somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঢাবি'র যে ভাই'ই চুরি করে থাকেন, ল্যাপটপ'টা দিয়া দেন ! - একটি ডিজিটাল বাংলাদেশ অনুরোধ।

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৯:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শুধু ল্যাপটপটি ফেরত চান জাপানি অধ্যাপক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বস্ব হারানো সেই জাপানি অধ্যাপক তাঁর ল্যাপটপ কিংবা ল্যাপটপের হার্ডডিস্কটি অন্তত ফেরত চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, ওই ল্যাপটপে তাঁর একাডেমিক অনেক তথ্য আছে। সেটি ফেরত দিলে তাঁর অনেক উপকার হবে।
জাপানের হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাসাহিকো তোয়াগা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বঙ্গবিদ্যা সম্মেলনে যোগ দিতে বাংলাদেশে এসেছিলেন। ১৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) ক্যাফেটেরিয়ায় দুপুরের খাওয়ার সময় কে বা কারা তাঁর ব্যাগটি চুরি করে। ব্যাগে দুই হাজার ডলার, এক লাখ ইয়েন, বাংলাদেশি ৫০ হাজার টাকা, একটি ল্যাপটপ, একটি ডিজিটাল ক্যামেরা, মডেম, কিছু বই ও মূল্যবান কাগজপত্র এবং তাঁর পাসপোর্ট ছিল। তবে মাসাহিকো কেবল তাঁর ল্যাপটপে থাকা তথ্য ফেরত চেয়েছেন।
মাসাহিকো তোয়াগা গতকাল প্রথম আলোয় পাঠানো এক চিঠিতে আকুতি জানিয়ে বলেছেন, ওই ল্যাপটপে যেসব তথ্য আছে সেটি অন্য কারও কোনো কাজে আসবে না। কিন্তু একাডেমিক কারণে ল্যাপটপে থাকা সব তথ্য তাঁর দরকার। কাজেই যাঁরা নিয়েছেন বা যাঁদের কাছে এখন ল্যাপটপটি আছে, তাঁরা কেউ যদি প্রথম আলোর কার্যালয়ে এসে ল্যাপটপটি বা এর হার্ডডিস্কটি ফেরত দিয়ে যান, তাহলে তিনি খুব উপকৃত হবেন। আর যিনি ফেরত দেবেন তিনি প্রয়োজনে পরিচয় গোপন রেখে এটি ফেরত দিয়ে যেতে পারেন। তিনি বলেছেন, যাঁরা ল্যাপটপ নিয়েছেন, তাঁদের কোনো ভোগান্তি তিনি চান না। তিনি শুধু তথ্যগুলো ফেরত চান।
মাসাহিকো তোয়াগা বাংলা ভাষা নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি স্বচ্ছন্দে বাংলায় কথা বলেন। বাংলা ভাষার টানেই তিনি বঙ্গবিদ্যা সম্মেলনে অংশ নিতে এসেছিলেন। সূত্র

অনুরোধঃ একথা বলবো না অবশ্য এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ইজ্জতের প্রশ্ন জড়িত। কারন ঢাবির ইজ্জত সম্পর্কে জাতি আজ সম্মক অবগত। হলের প্রতি রুমে রুমে আর ক্যাম্পাসের প্রতি ইটে ইটে লেখার মত ইতিহাস গত বিশ বছেরেই সংগ্রহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আর স্বাধীনতার চল্লিশ বছরে সেই অর্জন অনেক বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ছিন্তাই, ডাকাতি, মুক্তিপন, সন্ত্রাসী, টেন্ডারবাজী থেকে শুরু করে খুন, ধর্ষন কি নেই সেই সংগ্রহে !

