আরে পুরাই ৪৯, অন করলাম, দেখলাম তিন চারটা বারি মেরে চললো।এরপর দেখি অটো চলতেছে।কার্সার একবার দৌড় মারতাছে এই কোনায়, আবার যায় ঐ কোনায়। এই সিলেক্ট করতেছে, এই উইনডো ছুটাছুটি করতেছে, সে এক মাথা খারাপ অবস্থা।ডেরহি মুরগীর মত কার্সার ধরা'ই যাইতেছে না।একটু পরে অবার অটো সাটডাউন মারতাছে।না রিস্টার্ট না, ফুল সাট ডাউন, বোঝেন অবস্থা।কতক্ষন পরে আবার ছারি। দশ মিনিট পর দেখায় ব্যাটারী লো, ১৫%, আবার দেখি এক মিনিট যাইতে না যাইতেই বন্ধ, ডেড।আমি হয়রান।
আজ আমি দোয়েল বেসিক মডেলের একটি মেশিন খুবই সাধারন একজন মানুষের মত এক ভেন্ডরের মাধ্যমে প্রকিউর করলাম।দাম নিবে ১৭৫০০/= টাকা, মার্কেট প্রাইস নাকি ১৫৫০০/=, সাপলাই সর্ট বলে ২০০০/= টাকা বেশি। অবশ্য নেটে দেখলাম বেসিকের প্রাইস ১৩৫০০/=, এবার বোঝেন সমগ্র অবস্থাটি।ভারত ২০০৮ সালেই ৫০০০/= টাকার ল্যাপটপ তৈরী করেছিল।বর্তমানে ভারতে ৩৫০০/= টাকায় ট্যাবলেট পাওয়া যায়। দেশটারে ডিজিটাল বাংলাদেশ বানাইতে পানির দামে সর্বজনীন ব্রডব্যান্ডের ২য় যেই বস্তু লাগবো তাহলো এরকম টেকসই অর্থে কামাড়ের দোকানে বানানো একটা ল্যাপটপ।কারন এই জিনিষ ডিজিটাল বাংলাদেশের নাইল্লাকাডা ফার্স্ট জেনারেশনের ইউজাররা হাটে, মাঠে, ঘাটে ইউজ করবো।যার দাম পড়বে দশ না আরও কম টাকা।
এরকম মেশিনের ধারন প্রথম এসেছে জাতিসংঙ্ঘের, পার স্টুডেন্ট ওয়ান ল্যাটপ থেকে।ভারত ২০০৮ সালেই তার দেশের সস্তা ল্যাপটপ করে ফেলেছে।অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ লাইসেন্স দিয়ে ৫০০০ রুপিতে।থাইল্যান্ড করেছে, আফ্রিকার কয়েকটি দেশও করেছে সস্তার ল্যাপটপ।ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড সব দেশই এরকম কম দামের ল্যাপটপ বানিয়ে ফেলেছে ২০০৯ সালের মধ্যেই।একই লক্ষ্য সামনে রেখে অনেক হট্টোগোল, তামাশা করে গত তিন বছরে দেশের তৈরি প্রথম ল্যাপটপ, দোয়েল নামে এটাকি কাউয়া বানাইলাম ? দেশের মানুষরে কি আন্ধা পাইলো নাকি ? এরই মধ্যে এক মেধাবী ভাই দোয়েলের ২৬ হাজার টাকার মডেলটি হুবুহু অনুকরনের চেয়েও ভালো কনফিগারেশনের মেশিন চীন বানিয়ে ১৫ হাজার টাকায় করে ৩০০ পিস ৪টা বড় ল্যাগেজে ইমপোর্ট করছে।
আচ্ছা কোন দেশ সবচেয়ে কমদামে বানাতে পারবে, বাংলাদেশ, ভারত না চীন ? বাংলাদেশ ডিসকোয়ালীফাই, আপনার কি মনে হয় এই জিনিষ বাংলাদেশ বানাইছে ? তা কোন ভাবে সম্ভবও না বা প্রয়োজনও নেই, যেখানে চীনে অলস বসে থাকা কোন ফ্যাক্ট্রিতে যেকোন মডেল, যেভাবে, যেভাবে খুশি চেয়ে বানিয়ে ক্যারিং সহ ভারতের চেয়ে কম দামে সাপ্লাই দিতে পারবে যত লাখ চান যত দিনে।এখন আপনি তো আর ইডিয়ট না যে নিজে ফ্যাকটরি সেটআপ দিয়ে ৫ হাজার টাকার জিনিষ ১০ হাজার টাকা খরচ করে বানাবেন। দোয়েলের প্রস্তুত কারক দাবিদার টেশিসও বোকা না, সেও কিছু বানায় নাই।
