somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শেষ পর্যন্ত বেঁচে রইলেন দ্বীন ইসলাম - ফেইস বুকে একজন বলছেন "গাজা খোর একটা মরছে, আর একটাও মরা দরকার ছিল।"

১৬ ই এপ্রিল, ২০১১ সকাল ৯:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


চট্টগ্রাম বন্দরে রাতের মাল ওঠানো-নামানোর কাজ করছিলেন দ্বীন ইসলাম ৩০ ও আলমগীর। কাজের ফাঁকে একটু জিরিয়ে নিতে একটি খালি কনটেইনারে শুয়ে পড়েছিলেন তাঁরা। কিছুক্ষণের মধ্যে চোখে নেমে আসে রাজ্যের ঘুম। সেই ঘুমই শেষ পর্যন্ত কালঘুম হয়ে দাঁড়ায়। কিছুক্ষণ পর জেগে উঠে নিকষ অন্ধকার দেখে বুঝতে পারেন, আটকা পড়েছেন তাঁরা। নয় দিন পর সিঙ্গাপুরের একটি বন্দরে যখন কনটেইনারটি খোলা হলো, তখন তাঁর ভেতরে পাওয়া গেল কোনো রকমে বেঁচে থাকা দ্বীন ইসলামকে। পাশে পড়ে ছিল আলমগীরের গলিত লাশ। গত সোমবার সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।

সিঙ্গাপুর পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেন, দ্বীন ইসলামকে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি এখন শঙ্কামুক্ত। দ্বীন ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি ও আলমগীর চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিকের কাজ করতেন। গত ১ এপ্রিল রাতের পালায় কনটেইনারের মধ্যে তাঁরা ঘুমিয়ে পড়েন। কনটেইনারটি যে জাহাজে তোলা হবে, তা তাঁরা বুঝতে পারেননি। বাঁচার জন্য তাঁরা কনটেইনারের গায়ে ধাক্কা ও লাথি মেরে বাইরের লোকজনের দৃষ্টি আকর্ষণের আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু কেউ শব্দ শুনতে পাননি।
সিঙ্গাপুরের মিডিয়া বলেছে, গত রোববার পাসির পানজাং টার্মিনালে একজন ট্রেইলার (কনটেইনারবাহী ট্রাক) চালক কনটেইনারের ভেতর থেকে এর গায়ে আঘাতের শব্দ শুনতে পান। ভেতরে কিছু আছে সন্দেহ করে তিনি বন্দরকর্মীদের খবর দেন। তাঁরা সেখানে পৌঁছে কনটেইনারের দরজা খোলেন। উৎকট গন্ধে বন্দরকর্মীরা প্রথমে সরে যান। তাঁদের হতবাক করে পচা লাশের পাশ থেকে হামাগুড়ি দিয়ে বের হন দ্বীন ইসলাম। এ সময় তাঁর গায়ে কোনো কাপড় ছিল না। টানা নয় দিন খাবার ও পানি না পেয়ে তাঁর শরীর কঙ্কালসার হয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

সিঙ্গাপুরের আলেকজান্দ্রা হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে দ্বীন ইসলাম বলেন, তাঁদের সঙ্গে এক প্যাকেট বিড়ি ছাড়া আর কিছুই ছিল না। আটকা পড়ার দু-তিন দিন পরই না খেয়ে মারা যান আলমগীর। তিনি বলেন, ‘প্রচণ্ড ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কী করব কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। আল্লাহর কাছে শুধু দোয়া করেছি, যেন একটা অলৌকিক কিছু ঘটে। যাতে প্রাণে বেঁচে যেতে পারি, শুধু সেই দোয়া করেছি।’

দ্য নিউ পেপার বলেছে, ওই কনটেইনারটিকে আরেকটি জাহাজে তুলে ভিয়েতনামে পাঠানোর কথা ছিল। সেই অবস্থায় উদ্ধার হন দ্বীন ইসলাম। তবে ওই দুই শ্রমিক বাংলাদেশের কোন এলাকার বাসিন্দা, সে ব্যাপারে প্রতিবেদনে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। ভারতের এনডিটিভি বলছে কাজের জন্য অবৈধ্য ভাবে বিদেশ যাওয়ার জন্য কন্টেইনারে দুই শ্রমিক ঘুমিয়ে পরে। সূত্র

Singapore police said they do not believe that foul play was involved. However, some people think the men could have got into the container with an intent to seek employment abroad.

Earlier, fortune-seekers took risky journeys from Cox's Bazar in southeastern Bangladesh to Malaysia, and many have died on the way, The Daily Star of Dhaka said.

ফেইস বুকে একজন বলছেন "গাজা খোর একটা মরছে, আর একটাও মরা দরকার ছিল।"

তাকে কুত্তার বাচ্চা বলায় সোশ্যাল বিহেইভআওয়ার ভায়োলেট হওয়ায় ডিলিট করা হয়েছে। আর কমেন্ট করা যাচ্ছে না। কিন্তু তাকে আবারও বলতে চাইঃ মিঃ জিয়াউদ্দিন আহাম্মেদ। আহাম্মকের মত কথা বলবেন না। আপনি দেশের গরীব মানুষকে গালি দিচ্ছেন। ভাবুন ! কই ? পৃথিবীর আরকোন দেশে তো কন্টেইনারের ভেতর নাগরীক রেখেতো ডালা বন্ধ করে দেয় না ! ঘটনাটা একটা নিছক দুর্ঘটনা না ! ডাক্তার যেমন রোগির পেটে গজ, সিজার রেখে সেলাই করে দিলে তা সিস্টেমের দোষ বলতে হবে তেমনি কন্টেইনারের ভেতর মানুষ রেখে ডালা বন্ধ করে দিলেও সিস্টেমের দোষ বলতে হবে। ঐদিকে ভারতের এনডিটিভি বলছে কাজের জন্য অবৈধ্য ভাবে বিদেশ যাওয়ার উদ্দেশ্যে দুই বাংলাদেশি শ্রমিক কন্টেইনারে ঘুমিয়ে পরে, ইতিহাসে বাংলাদেশী নাগরীকদের এরকম কিছু এ্যাটেম্পটও কোট করেছে পত্রিকাটি। আর আপনি বলছেন "গাজা খোর একটা মরছে, আর একটাও মরা দরকার ছিল।" আপনাকে কি মানব সন্তান বলা ঠিক হবে ?

এসব কিছুর জন্য সিস্টেমই দায়ী।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:১৮
১৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×