তবে আজ ২০১১ সালে ঢাবিতে এই ল্যাপটপ চুরি বিষয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ন, খুবই সিরিয়াস -তা ঢাবি ভিসিও বুঝবে না, শুধু ধরে নেখ খুবই সিরিয়াস। আর ল্যাপটপের অভিশাপ লাগলে কিন্তু ডিজিটাল বাংলাদেশ বাঁচবে না। এর তাৎপর্য বোঝার সামান্য যোগ্যতাও আজ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর নেই। কেননা তাদের ইউনিভার্সিটি সর্বসাকুল্যে বর্তমানে মাত্র ৫ মেগাবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করছে -যা জাপানের একজনের ব্যবহারের ১০০ ভাগের এক ভাগ - সেই ডাটা'টাই এদের ৯৯.৯৯%ও জানে না। ল্যাপটপ, ইন্টারনেট, ব্যান্ডউইথ, তথ্যপ্রযুক্তি, থ্রিজি, ইকমার্স, পেপল এইগুলো সম্পর্কে টোটাল লাইফে ৫ মিনিট ৫% পপুলেশন শুনছে কিনা সন্দেহ (?) এ বিষয়ে যদি এদের সামান্য সচেতনও থাকতো তাহলে - ঢাবি ছাত্রছাত্রী সম্পর্কে যতদূর জানি - সরকার বাংলাদেশের ইন্টারনেট, সাবমেরিন ক্যাবল, ব্যান্ডউইথ, থ্রীজি, ওয়াইম্যাক্স, তরঙ্গ, স্পেকটার্ম, ইন্টারনেট ব্যাংকিং সহ তথ্যপ্রযুক্তির মেরুদন্ডের প্রতিটি কশেরুকাকে যে হরিবল কন্ডিশনে রেখেছে তা দেখে এরা প্রতিদিন ক্যাম্পাসে একটা করে গাড়ি ভাংতো। সপ্তাহে একদিন গাড়ি ভাঙ্গা ডে পালন করতো। বিটিআরসি, সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানী, টেশিস, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয় প্রতি তিনমাসে একবার করে ভাঙ্গতো। আবার রিপেয়ার করতো, আবার ভাঙ্গতো। এই রকম নিদারুন অবস্থায় যে'ই ল্যাপটপটি নিয়ে থাকুক না কেন এটা তার কোন কাজে আসবে না, সর্বোচ্চ ১০-১৫ হাজার টাকায় মেশিনটা বিক্রি করে ফুর্তী করবে। ঐ দিকে বেচারা জাপানীজের জীবনের সবকিছু ঐ ল্যাপটপে। ওরা তো আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সর্বোচ্চ মেধাবী ছাত্র বা শিক্ষকের মতও ল্যাপটপে সর্বোচ্চ কিছু ছবি, ভিডিও, গান, ওয়ার্ড ডকুমেন্ট নিয়ে ঘুরে না। ঐ ল্যাপটপে ওদের লাইফ, অর্থনীতি, শিক্ষা, চাকরি, পরিবার সব ঢুকে গেছে। যেই দেশে ২০০১ সালে ৩জি হয়ে গেছে, যেখানে একজন সাধারনের গড় নেট গতিও কয়েক শত মেগাবিট, যে দেশে অর্থনীতির ২৫% ট্রান্জেকশন হয় ইলেক্ট্রনিকেললি সেই জাপানের একজন সাধারন নাগরীকের জীবনেও প্রাইভেট ল্যাপটপ'টি কত গুরুত্বপূর্ন তা বোঝা আপনাদের মত ৫ কেবিপিএস এর ইকমার্স বিহীন ইন্টারনেটের দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যা পিঠের সর্বচ্চ ডক্টরেট শিক্ষকের মাথায়ও ঢুকার কথা না, এ্যান্টেনাতেই ধরবে না। বিশ্বাস না হলে অধ্যাপক মাসাহিকো তোয়াগাকে গিয়ে বলেন, আপনাকে ১০০ টা ল্যাপটপ কিনে দেব! দেখবেন সে নিবে না। অথচ আপনাদের কাছে পার্সোনাল ল্যাপটপটা সর্বোচ্চ একটা দামি মোবাইল সেট। বেঁচলে ১০হাজার টাকা ক্যাশ এই যা - তার চেয়ে অনেক গুন বেশি নদগেই পাইছেন। শুধু ধরে নেন বেচারা ভিষন বিপদে পরেছে আর আপনারাও বুঝবেন সেই বিশ্বাসে পত্রিকা অফিসে গিয়া টাকা দিয়া নিউজ লেখাইছে। একটু দয়া করেন। দয়া কইরা মেশিনটা প্রথমআলোর অফিসে দিয়ে আসেন, বা ব্যবস্থা করেন। ডিজিটাল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথ প্রদর্শনের অংশ হিসাবে এই সামান্য কাজটা করেন। আজ না হয় ম্যানুয়াললীই প্রমান করে দেন ডিজিটাল বাংলাদেশে ল্যাপটপ চুরি হয় না। জাতিকে কৃতজ্ঞ করেন।

প্রয়োজনে হলে হলে হলে জাপানি ল্যাপটপ সার্চ কমিটি করে খোজ নেন - একই সাথে তথ্যপ্রযুক্তির সচেতনতা নিয়ে কাজ করেন। যেখানে যে হলে ছাত্রলীগের যেই বহিরাগত আছে তাদের আগে সন্দেহ করেন, ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মিকে সন্দেহের চোখে দেখেন। আপনার আশেপাশে কে কে কাল টিএসসি গেছিল আলোচনা করেন। হলে, ক্যামপাসে, টিএসসির দেয়ালে দেয়ালে পোষ্টারিং করেন। চোর ধরা লক্ষ্য না এই জাপানি মেশিন'টা বের করে বিশ্বে নজির স্থাপন করেন। জাতিকে একটা ম্যাসেজ দেন।

একটি হাইপার হিট এওয়ারনেস কেম্পেইন প্রকাশনা। প্রচারে -Wireless Bangladesh Warriors -WBW (উুবু)
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১১ দুপুর ১:৫৯
৩৮টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×