চট্টগ্রাম বন্দরে রাতের মাল ওঠানো-নামানোর কাজ করছিলেন দ্বীন ইসলাম ৩০ ও আলমগীর। কাজের ফাঁকে একটু জিরিয়ে নিতে একটি খালি কনটেইনারে শুয়ে পড়েছিলেন তাঁরা। কিছুক্ষণের মধ্যে চোখে নেমে আসে রাজ্যের ঘুম। সেই ঘুমই শেষ পর্যন্ত কালঘুম হয়ে দাঁড়ায়। কিছুক্ষণ পর জেগে উঠে নিকষ অন্ধকার দেখে বুঝতে পারেন, আটকা পড়েছেন তাঁরা। নয় দিন পর সিঙ্গাপুরের একটি বন্দরে যখন কনটেইনারটি খোলা হলো, তখন তাঁর ভেতরে পাওয়া গেল কোনো রকমে বেঁচে থাকা দ্বীন ইসলামকে। পাশে পড়ে ছিল আলমগীরের গলিত লাশ। গত সোমবার সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।
সিঙ্গাপুর পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেন, দ্বীন ইসলামকে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি এখন শঙ্কামুক্ত। দ্বীন ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি ও আলমগীর চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিকের কাজ করতেন। গত ১ এপ্রিল রাতের পালায় কনটেইনারের মধ্যে তাঁরা ঘুমিয়ে পড়েন। কনটেইনারটি যে জাহাজে তোলা হবে, তা তাঁরা বুঝতে পারেননি। বাঁচার জন্য তাঁরা কনটেইনারের গায়ে ধাক্কা ও লাথি মেরে বাইরের লোকজনের দৃষ্টি আকর্ষণের আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু কেউ শব্দ শুনতে পাননি।
সিঙ্গাপুরের মিডিয়া বলেছে, গত রোববার পাসির পানজাং টার্মিনালে একজন ট্রেইলার (কনটেইনারবাহী ট্রাক) চালক কনটেইনারের ভেতর থেকে এর গায়ে আঘাতের শব্দ শুনতে পান। ভেতরে কিছু আছে সন্দেহ করে তিনি বন্দরকর্মীদের খবর দেন। তাঁরা সেখানে পৌঁছে কনটেইনারের দরজা খোলেন। উৎকট গন্ধে বন্দরকর্মীরা প্রথমে সরে যান। তাঁদের হতবাক করে পচা লাশের পাশ থেকে হামাগুড়ি দিয়ে বের হন দ্বীন ইসলাম। এ সময় তাঁর গায়ে কোনো কাপড় ছিল না। টানা নয় দিন খাবার ও পানি না পেয়ে তাঁর শরীর কঙ্কালসার হয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
সিঙ্গাপুরের আলেকজান্দ্রা হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে দ্বীন ইসলাম বলেন, তাঁদের সঙ্গে এক প্যাকেট বিড়ি ছাড়া আর কিছুই ছিল না। আটকা পড়ার দু-তিন দিন পরই না খেয়ে মারা যান আলমগীর। তিনি বলেন, ‘প্রচণ্ড ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কী করব কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। আল্লাহর কাছে শুধু দোয়া করেছি, যেন একটা অলৌকিক কিছু ঘটে। যাতে প্রাণে বেঁচে যেতে পারি, শুধু সেই দোয়া করেছি।’
দ্য নিউ পেপার বলেছে, ওই কনটেইনারটিকে আরেকটি জাহাজে তুলে ভিয়েতনামে পাঠানোর কথা ছিল। সেই অবস্থায় উদ্ধার হন দ্বীন ইসলাম। তবে ওই দুই শ্রমিক বাংলাদেশের কোন এলাকার বাসিন্দা, সে ব্যাপারে প্রতিবেদনে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। ভারতের এনডিটিভি বলছে কাজের জন্য অবৈধ্য ভাবে বিদেশ যাওয়ার জন্য কন্টেইনারে দুই শ্রমিক ঘুমিয়ে পরে। সূত্র
Singapore police said they do not believe that foul play was involved. However, some people think the men could have got into the container with an intent to seek employment abroad.
Earlier, fortune-seekers took risky journeys from Cox's Bazar in southeastern Bangladesh to Malaysia, and many have died on the way, The Daily Star of Dhaka said.
ফেইস বুকে একজন বলছেন "গাজা খোর একটা মরছে, আর একটাও মরা দরকার ছিল।"
তাকে কুত্তার বাচ্চা বলায় সোশ্যাল বিহেইভআওয়ার ভায়োলেট হওয়ায় ডিলিট করা হয়েছে। আর কমেন্ট করা যাচ্ছে না। কিন্তু তাকে আবারও বলতে চাইঃ মিঃ জিয়াউদ্দিন আহাম্মেদ। আহাম্মকের মত কথা বলবেন না। আপনি দেশের গরীব মানুষকে গালি দিচ্ছেন। ভাবুন ! কই ? পৃথিবীর আরকোন দেশে তো কন্টেইনারের ভেতর নাগরীক রেখেতো ডালা বন্ধ করে দেয় না ! ঘটনাটা একটা নিছক দুর্ঘটনা না ! ডাক্তার যেমন রোগির পেটে গজ, সিজার রেখে সেলাই করে দিলে তা সিস্টেমের দোষ বলতে হবে তেমনি কন্টেইনারের ভেতর মানুষ রেখে ডালা বন্ধ করে দিলেও সিস্টেমের দোষ বলতে হবে। ঐদিকে ভারতের এনডিটিভি বলছে কাজের জন্য অবৈধ্য ভাবে বিদেশ যাওয়ার উদ্দেশ্যে দুই বাংলাদেশি শ্রমিক কন্টেইনারে ঘুমিয়ে পরে, ইতিহাসে বাংলাদেশী নাগরীকদের এরকম কিছু এ্যাটেম্পটও কোট করেছে পত্রিকাটি। আর আপনি বলছেন "গাজা খোর একটা মরছে, আর একটাও মরা দরকার ছিল।" আপনাকে কি মানব সন্তান বলা ঠিক হবে ?
এসব কিছুর জন্য সিস্টেমই দায়ী।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


