বলেন তো গত তিন বছরে দেশে তথ্যপ্রযুক্তির ইনফ্রাস্ট্রাকচারের এক ইঞ্চিও ডেভলপ হয়েছে কি ? অথচ গত তিন বছর ধরে প্রতিদিনের মত আজও দেখলাম BCS ICT ওয়াল্ড 2011 মেলা উদ্ভোধন কলে অর্থ মন্ত্রী, ICT মন্ত্রী ও মোস্তফা জব্বার আমাদের অনেক ডিজিটাল কথা শুনাইলেন।বরাবরের মত সেখানে ডিজিটাল মন্ত্রী রাজি উদ্দিন রাজু ছিলেন না।
মোস্তফা জব্বার বলেনঃ রাজিউদ্দিন রাজু এখন বিপদে আছেন-আমাদের এখানে থাকবেন কেমন করে? তাছাড়া তিনি এসবে থাকেন না। তবে ৩ বছরে আইসিটির এক ইঞ্চিও অবকাঠামো তৈরী হয়নি এটি সঠিক নয়। এই জায়গাটি সকল তথ্য দেবার জন্য যথেষ্ঠ নয় বলে সেসবের উল্লেখ করতে পারিনি। বরাবরই আপনাকে নেতিবাচকই দেখে আসছি। একটু ইতিবাচক হোন। নইলে সব কিছু বন্ধ করে দিয়ে এক ইঞ্চি অবকাঠামোর জন্য কেবল বসে থাকতে হবে।
লেখক বলেনঃ উট পাখির আচরনের দিন শেষ।চলুন আলোচনা করি।সেমিনার ছাড়াও আলোচনাকরা যায়।
আমাদের বলুন ? গত তিন বছরে বাংলাদেশে কোথায় কিভাবে তথ্যপ্রযুক্তির প্রথম উপাদান ব্যান্ডউইথ ট্রান্সপোর্টেশন সহজ ভাষায় তথ্যপ্রযুক্তির রাস্তার এক ফোটাও ডেভলপমেন্ট হয়েছে ? কোন মাটির নিচে, কোন আকাশে আর কোন সমুদ্রে -এছারা আর কোন রাস্তা থাকলে তাও বলিয়েন ? নিচের একটি ডাটা দিয়েই দেখুন কোথায় আছি আমরা তথ্যপ্রযুক্তিতে ও কোথায় বাকি দুনিয়া ? "৫ কোটি জনগণের দেশ দক্ষিন কোরিয়ায় এই মুহুর্তে মোট ব্যান্ডউইথের পরিমান ১১টি ক্যাবলে ২৫ টেরাবিট/সেঃ বা ২৫০০০ গিগাবিট/সেঃ আর আমাদের ১৫ কোটি জনগণের বাংলাদেশে ১টি ক্যবলে মোট ব্যন্ডউইথ ৪৫ গিগাবিট/সেঃ যার মধ্যে মাত্র ১৫ গিগাবিট/সেঃ জনগন ব্যবহার করতে পারছে।অবশ্য এই পরিমান ব্যান্ডউইথ ২০০৮ সালের জুন মাস থেকেই ছিল এবং এই সাবমেরিন ক্যাবলে ২০০৯ এর ডিসেম্বরে তৃতীয় আপগ্রেডেশনের মাধ্যমে ১৪৬গিগাবিট/সেঃ ব্যান্ডউইথ হওয়ার কথা ছিল যা আজও হয়নি।
আজ পৃথিবীর প্রতিটি দেশ যেখানে তাদের ম্যাস পিপল উনিভার্সল ব্রডব্যান্ড কানেক্টিভিটির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সলিউশন হিসাবে মোবাইল ব্রডব্যান্ডকে বেছে নিয়ে সেই ২০০১ সাল থেকে শুরু করে ২০০৯ সালে সর্বশেষ দেশ হিসাবে ভারতও তার মোবাইল নেটওয়ার্ক পরবর্তী র্জেনারেশনে আপগ্রেড করে ফেলেছে সেখানে গত তিন বছরে আমাদের দেশে কোথাও একটিও নতুন টাওয়ার বসেছে কি ? জেনারেশন আপগ্রেডেশনের কোন চেতনার প্রশ্নই ওঠে না।যা ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষনার তিন মাসের মধ্যে হওয়া উচিত ছিল।
ওয়াইম্যাক্সের কথা বললে বলবো ভুল নীতিমালার রোল আউট করা এই তাড় বিহীন ব্রডব্যান্ড আজ চার বছর পরেও ঢাকাতেই শেষ করতে পারেনি। এই টেক্নোলজি সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে আমি দুঃস্বপ্নেও দেখি না।
দক্ষিন কোরিয়া আশির দশকের শেষের দিকে এবং বাকি প্রায় সব দেশেই ৯০ এর দশকের এর শেষে ও ২০০০ এর শুরুই মাটির নিচে তাদের ডমেস্টিক/ন্যাশনাল অপটিক ক্যাবল বেকবোনের কাজ প্রথম পর্যায় শেষ করলেও আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি গত তিন বছরে বাংলাদেশের মাটির নিচে সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটার ক্যবলও স্থাপন করা হয়নি।এই তাড় সুনাগঞ্জের শাল্লায় কি ভাবে যাবে আমার মাথায় ঢোকে না।আমার জিবদ্দশায় যাবে তো ?
তথ্যপ্রযুক্তির দ্বিতীয় অপরিহার্য অবকাঠামো ইকমার্স বিশ্বের কোন দেশে নেই বলুনতো ? অথচ বাংলাদেশে ২০১১ সালেও কোন লক্ষ্যনও নেই।
এই পর্যায় হয়তো বলবেন পাঁচ হাজার ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র হয়েছে, জেলা তথ্য বাতায়ন হয়ছে, গত তিন বছরে দেশে রেকর্ড পরিমান ডিজিটাল ডিভাইস বিক্রি হয়েছে ইত্যাদী।এগুলোর উত্তরে বলবো -পানি ছাড়া পুকুরে মাছ ছাড়ছেন আবার মাছ ছাড়া পুকুরে কোটি টাকার ফিসফিড দিচ্ছেন অথচ বলছেন আমরা মাছ চাষ করছি। কি করছি ???
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে নভেম্বর, ২০১১ রাত ১:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




