somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজ নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ পুলিশ সদস্য নিহত - দিবস

১৫ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ৯:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত বছর এই দিন, ১৫ জানুয়ারী নরসিংদীতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ওসি, এক এএসআইসহ ১০ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।ভোরবেলা শিবপুর উপজেলার ঘাসিরদিয়া এলাকায় পুলিশের পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী মাছবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে।এতে ঘটনাস্থলেই চারজন এবং নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নেয়ার পর আরও পাঁচজন মারা যান। এছাড়া প্রিয়তোষ (৫০) নামে আরেকজন পুলিশ সদস্যকে ঢাকায় সিএমএইচ হাসপাতালে পাঠানোর পর মারা জান।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঐ দিন ভোরে নরসিংদী পৌরসভার নির্বাচন উপলক্ষে পুলিশ লাইনে ব্রিফিং প্যারেডে যোগদান করার জন্য বেলাব থানার ওসি ফারুক আহমেদের নেতৃত্বে ১০ জন পুলিশের একটি দল সরকারি পিকআপ ভ্যানে নম্বর (নরসিংদী ম-০২-০০১২) নরসিংদী আসার পথে শিবপুর উপজেলার ঘাসিরদিয়া এলাকায় পৌঁছলে যশোর থেকে সিলেটগামী চিংড়ি মাছভর্তি একটি ট্রাক (যশোর ট-২৩৫২)-এর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।

*(এই ঘটনায় ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।মন্ত্রী এক শোকবার্তায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।)

এর পর কি সড়ক দুরঘটনা কমেছে ? না কমেনি! ঐ দুর্ঘটনার স্থানেই একই বছরে আরেক সড়ক দূর্ঘটনায় ১৪ জন মারা গেছে। প্রতিদিন ৮-১০ জন নিহতের খবর আজকাল কোন খবরই না।আরেক জরিপে দেখা যায় সড়ক দুর্ঘটনার ১০% খবর সংবাদ বা মিডিয়ায় আসে আর ৯০% কোন মিডিয়ায় নিউজই হয় না।এমনকি বাড়ির সামনে রাস্তায় নেমে আবার নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবে এই নিশ্চয়তা আজ একজন মুজুরের ছেলে যেমন দিতে পারেনা, একজন মন্ত্রীর ছেলেও পারে না।শুধু অসহায়ের মত নামিদামী কেউ নিহত হলে একটু মিডিয়া গরম করি।পুলিশ সদস্য হলে নহতের পরিবারকে ৮-১০ লাখ টাকা আর গরীব কাউকে গাড়ি চাপা দিয়ে রাস্তায় ফেলে গেলে কেউ হয়তো ফিরেও দেখি না।

ইদানীং সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে গবেষনা করছে না এমন কাউকে পাওয়া সত্যি অসম্ভব হবে।বুয়েটের বৃদ্ধ ঈঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে বৃদ্ধ সম্পাদকের খবরের কাগজে সড়ক দুর্ঘটনার বিশেষ রেগুলার পাতা, টেলিভিশনে টকশো থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল বৃদ্ধ প্রতিজন নিজ নিজ গবেষনা প্রসূত আউটপুট দিচ্ছেন নানা ভাবে।অথচ এত বড়বড় মষ্তষ্কের একটার মাথাতেও আসতেছে না।আর সড়ক দুর্ঘটা কমার কোন লক্ষন যো নাই'ই বরং পুনপুনিক ভাবে বেড়েই চলথে।তাহলে কি এই বৃদ্ধ প্রজন্ম আসল ঘটনাটা ধরতেই পারছে না ? নাকি বুঝেও নিজেদের স্বার্থে মুখ বন্ধ ? আমাদের আলোচনায় সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারন এযাবৎ যাযা পাই তা হলো মূর্খ ড্রাইভার, ভাঙ্গাচোরা রাস্তা, ফিটনেস বিহীন গাড়ি পর্যন্তই।

ড্রাইভার অশিক্ষিত ? এইটা একেবারে মানলাম না! আগের দিনে ড্রাইভার কি ছিল, তা আমরা জানি।আর আপনি বলতে চাচ্ছেন আগের দিনের পুলাপান আজকের পুলাপানের চেয়ে বেশি শিক্ষিত ছিল ? কি বলেন, দ্যাশ সম্পর্কে কোন ধারনা নাই, নাকি ? তখন তো দেশে ইস্কুই ছিল না।আজকাল তো তবু ফাইভ পাশটা কনফার্ম। একদশক আগেও দেশের প্রাইমারী এ্যারোলমেন্ট পঞ্চাশ শতাংশের নিচে ছিল।আজ সম্ভবত ৯৯%, ডাটা দিয়ে কথা বলবেন। ড্রাইভার অশিক্ষিত বলার আগে নিজের শিক্ষার দিকে নজর দিবেন।

বলবেন রাস্তাঘাট খারাপ ? মাথা খারাপ নাকি ! বাংলাদেশ সড়ক ব্যবস্থা সম্পর্কে আপনার কোন ধারনা আছে ? কত বছর যাবৎ চেনেন এদেশের রাস্তাঘাট ? বর্তমানের চেয়ে পরিমানে ও গুনে বেশি বা ভালো রাস্তা বাংলাদেশে আগে কখনও ছিল যারা বলে তাদের সারা জীবনে হয়তো বাংলাদেশে কয়েকশ কিলোমিটার রাস্তায় চড়া বা ড্রাইভ করার অভিজ্ঞতা আছে।

ফিটনেস ? বর্তমানের চেয়ে ফিট গাড়ি বাংলার রাস্তার অভিজ্ঞতায় নেই।আমরা অতীতে এমনও গাড়ি দেখেছি, ড্রাইভার গাড়ি চালাচ্ছে, গাড়ির কলকব্জা খুলে খুল পরছে আর হেল্পার সেগুলো কুড়িয়ে কুড়িয়ে গাড়ির পেছনে দৌড়াচ্ছে।

আসল কারনটা হচ্ছে রাস্তায় গাড়ি মানুষ দুই'ই বেড়ে গেছে অনেক অনেক গুন বেশি।সে কি যেমন তেমন বেশি ! আগে রাস্তায় গাড়ি চালাতে গিয়ে একজন গাড়ি চালককে পাঁচ দশ কিলোমিটার পর হয়তো একটা গাড়ি সাইট দিতে বা মুখমুখি ক্রসিং করতে হতো।আর আজ দেশের যেকোন রাস্তায় একজন ড্রাইভারকে প্রতিমিনিটে ছয়টা গাড়ি মুখোমুখি ক্রসিং, চাইরটা গাড়ি সাইড ও দুইটা গাড়ি ওভারট্যাক করতে হয়।প্রতি ৫ সেকেন্ডে একটা।কিছুদিন পর ঢাকা শহরের মত সারাদেশই স্কিন টাইট হয়ে যাবে।তখনও অবশ্য দুর্ঘটনা কমবে।

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চাইলে মোলিকিউল মোবিলাইজেশন কমিয়ে বিট মোবিলাইজেশন বাড়াতে হবে -

চলবে ... দ্বিতীয়পর্বে।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১০:২৭
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×