সরকার দোয়েলকে ল্যাপটপ বলে ঘোষণা দিয়ে, এটা দেশীয় পণ্য বলেও, দোয়েলের হার্ডডিস্ক, মনিটর, মাদারবোর্ড, র্যাম কি বাংলাদেশে তৈরি? ভায়া আর ইন্টেল কি আমাদের দোয়েলের জন্য প্রসেসর তৈরি করেছে ? যে পণ্য তৈরিতে ৯৫ শতাংশ যন্ত্রাংশ আমরা বাইরে থেকে কিনে এনে সংযোজন করছি সেই পণ্যটিকে আমরা কী দেশীয় পণ্য বলব নাকি অ্যাসেম্বল ইন বাংলাদেশ বলব। যদি আইডিবির কোন দোকানকে এই রকম ল্যাপটপ সংযোজনের লাইসেন্স দেয়া হতো আর কোন ট্যাক্স কাস্টমস না দিতে হতো তাহলে তারা সর্বচ্চ ৬ মাসে এরচেয়ে অনেক কম দামে ল্যাপটপ তৈরী করে অনেক আগেই মার্কেট ছেয়ে ফেলতে পারতো।অথচ সকল সরকারী সুযোগ সুবিধা বিনিয়োগ নিয়েও টেশিস একি পাগলা ল্যাপটপ বানাইলো ? আর চেহারা সাইজ ফিনিশিং দেখে আমার পুলায় কয়, আব্বা, খেলনা ল্যাপটপ লইয়া কই যাও ?
স্মৃতীঃ দোয়েল ল্যাপটপের কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশী মোবাইল অপারেটর টেলিটকের কথা মনে পড়ে গেল। সাধের টেলিটক পাওয়ার জন্য সেদিন বিকেলেই লাইনে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন আমজাদ পারভেজ। সারা রাত জেগে থেকে পরদিন সকাল গড়িয়ে দুপুর হলে জানলেন টেলিটকের সিমকার্ড আর বিক্রি হচ্ছে না। মনে প্রচণ্ড কষ্ট নিয়ে বাসায় ফিরে গেলেন। কিছু দিন পর এলো অনলাইনে আবেদনের পদ্ধতি, যথারীতি আবেদনও করলেন। স্থায়ী ঠিকানা ঝিনাইদহ হওয়ার সুবাদে ডাক পড়ল পনেরো দিন পর। তাকে ঝিনইদহ শহরে গিয়ে ব্যাংকে নির্ধারিত তিন হাজার টাকা জমা দিয়ে সিমকার্ডটি সংগ্রহ করতে হবে, যখন অন্যান্য অপারেটরের সিমের মার্কেটে ২০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় মুদির দোকানেও বিক্রি হচ্ছে। পারভেজ অফিসে ছুটির জন্য দরখাস্ত করে তিন দিনের ছুটি নিয়ে বহু কষ্টে বাসের টিকিট কেটে মহা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সিমকার্ডটি যখন হাতে পেলেন তখন তার আনন্দ আর ধরে না, যেন আলাদীনের প্রদীপটি পেলেন। সিমকার্ডটি ঢাকায় এনে যখন অ্যাকটিভ করলেন তখন দেখেন নেটওয়ার্ক নেই, ছাদের ওপর গিয়ে নেটওয়ার্ক পেলেন না। যখন কল করা শুরু করলেন তখন শুরু হলো সবচেয়ে বড় বিস্ময়ের পালা, দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো ফোনে সংযোগ করতে পারলেন না, পারভেজের সব স্বপ্ন ফিকে হয়ে যেতে লাগল। টেলিটক আজো তার নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে পারেনি, এখনো টেলিটক থেকে বা টেলিটকে একটা ফোন করতে গেলে বহুবার চেষ্টা করতে হয়। আর এত দিনে টেলিটকের প্রতি মানুষের আগ্রহ নেমে গেছে হিমাঙ্কের নিচে। আজ যেখানে দেশে মোট মোবাইল সংযোগ ৮ কোটির উপরে সেখানে টেলিটকের সংযোগ ৭ লাখের কিছু উপরে।এত কিছুর পরও গত তিন বছরে ২.৫ শতাংশ সুদে চীন থেকে ১৫০০ কোটি টাকা ঋন নিয়ে বিনিয়োগ করা হয়েছে আর প্রতিদিন ইউজার আরও কমছে।আবার বলা হচ্ছে আগামী বছর শুধু টেলিটককে থ্রীজি অনুমোদন দেয়া হবে ও আরও নতুন বিনিয়োগ করা হবে যতদিন না এর ব্যবহারকারী শূন্যতে নেমে আসবে।
লেখাটি সূত্র ছাড়া কপিপেস্ট মাইরা ১০০০ জায়গার পুষ্টানির লক্ষ্য আছে, একটু সহযোগীতা করবেন কি ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

