন রাস্তা ব্যবহার করে। ঢাকার রাস্তায় প্রাইভেট গাড়ির বদলে আরও দশগুন বাইক এক সাথে নামালেও পুরো রাস্তা খালিই পরে থাকবে।
৪. বাইক দিয়ে দেশের প্রায় ৯০% লোকেশনে পৌছানো যায়, যেখানে গাড়ির ২০% এর চেয়ে কম লোকেশনে এ্যাক্সেস আছে, রাস্তা না থাকার কারনে।
৫. প্রতি মাসে যে পরিমান মোবিলাইজেশনের জন্য সরকারকে ১ কোটি লিটার পেট্রোল ফরেন কারেন্সি দিয়ে আমদানী করতে হয় সে পরিমান মোবিলাইজেশন মোটরসাইকেলে করলে ৫ লাখ লিটার ফুয়েল ইমপোর্ট করতে হবে। এই বাড়তি ফুয়েল ইমপোর্ট করতে সরকারের যে পরিমান ফরেন কারেন্সি খরচ হয় মোটর সাইকেল আমদানীর উপর ১২৫ % ট্যাক্স ধরে তারচেয়ে কয়েক হাজার গুন কম রাজস্ব আদায় হয়।
আর ঢাকার ট্রাফিক জ্যামের ইন ফ্যাক্ট মোটর সাইকেলের চেয়ে ভালো আর কোন মোটর ভেইকেলের মাধ্যমে
তবে কথা আছে বাংলাদেশে আপনি ১৫০ সিসির উপর কোন বাইক রেজিষ্ট্রেশন পাবেন না। অর্থাৎ রাস্তায় পেলেই অবৈধ্য। কারন ট্রাফিক সার্জেন্টরা সর্বোচ্চ ১৫০ সিসি বাইক ব্যবহার করে। ট্রাফিক সার্জেন্টরা তাদের ঐ বাইক দিয়ে প্রয়োজনের সময় (সন্ত্রাসী ছিন্তাই ইত্যাদী) এ সমস্ত বাইক ধরতে পারবে না, তাই। পলিসিটা যতটা ফানি ইনটেনশন ততটা ফানি নয়। যাহউক কাউয়াসাকি নিনজা ২৫০ আর আপনার জন্য নয়। ট্যাক্স ছারা এর দাম এক লাখ পঞ্চাশ হাজার হবে যদিও শুধু চার চাকা সহ একটা গাড়ী দশ লাখ লাগবে। তার উপর রাস্তায় প্রাইভেট কারের সংখ্যা ও সিএনজিতে চাপ তো আছেই যেখানে এক লিটার ফুয়েলে বাইক ৫০ পঞ্চশ কিলোমিটার রান করে আর গাড়ি চার পাঁচ ছয়, উইথইন এক ডিজিট।
এমপি'রা ট্যাক্স ফ্রী ৮,০০০ (আট হাজার) সিসি আর গরীবের গাড়ি ১৫০ সিসি (সর্বোচ্চ) আবার ট্যাক্স সহ এটা সত্যিই অন্যায়।
ইন ফ্যাক্ট মোটর সাইকেলের চেয়ে ভালো আর কোন মোটর ভেইকেল নেই।
এর গুনগুলি আমাদের জ্ঞানের বাইরে থেকে গেলেও সবসময়ই মোবিলাইজেশনের জন্য সবচেয়ে ভালো বন্ধু ও বাহন হিসেবে গাড়িরও আগে থেকেই বাইকই ছিল এবং আছে। আমরা একে এ্যাপরিসিয়েট করি আর না করি ?
এর একটা গুন এ রকম, বাইক গড়ে এক লিটার ফুয়েলে ৫০ কিলোমিটার চলে, আজকাল ৭০ কিলোও চলছে কোন কোন বাইক। যেখানে গাড়ি গড়ে ৫ কিলো, কম সিসি হলেও দুই সংখ্যার ফিগার হতে চায় না অর্থাৎ বাইকের তুলনায় দশ ভাগ কম চলে।এই একটা ফিচারে থেকেই আরও ৫০ টা সাব-গুন বের করা যাবে, পরিবেশ সহ।
আরেকটি গুন এরকম, বাইকের দাম গড়ে গাড়ির দামের চেয়ে ত্রিশগুন কম। এর উপকারিতা বলার আর সুযোগ না।
চলুন এবার বাইক সম্পর্কে আমাদের দুটো পলিসি দেখি । এক, বলুনতো বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) আপনাকে সর্বোচ্চ কত সিসি'র বাইক অনুমোদন দেবে ? ১৫০ সিসি !!! এর উপর কোন বাইকের সিসি হলে রেজস্ট্রেশন দেওয়া হবে না। কেন এ আইনটা ? প্রাইভেট কার কেনায় উৎসাহ জোগাতে। (গাড়ির রিপ্লেস বাইক না, এটা সত্য হলেও বর্তমান ঢাকার ২% মানুষের প্রাইভেট কার রাস্তার ৭৫% রাস্তা দখল করে বাকি ২৫% রাস্তা ৯৮% মানুষের জন্য ছেরে দিয়ে যে জট তৈরী করেছে তার পেছনে এমনই অসংখ্য পলিসিই দায়ী)
মোটর ভেইকেলের সিসিটাই হলো আসল বিষয়। সিসির উপর নির্ভর করে এর ১. পাওয়ার, ২. মাইলেজ (কিলোমিটার পার লিটার), ৩. গাড়ির সাইজ, ৪. মূল্য এবং ৫. আরাম সহ সকল ফিচার। দেখছেন না সংসদ সদস্যরা ৭০০০ - ৮০০০ (সাত থেকে আট হাজার) সিসির গাড়ি আনতে চাচ্ছে ?
এখানে দৃষ্টি আকর্ষন যোগ্য একটা পয়েন্ট না বললেই নয়। মোটর সাইকেলে সবসময়ে আমাদের ১৫০ সিসির লিমিটেশন ছিল না। আনুমানিক ২০০০ সালের দিকেও কোন লিমিটেশনই ছিল না। ৩০০, ৪০০ সিসির আর ১৮৫ চলেছে অহরহ।
দ্বিতীয় আইনটি হলো অর্থ মন্ত্রনালয়ের। আপনি যদি এক লক্ষ আশি হাজার টাকা দিয়ে একটি বাইক কেনেন তাহলে বুঝবেন বাইকটির দাম এক লক্ষ টাকা বাকি আশি হাজার যাবে অর্থ মন্ত্রনালয়ে নানা টেক্স হিসাবে।
তাই আবার বলছিঃ এমপি'রা ট্যাক্স ফ্রী ৮,০০০ (আট হাজার) সিসি আর গরীবের গাড়ী ১৫০ সিসি (সর্বোচ্চ) আবার ট্যাক্স সহ এটা সত্যিই অন্যায়। ঠিক আছে এমপিদের বাইক কেনার অনুমতি দেয়া হউক যত সিসি খুশি, ট্যাক্স ফ্রী। এটা চালিয়ে আপনি আপনার যেকোন প্রান্তের ভোটারের বাড়ি পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তা শুকনা মৌসূমে অন্তত নিশ্চত পাবেন। অথবা ..
আমি বাইক কেনার টাকা জমাচ্ছি এবং কেনার সময় ২৫০ সিসি সেই সাথে লাইনের বাইক'ই, ট্যাক্স ছারা, কিনবো। দোয়া করবেন।
হোচিমিং সিটি মোটরবাইকস
মরনিং ট্রাফিক ইন হেনয়
মোটরবাইক ট্রাফিক
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


